শেয়ার বাজার

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিহত ৫০,হাজারও ফ্লাইট বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিহত ৫০,হাজারও ফ্লাইট বাতিল

বার্তাবেলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহ থেকে নিরবচ্ছিন্ন তুষারঝড়ে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ায় সড়কপথে বেশ কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, বিঘ্নিত হচ্ছে প্লেন চলাচল, বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে স্কুলগুলো। টানা তুষারপাত এবং ঘন বরফের জেরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য টেনেসিতে আবহাওয়া-সম্পর্কিত ১৪টি প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। মক্কায় ওমরাহ পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে গত মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ার মহাসড়কে দুর্ঘটনায় পাঁচ নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কেন্টাকিতে বিরূপ আবহাওয়ায় পাঁচজন মারা গেছেন। রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন। ওরেগনে গত বুধবার তুষারঝড়ের সময় পার্ক করা একটি গাড়ির ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।

পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসের তথ্যমতে, ওরেগনে তুষারঝড়ের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৫ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। রাজ্যটির গভর্নর সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া ইলিনয়, কানসাস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন এবং ওয়াশিংটনেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়ো বাতাস ও ভারী তুষারপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল করা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। এছাড়া শিকাগোর ও’হার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ শুক্রবার ৭ হাজার ৬০০ টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। মধ্যপশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইট অ্যাওয়ার ডটকম’এর উদ্ধৃত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়ের কারণে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে ও দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল, ২০২৪

ইরানের সঙ্গে কতক্ষণ টিকতে পারবে ইসরায়েল

গাজা যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে গত সোমবার সিরিয়ায় একটি ইরানি দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে ইরান। ফলে ইরানের সামনে ইসরায়েল কতক্ষণ টিকবে তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

গত কয়েক বছর ধরে ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বেশ বেড়েছে। সম্প্রতি ইরান সামরিক প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্যমতে, ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরান ১৪তম আর ইসরায়েল ১৭তম অবস্থানে রয়েছে। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সক্ষমতার তথ্য তুলে ধরা হলো।

ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে, ইরানের ৬ লাখ ১০ হাজার নিয়মিত সেনা রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক লাভ ৭০ হাজার সেনা। তবে রিজার্ভ সেনার দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েলের। তাদের সেনা হচ্ছে চার লাখ ৬৫ হাজার। অন্যদিকে ইরানের রিজার্ভ সেনা হলো তিন লাখ ৫০ হাজার।

আধাসামরিক বাহিনীর দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইরান। দেশটিতে ২ লাখ ২০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার সেনা।

সামরিক উড়োজাহাজের দিক দিয়ে আগায়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ৬১২টি সামরিক উড়োজাহাজ রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫৫১টি। যুদ্ধবিমানের দিক দিয়েও আগায়ে ইসরায়েল। দেশটির ২৪১টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ১১৬টি যুদ্ধবিমান রয়েছে।

হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের ৩৯টি আর ইরানের রয়েছে ২৩টি। অন্যদিকে পরিবহন উড়োজাহাজে এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৮৬টি আর অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ১২টি।

হেলিকপ্টারের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ১৪৬টি হেলিকপ্টার রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বহরে রয়েছে ১২৯টি হেলিকপ্টার। এ ছাড়া ইরানের ট্যাংক রয়েছে এক হাজার ৯৯৬টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে এক হাজার ৩৭০টি।

সাঁজোয়া যানেও এগিয়ে রয়েছে ইরান। দেশটির ৬৫ হাজার ৭৬৫টি সাঁজোয়া যান রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। এ ছাড়া সাবমেরিন রয়েছে ইরানের ১৯টি। অন্যদিকে ইসরায়েলের রয়েছে মাত্র ৫টি।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে 'অপহরণের' ভিডিও পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে 'অপহরণের' ভিডিও পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে জো বাইডেনকে তার হাত ও পা বেঁধে এবং দৃশ্যত অপহরণ করার একটি ভিডিও পোস্ট করার পরে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। গ্রাফিকটি মিঃ ট্রাম্পের সমর্থকের পিক-আপ ভ্যানের পিছনে আঁকা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখানো হয়েছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘অপহরণের’ একটি ভিডিও পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর স্ট্যান্ডার্ড।

প্রায় সাত সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, পিকআপের পেছনে বর্তমান প্রেসিডেন্টের একটি ছবি প্রিন্ট করে লাগানো হয়েছে। অর্থাৎ তাকে অপহরণ করা হয়েছে- এমনটাই বোঝানো হয়েছে ছবিতে। যদিও ছবিটি পুরোপুরি এডিটেড। পতাকা ও ডেকাল সম্বলিত দুটি ট্রাক ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে যেখানে দ্বিতীয় ট্রাকের পেছনে ছিল বাইডেনের ছবি।

এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরা ট্রাম্পকে দানব বলে আখ্যা দিয়েছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে ৭৭ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাপশন লিখেছেন, ‘৩/২৮/২৪, লং আইল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক।’

"ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিত্রটি একটি বাজে ধরনের পোস্ট, যখন আপনি রক্তপাতের জন্য ডাকছেন, বা যখন আপনি গর্বিত ছেলেদের 'ফিরে দাঁড়াতে এবং পাশে দাঁড়াতে' বলছেন," বাইডেন প্রচারণার সংযোগ পরিচালক মাইকেল টাইলার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রতিনিয়তই রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছেন। এখন সময় এসেছে তাকে বয়কট করার।’

এদিকে, ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছবিটি একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে ছিল, পিকআপটি হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শুধু ঘৃণ্য সহিংসতার ডাকই দেয়নি, তারা আসলে তার বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।’

তবে, ভিডিওতে বাইডেনের ছবির উপস্থিতি নিছকই কাকতালীয় ঘটনা তা মনে হচ্ছে না। কারণ ভিডিওর শেষের দিকে বাইডেনের সম্পাদিত ছবিটি জুম করে দেখানো হয়েছে।


হামাসের যুদ্ধ বন্ধের
হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

হামাসের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

বার্তাবেলা ডেস্ক: হামাসের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি ও গাজার শাসনভার হামাসের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ করাসহ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার হামাসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

রোববার (২১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে হামাস যুদ্ধ বন্ধ করা, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা ও সব খুনি-ধর্ষকদের মুক্তি দাবি করছে। তাদের এই শর্ত মেনে নেওয়া মানে, হামাসকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া ও ইসরাইলের সেনাবাহিনীকে অকার্যকর প্রমাণ করা।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

তিনি আরও বলেন, হামাসের ‘আত্মসমর্পণের’ এই পরিভাষা আমি পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এই শর্ত মানলে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারবো না। ঘরছাড়া মানুষদের তাদের ঘরে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারবো না এবং আরেকটি ৭ অক্টোবর কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

আবার গত বৃহস্পতিবারের (১৮ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতেই থাকতে হবে। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, এমন রাষ্ট্র ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হবে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। তার আওতায় হামাসের হাতে ইসরায়েল থেকে ধরে এনে গাজায় জিম্মি করা ২৪০ জনের মধ্য থেকে ১০০ জনেরও বেশি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে ইসরায়েলের জেলে বন্দি থাকা ২৪০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাকি ১৩৬ জিম্মির মুক্তির জন্য নাগরিকদের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। তাদের স্বজনরা নেতানিয়াহুর বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ করে মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা চান, তাদের স্বজনরা দ্রুতই বাড়িতে ফিরে আসুক। এমনকি, জিম্মিদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য একটি চুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে সমস্যার সমাধান করার প্রশ্নেও নমনীয় না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর। অন্যদিকে, তার ডানপন্থী জোটের ক্ষমতাসীন নেতারা গাজায় যুদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী