শেয়ার বাজার

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

অবশেষে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরিভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলো। সোমবার (২৫ মার্চ) পাস হওয়া এই প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হামাসের হাত থাকা জিম্মিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির শর্ত রাখা হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রস্তাবে  ভোটদানে বিরত ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়।

এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাব অবশ্যই বাস্তবায়ন হতে হবে। যদি কোনো পক্ষ এই যুদ্ধবিরতি ও এর শর্তগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা হবে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল।

এর আগে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে প্রস্তাবটি পাস হয়নি। সেদিন মস্কোর অভিযোগ ছিল, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ইসরায়েলের ওপর কোনো চাপ তৈরি করছে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১১ দেশ। বিপক্ষে দেয় তিন দেশ। আর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে একটি দেশ।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছিলেন, এই খসড়াটি অত্যন্ত রাজনীতিকরণ করা হয়েছে ও এতে রাফায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কার্যকর সবুজ সংকেত রয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে বানার্ড আর্নল্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ, শীর্ষে বানার্ড আর্নল্ট

পুরো বিশ্বে যখন কিনা অর্থনৈতিক সংকট চলছে, সেই সময়ও ধনী ব্যক্তিরা আরও ধনী হচ্ছেন। সম্প্রতি ২০২৪ সালের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বস। দেখা গেছে―চলমান বিশ্বে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করেও গতবারের তুলনায় সম্পদ বেড়েছে অনেক ধনীদের।

বিলিওনিয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেয়া দুই-তৃতীয়াংশ ধনীদের সম্পদমূল্য গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, আর কমেছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যক্তিদের সম্পদমূল্য। এছাড়া শীর্ষ ২০ ধনীর সম্পদমূল্য অনেক বেশিই বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে তাদের সম্পদমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ হাজার কোটি ডলার।

ফোর্বসের প্রকাশ করা তালিকায় এবার শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্সের বানার্ড আর্নল্ট ও তার পরিবার। তার সর্বমোট সম্পদমূল্য ২৩৩ বিলিয়ন ডলার। ৭৫ বছর বয়সী বার্নাড হচ্ছেন লুই ভুইতোঁ ও সেফোরাসহ বিশ্বের ৭৫টি নামিদামি ফ্যাশন ও কসমেটিক্স ব্র্যান্ডের মালিক।

এরপর দ্বিতীয়তে রয়েছেন নাগরিক টেসলা ও স্পেস এক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। ৫২ বছর বয়সী এই ব্যক্তির সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৫ বিলিয়ন ডলার।

তৃতীয়তে রয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। গত বছরের তুলনায় এবার তার সম্পদমূল্য বেড়েছে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার। তার মোট সম্পদমূল্য ১৯৪ বিলিয়ন ডলার।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তির গতবার সম্পদমূল্য ছিল ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৭ বিলিয়ন ডলার।

তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন বিশ্বের আলোচিত বিলিওনিয়ার মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এবার তার সম্পদমূল্য বেড়ে ১২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ১১৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তালিকার ৯ম-এ অবস্থান করছেন।

এবার বিশ্বের বিলিওনিয়ারদের নিয়ে প্রকাশ করা এই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১৪১ জনের বেশি ধনী ব্যক্তি। সবমিলে এখন বিশ্বে বিলিওনিয়ার রয়েছেন ২ হাজার ৭৮১ জন।


ইরানের ২ নম্বর শর্ত
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেলপ্রতি গুনতে হবে ১ ডলার

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেলপ্রতি গুনতে হবে ১ ডলার


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে তাদের প্রতি ব্যারেলের জন্য ১ ডলারের সমপরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি দিতে হবে। ইরানের ১০ দফা শর্তের ২ নম্বর দফায় হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পরপরই হরমুজে টোল আদায়ের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি ‘যৌথ উদ্যোগ’ গঠনের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেইনির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

মুখপাত্র বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার খরচ হবে এবং জাহাজগুলোকে তারা কী বহন করছে সে তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে হবে।

হোসেইনি বলেন, ই-মেইল পাওয়ার পর এবং ইরান যাচাই শেষ করলে, জাহাজগুলোকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিটকয়েনে অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার কারণে তা অনুসরণ বা জব্দ করা না যায়।

তিনি আরও জানান, এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অস্ত্র এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা না হয়।

তিনি বলেন, সব কিছুই যেতে পারবে, তবে প্রতিটি জাহাজের জন্য প্রক্রিয়াটি সময় নেবে এবং ইরান তাড়াহুড়ো করছে না।

এদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) ট্রাম্প বলেন, র বিষয়টি বিবেচনা করছে। তিনি এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্লকে বলেন, ‘আমরা এটিকে একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে করার কথা ভাবছি। এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উপায় এবং অন্যদের থেকেও সুরক্ষা দেবে। এটি একটি ভালো বিষয়।’

হরমুজ প্রণালি ইরানের উপকূলের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি কার্যত বন্ধ। ফলে তেলের দাম বেড়ে গেছে। কারণ আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করবেন বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এর পরপরই তেলের দাম কমতে শুরু করে।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরান বৃহস্পতি বা শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সীমিতভাবে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে প্রণালিটি খুলে দিতে পারে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান মধ্যস্থতাকারীদের বলেছে যে তারা টোল আদায় করবে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচলের সীমা নির্ধারণ করবে।


পূর্ব ভূমধ্যসাগর এক বছরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণ: জাতিসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

পূর্ব ভূমধ্যসাগর এক বছরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যু বেড়েছে দ্বিগুণ: জাতিসংঘ

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটে প্রাণ হারানো বা নিখোঁজ অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা গত এক বছরে দ্বিগুণ বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৩ সালে অন্তত ৭১০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে এই অভিবাসন রুটে মারা যাওয়া বা নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৪৩ জন। অর্থাৎ, গত বছর সেটি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুট পেরিয়ে ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫৮৪। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ১২ হাজার ৭৫৮ জন।

গত বছর স্থলপথে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালে স্থলপথে প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ২২ জন। ২০২৩ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ১৬০ জন।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইপ্রাস ও গ্রিস। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এই রুটে ইউরোপে পৌঁছাতে চান। তবে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনেকে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে ইতালি পৌঁছানোরও চেষ্টা করেন৷