শেয়ার বাজার

গোয়াইনঘাটে
১১ মামলার আসামি ‘ডাকাত কামরুলের আতঙ্কের রাজত্ব!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

১১ মামলার আসামি ‘ডাকাত কামরুলের আতঙ্কের রাজত্ব!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির দাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সতী গ্রামের বাসিন্দা কামরুল দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কামরুলের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় ডাকাতির ৬টি, ছিনতাইয়ের ১টি এবং চুরির ৪টি মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ফের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই কামরুলের কথিত দাপট আরও বেড়েছে। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, কামরুলের কর্মকাণ্ডে লেঙ্গুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ, বিশেষ করে রাতের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় আরও বড় ধরনের অপরাধের আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তি জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা জরুরি। তারা কামরুলের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামরুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো নতুন মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জে
৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক :সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বেড়েরগাঁও এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই র‌্যাব মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও এলাকার একটি বসতবাড়িতে বিদেশি মদ মজুদ করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে র‌্যাবের দলটি ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ঘরের খাটিয়ার নিচে রাখা দুটি কালো পলিথিন ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও গ্রামের মো. এরশাদ আলী (৪২)। তিনি জালাল উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলী র‌্যাবকে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাকে বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

- চারবছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সর্কে চাচা। সোমবার রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা ণিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।

সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।


র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯-এর অভিযানে গোলাপগঞ্জে ৬ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯-এর অভিযানে গোলাপগঞ্জে ৬ বোতল বিদেশি মদসহ আটক ২

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ৬ বোতল বিদেশি মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হেতিমগঞ্জ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব-৯ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সিএনজিযোগে তামাবিল স্থলবন্দর এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে গোলাপগঞ্জের দিকে আসছে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে হেতিমগঞ্জের শাহপরান সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন বাইপাস মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল।

চেকপোস্টে একটি সিএনজিকে থামানোর সংকেত দিলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে সিএনজিসহ দুইজনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সিএনজিতে বিদেশি মদ থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেখানো মতে একটি কার্টনের ভেতর থেকে ৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—শেখ মো. তোফায়েল আহমেদ (২৬), পিতা: মো. রাজু মিয়া, সাং: দুশাসন, থানা: শায়েস্তাগঞ্জ, জেলা: হবিগঞ্জ এবং মো. গোলাম রব্বানী (৩০), পিতা: মৃত হোসেন মিয়া, সাং: বেলুপাড়া, থানা: জৈন্তাপুর, জেলা: সিলেট।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৯ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।