গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক উন্নতি ও সঠিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নার্সারি ব্যবসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কৃষি ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কৃষিনীতি গ্রহণ করার ফলে কৃষি ক্রমশই গুরুত্ব পাচ্ছে এবং কৃষি সম্পর্কে পুরনো ধ্যান ধারণারও অনেকটা পরিবর্তন হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার সামান্য শ্রম ও অর্থের বিনিময়ে এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা নিজেদের পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দিয়ে অন্যদেরকেও স্বাবলম্বি করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন আমাদের দেশের জলবায়ু বিভিন্ন ধরনের চারা তৈরির জন্য অনুকূল। এ ব্যাপারে কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমাদের দেশের শিক্ষিত যুবক- যুবতীরা প্রয়োজনে বন বিভাগ এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগীতা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। উৎসাহী যুবক-যুবতীরা এ ব্যাপারে সরাসরি কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
নার্সারিতে সাধারণ ভাবে দু'ধরনের চারা উৎপাদন করা হয়। যেমন-ফল ও ফুল গাছের চারা এবং কাঠ জাতীয় গাছের চারা। নার্সারি ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এ ব্যবসা আরম্ভ করতে হলে উৎপাদকের বিশেষ কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। সাধারণ ভাবে চারা তৈরির জন্য কোনও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকদিন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিলেই হয়, তবে টিসু কালচারের মাধ্যমে উন্নত উচ্চফলনশীল চারা তৈরি করতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। উন্নত প্রযুক্তি বাদ দিলে সহজেই কাটিং, চোখ কলম, দাবা কলম, গুটি কলম প্রভৃতির মাধ্যমে ফল ও ফুলের চারা এবং বীজ থেকে কাঠ জাতীয় গাছের চারা তৈরি করা সম্ভব। আশার কথা ইদানিং অনেক অশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত বেকার যুবক- যুবতীরাও নার্সারী ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন কিন্তু সে সংখ্যা নগন্য। তারা দেশের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে চারা ক্রয় করে এনে নাসারী গড়ে তুলছেন কিন্তু এতে গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পুরাপুরি সক্ষম হচ্ছেন না। চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত এক নাসরিীর মালিক জানালেন সাধারণ ভাবে লেবু, লিচু, নারকেল, সুপারি, কমলা প্রভৃতি ফলের চারার চাহিদা বেশি। এছাড়া নানা ধরনের সৌখিন পাতাবাহার ও ফুল গাছের চাহিদাও আছে বাজারে। তিনি বললেন লেবু, লিচু, সুপারি প্রভৃতি ফলের চারা উৎপাদন সহজেই সম্ভব কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল আম, পেয়ারা, সফেদা, নারকেল বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা তৈরি করতে বেশ জটিলতা আছে। এক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে বাজার আছে, চাহিদাও অনেক কিন্তু উৎপাদন তেমন হচ্ছে না।
কথায় কথায় ঝিনাইদহের চারা উৎপাদনকারী জনৈক আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, বাহারি গাছের মধ্যে এরিকাপাস, চায়নাপাস, এরকেরিয়া, টপিক সোনা সহ বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার গাছ ও ইন্ডোর প্ল্যান্টের চাহিদাও এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফুলের চাষের প্রবণতা বেড়েছে। তাই এদিকেও লক্ষ্য রেখে চারা উৎপাদন করা উচিত। ফল ও ফুলের সঙ্গে কিছু বারো মাসের সজির চাহিদা থাকায় এসবেরও চারা উৎপাদন প্রয়োজন। উচ্চফলনশীল ফল ও ফুলের চারা তৈরি করতে নার্সারী মালিকদের বিশেষ অসুবিধার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কারণ নির্দিষ্ট কোনও সংস্থা নেই যেখান থেকে চারার জন্য উচ্চমানের বীজ পাওয়া যায়। এদিকে উন্নত উদ্যান শস্যের উন্নতির জন্য চাই ভালো চারা এবং ভালো চারা পেতে হলে নার্সারি ফার্মের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বনবিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আই ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে অনেক শিক্ষিত/ অশিক্ষিত বেকার যুবক/ যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, এতে দেশও জাতি উপকৃত হবে। সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরষ্কার (১ম স্বর্ণপদক) প্রাপ্ত।








