শেয়ার বাজার

দুই নায়িকার সঙ্গে এক ফ্রেমে শাকিব খান, কী হতে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

দুই নায়িকার সঙ্গে এক ফ্রেমে শাকিব খান, কী হতে যাচ্ছে

বার্তাবেলা: আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে শাকিব খানের নতুন সিনেমা ‘রাজকুমার’–এর শুটিং। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় এসেছেন ছবির নায়িকা কোর্টনি কফি। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় একসঙ্গে দেখা গেল শাকিব ও কোর্টনিকে। শাকিব খানের সঙ্গে এক ফ্রেমে দেখা গেছে ‘প্রিয়তমা’ ছবির নায়িকা ইধিকা পালকেও। দুই নায়িকা নিয়ে আসলে কী হতে যাচ্ছে। মনজুর কাদেরের তোলা ছবিতে গতকালের কিছু মুহূর্ত।

‘প্রিয়তমা’ ছবিতে অভিনয় করে এরই মধ্যে সবার প্রিয়তমা হয়ে উঠেছেন কলকাতার ইধিকা পাল। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে বেড়েছে তাঁর পরিচিতি। ইধিকা কলকাতার গণমাধ্যমেও বলেছেন, ‘এ অনুভূতি আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না। সবাই আমাকে প্রিয়তমা বলে ডাকছে। এমন মনে হচ্ছে, যেন আমিই সবার প্রিয়তমা। বাংলাদেশের সব জায়গায় আমাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে—এই প্রাপ্তি আমার কাছে অমূল্য।’ অন্যদিকে শাকিবের বিপরীতে ‘রাজকুমার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মডেল ও অভিনেত্রী কোর্টনি কফি। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই কোর্টনি কফিকে ঘিরেও চলছে আলোচনা। ভারতীয় অভিনেত্রী ইধিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টনি কফিকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় এক ফ্রেমে শাকিব খানের সঙ্গে পাওয়া গেল।

কদিন আগে ‘দরদ’ ছবির শুটিং সেরে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন শাকিব খান। আসার পর জানা যায়, ১২ ডিসেম্বরে নতুন ছবি ‘রাজকুমার’–এর শুটিং শুরু করবেন তিনি। শুটিং উপলক্ষে ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় এসেছেন ছবির নায়িকা কোর্টনি কফি।

‘রাজকুমার’ ছবির শুটিং শুরুর আগে এক ফ্রেমে বন্দী হলেন ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আরশাদ আদনান, চিত্রনায়িকা কোর্টনি কফি ও চিত্রনায়ক শাকিব খান।

‘রাজকুমার’ ছবির শুটিং শুরুর আগে এক ফ্রেমে বন্দী হলেন ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ভার্সেটাইল মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আরশাদ আদনান, চিত্রনায়িকা কোর্টনি কফি ও চিত্রনায়ক শাকিব খান।


চিত্রনায়ক শাকিব খানের প্রতিষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত অপু বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

চিত্রনায়ক শাকিব খানের প্রতিষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত অপু বিশ্বাস

বার্তাবেলা বিনোদন: আজ থেকে করপোরেট জগতে ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। আজ শনিবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে একেবারে ভিন্ন এক পরিচয়ে হাজির হয়েছেন শাকিব। এবার করপোরেট জগতে যাত্রা শুরু করলেন তিনি। কসমেটিকস উৎপাদনকারী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রিমার্ক–এর পরিচালক হয়েছেন শাকিব খান।

আগে থেকেই শাকিব খানের এ প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত তাঁর সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। এক বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটির দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা রিমার্কের হারল্যান স্টোরের উদ্বোধন করছেন তিনি। বরিশাল, ময়মনসিংহ, ফেনী, সাতক্ষীরা, জামালপুর, কুমিল্লা, ভোলাসহ দেশের আরও কিছু জায়গায় স্টোর উদ্বোধন করেছেন তিনি। গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগরের আবাসিক এলাকায় নিজের বুটিক হাউস ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে একটি হারল্যান স্টোরের মালিকানাও নেন অপু।

অপু বিশ্বাসের ব্যবসায়ী পরিচয়কেও স্বাগত জানিয়েছেন শাকিব খান। এ প্রসঙ্গে ১২ জানুয়ারির ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের অপু বলেন, ‘আমার ওপর শাকিবের আস্থা, ভরসা অনেক বেশি। ও জানে, আমি কিছু করতে চাইলে সেটা নিশ্চয়ই পারব। তা ছাড়া আমার সব ভালো কাজ আর সফলতার পেছনে শাকিবের দোয়া, ভালোবাসা, আশীর্বাদ থাকে। তাই তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

প্রসঙ্গত, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি ছিল শাকিব খান–অপু বিশ্বাস। হঠাৎ করেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় হঠাৎ প্রকাশ্যে আসেন এক টিভি অনুষ্ঠানে। তখনই জানান, শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে, জয় তাঁদেরই সন্তান। সেসময় এই চিত্রনায়িকা বলেছিলেন, শাকিবের আপত্তিতেই বিয়ে ও সন্তান হওয়ার খবর চেপে রেখেছিলেন তিনি।

পরে শাকিবও সেই বিয়ের কথা স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তখন গুঞ্জন ছিল, শাকিবের অন্য সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখে বিয়ে–সন্তানের খবর প্রকাশ করে দিয়েছিলেন অপু। এমন নানা আলোচনার মধ্যে নয় মাসের মাথায় বিচ্ছেদ ঘটে অপু–শাকিবের।

ছয় বছরের বেশি সময় আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস ও শীর্ষ নায়ক শাকিব নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করেননি। বরং ছেলেকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিদেশে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের কাজ নিয়ে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার অপুর যুক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানে শাকিব খানের পরিচালক হিসেবে যুক্ত হওয়া তাঁদের সম্পর্কের উন্নতিরই আভাস।

এর মধ্যে গত বছর সাবেক স্ত্রী অপু এবং ছেলে জয়কে নিয়ে শাকিব খানের যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়ানোর খবর সামনে আসে। ইনস্টাগ্রামে ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে শাকিব তুলে ধরেন ছেলের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা। জয়–শাকিব–অপুর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ভক্ত–অনুরাগীরা দেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডায়ও জয়কে সঙ্গে নিয়ে শাকিব–অপুকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

সন্তানকে নিয়ে ঘোরাঘুরির ব্যাপারটি শাকিব–অপুর ভক্ত–শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। অপু বিশ্বাসও বেশ কিছুদিন ধরে শাকিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতিবাচক কথা বলে আসছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অপু এমনও বলছেন, ‘এই জীবনে তাঁর যা অর্জন, মা–বাবার পর এর পুরো কৃতিত্ব শাকিব খানের।’ অপু এ–ও জানিয়েছেন, ঈদে মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘লাল শাড়ি’ ছবির শুটিংয়ে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন শাকিব।

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস ছাড়াও রিমার্ক গ্রুপের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত আছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, চিত্রনায়িকা পরীমণি, নুসরাত ফারিয়া ও বিদ্যা সিনহা মিম। এর সঙ্গে হারল্যান স্টোরের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে আছেন চিত্রনায়ক মামুনুন ইমন।


রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

মাত্র চার বছর বয়স। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে পারত না ছোট্ট মেয়েটি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে একদিন তাকে অসহায় অবস্থায় পাওয়া যায়। কোথা থেকে এসেছে, কার মেয়ে—কেউ জানত না। হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটির চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্ক।

সেই ছোট্ট শিশুটির নাম স্বপ্না আক্তার। রেলস্টেশনে পাওয়ার ১৪ বছরের পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ হয়ে উঠল তার নতুন জীবনের সূচনার সাক্ষী। বিয়ের পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল না। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। উপস্থিত অনেকের চোখেই তখন জল। কারণ, পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই বিরল দৃশ্য।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রেলস্টেশন থেকে স্বপ্নাকে উদ্ধার করার পর তাকে আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ধীরে ধীরে লেখাপড়া শিখে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, “স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।”

পাত্রও সিলেটেরই সন্তান। তিনি ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এমনকি একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দেয় ১০০ কাপ দই।

সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল আনন্দমুখর ও হৃদয়স্পর্শী। কেউ বুঝতেই পারেননি, এটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া কোনো মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমার খুবই ভালো লেগেছে। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।”
তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ এবং পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই এক জীবন্ত উদাহরণ।