শেয়ার বাজার

আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

আবারও ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। পেন্টাগন বলছে, সোমবার আটটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ভূগর্ভস্থ একটি গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নজরদারির স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট দিয়ে যাতায়াতকারী ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। 

যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য বলছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার চেষ্টা করছে তারা। পেন্টাগনের জারি করা একটি যৌথ বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য লোহিত সাগরে উত্তেজনা হ্রাস করা এবং স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা। ওই অঞ্চলে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষা করার বিষয়ে আমরা দ্বিধা করব না।

গত ১১ জানুয়ারি হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দুদেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডসের সমর্থনে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইউএসএস আইজেনহাওয়ারের মার্কিন যুদ্ধবিমান সোমবারের হামলায় অংশ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) জানিয়েছে, তাদের জোড়া ভয়েজার ট্যাঙ্কারের সহায়তায় চারটি আরএএফ টাইফুন মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশ নিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ট শ্যাপস হুথিদের অসহনীয় আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা হিসাবে এই হামলাকে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত আল দাইলামি বিমান ঘাঁটি, তাইজ এবং বায়দা প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের-আইসিজে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৪

গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের-আইসিজে

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তবে গাজায় ইসরালের সামরিক অভিযান বন্ধের যে আদেশ দক্ষিণ আফ্রিকা চেয়েছিল, তাতে সায় দেয়নি জাতিসংঘের এ সর্বোচ্চ আদালত।

ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। শুক্রবারের (২৬ জানুয়ারি) এই রায়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে নিশ্চিত করতে হবে যে তার বাহিনী গাজায় আর গণহত্যা চালাবে না ও ‘কথিত’ গণহত্যার প্রমাণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে।

শুক্রবার গাজা উপত্যকায় গণহত্যা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার রুল জারি করেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। এতে গাজায় গণহত্যা বন্ধে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গাজায় ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ আদালত দেননি।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দেওয়া অন্তবর্তীকালীন রায়ে আদালতের প্রেসিডেন্ট মার্কিন বিচারক জে দোঙ্গু বলেন, গাজায় যাতে গণহত্যা না ঘটে সেজন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে নির্দেশ দিচ্ছেন আদালত। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে ইসরায়েলকেই।

রায়ে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দিতে হবে ও গাজার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে হবে। এছাড়া ইসরায়েলকে এক মাসের মধ্যে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো ও গণহত্যা প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আদালতের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আইসিজে তার অন্তবর্তীকালীন রায়ে আরও বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার যে অভিযোগ তুলেছে, সেসব অভিযোগের সঙ্গে কিছু বিষয়ের মিল রয়েছে। এ কারণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এ মামলা চলবে।

আরও পড়ুন: গাজার ক্ষুধার্ত মায়েদের বুকে দুধ নেই, অনাহারে লাখ লাখ শিশু

আইসেজি’র বিচারক জে দোঙ্গু এর আগে বলেছিলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা মামলায় রায় দেওয়ার ক্ষমতা এই আদালতের রয়েছে ও ইসরায়েলের অনুরোধে আমরা এই মামলা খারিজ করে দেবো না।

গাজায় নির্বচারে হামলা ও গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে গত বছরের শেষদিকে আইসিজেতে মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি মাসের শুরুতে আদালতে মামলাটির দুই দিনের শুনানি হয়।

শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়, আদালত যেন জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলকে গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দেন। এছাড়া জেনোসাইড (গণহত্যা) কনভেনশনের আওতায় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের সুরক্ষার বিষয়টিও যাতে নিশ্চিত করা হয়।

দখলদার ইসরায়েল আদালতকে এই মামলা সরাসরি খারিজ করে দিতে বলেছিল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, তারা আশা করছেন, জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত এই মিথ্যা অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করবেন।

কিন্তু আইসিজের এই রায়ে ইসরায়েলের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। উল্টো আইসিজের ১৭ জনের বিচারক প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শুধু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যকলাপ ও পদক্ষেপ দ্রুত বন্ধের আদেশ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা যা চেয়েছিল তার বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে রায়ে। 

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানের ২ নম্বর শর্ত
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেলপ্রতি গুনতে হবে ১ ডলার

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেলপ্রতি গুনতে হবে ১ ডলার


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে তাদের প্রতি ব্যারেলের জন্য ১ ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি দিতে হবে। ইরানের ১০ দফা শর্তের ২ নম্বর দফায় হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পরপরই হরমুজে টোল আদায়ের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’ গঠনের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

মুখপাত্র বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার খরচ হবে এবং জাহাজগুলোকে তারা কী বহন করছে সে তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে হবে।

হোসেইনি বলেন, ই-মেইল পাওয়ার পর এবং ইরান যাচাই শেষ করলে, জাহাজগুলোকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিটকয়েনে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার কারণে তা অনুসরণ বা জব্দ করা না যায়।

তিনি আরও জানান, এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অস্ত্র এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা না হয়।

তিনি বলেন, সব কিছুই যেতে পারবে, তবে প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রক্রিয়াটি সময় নেবে এবং ইরান তাড়াহুড়ো করছে না।

এদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) ট্রাম্প বলেন, র বিষয়টি বিবেচনা করছে। তিনি এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্লকে বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে করার কথা ভাবছি। এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উপায় এবং অন্যদের থেকেও সুরক্ষা দেবে। এটি একটি ভালো বিষয়।’

হরমুজ প্রণালি ইরানের উপকূলের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি কার্যত বন্ধ। ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে। কারণ আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করবেন বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই তেলের দাম কমতে শুরু করে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরান বৃহস্পতি বা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সীমিতভাবে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে প্রণালিটি খুলে দিতে পারে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে যে তারা টোল আদায় করবে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করবে।


ড্রোন হামলার চরম মূল্য দিতে হবে: নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৪

ড্রোন হামলার চরম মূল্য দিতে হবে: নেতানিয়াহু

উত্তর ইসরায়েলের সিজারিয়া শহরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলার কয়েক ঘন্টা পর এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে হত্যা করার জন্য ইরানের প্রতিনিধি হিজবুল্লাহর প্রচেষ্টা একটি বড় ধরনের ভুল ছিল।

তিনি বলেন, ইরান এবং তাদের প্রতিনিধি এবং তাদের মিত্রদের কেউ ইসরায়েলের কোনো নাগরিকের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তাকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

নেতানিয়াহুকে হত্যারচেষ্টায় চালানো ওই হামলার ঘটনায় ইরানকেই দায়ী করছে ইসরায়েল। এই হামলার কঠিন  জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তেল আবিবের সিজারিয়ায় অবস্থিত তার বাসভবনে এই হামলা চালানো হয়। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত তার বাসভবনে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।

তবে ওই হামলার সময় নেতানিয়াহু বা তার পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলার ঘটনায় কেউ হতাহতও হয়নি।

এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, লেবানন থেকে একটি ড্রোন ইসরায়েলের কেন্দ্রে একটি ভবনে আঘাত হেনেছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সিজারিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে একটি ইউএভি (মানবহীন আকাশযান) আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার লেবানন থেকে তিনটি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন।