শেয়ার বাজার

নার্সারী ব্যবসায় রয়েছে কর্ম সংস্থানের সুযোগ --আফতাব চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নার্সারী ব্যবসায় রয়েছে কর্ম সংস্থানের সুযোগ --আফতাব চৌধুরী

 গ্রাম বাংলার অর্থনৈতিক উন্নতি ও সঠিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নার্সারি ব্যবসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। কৃষি ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে কৃষিনীতি গ্রহণ করার ফলে কৃষি ক্রমশই গুরুত্ব পাচ্ছে এবং কৃষি সম্পর্কে পুরনো ধ্যান ধারণারও অনেকটা পরিবর্তন হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার সামান্য শ্রম ও অর্থের বিনিময়ে এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা নিজেদের পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতা দিয়ে অন্যদেরকেও স্বাবলম্বি করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন আমাদের দেশের জলবায়ু বিভিন্ন ধরনের চারা তৈরির জন্য অনুকূল। এ ব্যাপারে কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমাদের দেশের শিক্ষিত যুবক- যুবতীরা প্রয়োজনে বন বিভাগ এবং কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগীতা গ্রহণ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং যুবউন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। উৎসাহী যুবক-যুবতীরা এ ব্যাপারে সরাসরি কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ বা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

নার্সারিতে সাধারণ ভাবে দু'ধরনের চারা উৎপাদন করা হয়। যেমন-ফল ও ফুল গাছের চারা এবং কাঠ জাতীয় গাছের চারা। নার্সারি ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এ ব্যবসা আরম্ভ করতে হলে উৎপাদকের বিশেষ কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। সাধারণ ভাবে চারা তৈরির জন্য কোনও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকদিন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিলেই হয়, তবে টিসু কালচারের মাধ্যমে উন্নত উচ্চফলনশীল চারা তৈরি করতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। উন্নত প্রযুক্তি বাদ দিলে সহজেই কাটিং, চোখ কলম, দাবা কলম, গুটি কলম প্রভৃতির মাধ্যমে ফল ও ফুলের চারা এবং বীজ থেকে কাঠ জাতীয় গাছের চারা তৈরি করা সম্ভব। আশার কথা ইদানিং অনেক অশিক্ষিত এমনকি শিক্ষিত বেকার যুবক- যুবতীরাও নার্সারী ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন কিন্তু সে সংখ্যা নগন্য। তারা দেশের বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্র থেকে চারা ক্রয় করে এনে নাসারী গড়ে তুলছেন কিন্তু এতে গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পুরাপুরি সক্ষম হচ্ছেন না। চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত এক নাসরিীর মালিক জানালেন সাধারণ ভাবে লেবু, লিচু, নারকেল, সুপারি, কমলা প্রভৃতি ফলের চারার চাহিদা বেশি। এছাড়া নানা ধরনের সৌখিন পাতাবাহার ও ফুল গাছের চাহিদাও আছে বাজারে। তিনি বললেন লেবু, লিচু, সুপারি প্রভৃতি ফলের চারা উৎপাদন সহজেই সম্ভব কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে উচ্চফলনশীল আম, পেয়ারা, সফেদা, নারকেল বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চারা তৈরি করতে বেশ জটিলতা আছে। এক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে বাজার আছে, চাহিদাও অনেক কিন্তু উৎপাদন তেমন হচ্ছে না।
 

কথায় কথায় ঝিনাইদহের চারা উৎপাদনকারী জনৈক আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, বাহারি গাছের মধ্যে এরিকাপাস, চায়নাপাস, এরকেরিয়া, টপিক সোনা সহ বিভিন্ন ধরনের পাতাবাহার গাছ ও ইন্ডোর প্ল্যান্টের চাহিদাও এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফুলের চাষের প্রবণতা বেড়েছে। তাই এদিকেও লক্ষ্য রেখে চারা উৎপাদন করা উচিত। ফল ও ফুলের সঙ্গে কিছু বারো মাসের সজির চাহিদা থাকায় এসবেরও চারা উৎপাদন প্রয়োজন। উচ্চফলনশীল ফল ও ফুলের চারা তৈরি করতে নার্সারী মালিকদের বিশেষ অসুবিধার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কারণ নির্দিষ্ট কোনও সংস্থা নেই যেখান থেকে চারার জন্য উচ্চমানের বীজ পাওয়া যায়। এদিকে উন্নত উদ্যান শস্যের উন্নতির জন্য চাই ভালো চারা এবং ভালো চারা পেতে হলে নার্সারি ফার্মের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বনবিভাগ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আই ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলে অনেক শিক্ষিত/ অশিক্ষিত বেকার যুবক/ যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, এতে দেশও জাতি উপকৃত হবে। সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরষ্কার (১ম স্বর্ণপদক) প্রাপ্ত।

উন্নয়নে সিসিকের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলো অনেক পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

উন্নয়নে সিসিকের সম্প্রসারিত  ওয়ার্ডগুলো অনেক পিছিয়ে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও পিছিয়ে রয়েছে। কর্পোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ করা হলেও এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম অতীতে সেভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) বিকেলে সিসিকের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বড় শাহপুর যুবকল্যাণ সংস্থার কার্যালয় উদ্বোধন এবং বৃহত্তর শাহপুর গ্রামবাসী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “পুরোনো ওয়ার্ডগুলোর মতো নাগরিক সুবিধা পাওয়া সম্প্রসারিত ওয়ার্ডের মানুষেরও অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। সীমিত সামর্থ্য ও সম্পদের মধ্যেও এসব এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, সড়ক আলোকায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৯৬ সাল থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়ায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমি জানি এসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কতটা ছিল। একসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতটাই অনুন্নত ছিল যে, শহরে এসে মানুষকে রাতে থেকে যেতে হতো। ২০০১ সালে মরহুম এম সাইফুর রহমান এসব এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি।”
শাহপুর এলাকাবাসীর বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, “এলাকাবাসীর চাহিদা ও প্রয়োজন বিবেচনায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। জনগণের কল্যাণ করাই সিটি কর্পোরেশনের মূল দায়িত্ব। তাই নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নগরবাসীর জন্য কাজ করে যাব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদ আহমদ, বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদির সমছু, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ হোসেন সুমন এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি আবুল হাসনাত। বৃহত্তর শাহপুর গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জালাল উদ্দিন আল কাদরী।