শেয়ার বাজার

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৫১ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৫১ জন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সাতজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫১ জন। এ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুই হাজার ৩৮৪ ডেঙ্গুরোগী।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৫১ জনের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৬৪ জন। এছাড়া ঢাকার বাইরের ১৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় চারজন মারা গেছেন। এসময়ে ঢাকার বাইরে মারা গেছেন তিন ডেঙ্গুরোগী।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট তিন লাখ ১৬ হাজার ৪১১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ৮ হাজার ৮১৮ জন। ঢাকার বাইরের দুই লাখ সাত হাজার ৫৯৩ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৩১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১২০ জন এবং ঢাকার বাইরের ৩১১ জন।

গত ১ জানুয়ারি থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা এক লাখ ৭ হাজার ২৫০ জন এবং ঢাকার বাইরের দুই লাখ ৫ হাজার ১২৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০২২ সালে ২৮১ জন, ২০২১ সালে ১০৫ জন, ২০২০ সালে সাতজন ও ২০১৯ সালে ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনই মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

চলতি বছর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঁচজনই মারা গেছেন

চলতি বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন এবং পাঁচজনই মারা গেছেন। অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু শতভাগ। অন্যদিকে ২০২৩ সালে নিপাহ ভাইরাসে ১৩ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১০ জন। এতে ওই বছর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার ছিল ৭৭ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আয়োজিত নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকি বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সভায় আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকিবিষয়ক একটি তথ্যনির্ভর উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এ বছর আক্রান্ত পাঁচজনের মাঝে দুজন শিশুসহ চারজন পুরুষ ও একজন নারী। এদের মধ্যে দুইজন মানিকগঞ্জের বাসিন্দা। বাকি তিনজনের বাড়ি খুলনা, শরীয়তপুর ও নওগাঁয়।

বক্তারা বলেন, খেজুরের কাঁচা রস থেকে নিপাহ ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। শীতকালে খেজুরের রস খাওয়ার সুযোগ থাকে। আর এই নিপাহ ভাইরাস এ কারণে এ সময়েই ছড়ায় বেশি। নিপাহ একটি মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৭১ শতাংশ রোগীই মারা যান। তাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে মানুষকে সাবধান হতে হবে।


হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি

সারাদেশে চলছে হামের প্রাদুর্ভাব। এরিমধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যু চারশ ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি এই তথ্যের বাইরে প্রকৃত সংখ্যা এরচেয়েও বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে হামের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। সারাদেশে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর আবারও বেড়েছে মশার প্রকোপ। তবে এবার আর কিউলেক্স মশা না, বাড়ছে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিসের বিস্তার।

গত পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে সারা দেশে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। তাই এবার ডেঙ্গু নিয়ে আগাম সতর্কতার কথা জানিয়েছেন দুই সিটির কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এডিস মশা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত সারা দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনই রাজধানীর বাসিন্দা।

রাজধানীসহ দেশের জেলা শহরগুলোতে সব সময় বহু ভবন নির্মাণাধীন থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘসময় লাগে এসবের কাজ শেষ হতে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধরনের স্থাপনায় জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গুর বংশবিস্তার হচ্ছে। জায়গাগুলো নজরে রেখে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করলে এ বছর ডেঙ্গুর মাত্রা গত বছরের তুলনায় বাড়তে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মশাবাহিত রোগবিষয়ক গবেষক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, এখনই যথাযথ প্রস্তুতি না নিলে সামনে ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়তে পারে। তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফলে এডিস মশা বাড়বে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুও বাড়বে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। যেসব কীটনাশক প্রয়োজন তার পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে সিটি কর্তৃপক্ষকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া গত ৫ বছরের ডেঙ্গু রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই ছিল রাজধানীর বাসিন্দা। দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে রাজধানীর দক্ষিণে মৃত্যুর হার বেশি। প্রতিবছরের মে-জুন মাসে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের সংখ্যার সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু গত কয়েক বছরে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে রাজধানীতে ৯৫ জন এবং সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। সে বছর সারা দেশে ২৮১ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে রাজধানীতেই মারা যান ১৭৩ জন। ২০২৩ সালে ডেঙ্গু ছিল দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। বছরটিতে সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মারা যায় রাজধানীতে। সারা দেশে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে যথাক্রমে ৫৭৫ ও ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিককালের নতুন বিপদ হচ্ছে, আগে মূলত ঢাকাসহ নগরে সীমিত থাকলেও এডিস মশা এখন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি বছরও সরকার ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে আক্রান্ত এলাকায় কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) পাঠিয়ে বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। লিফলেট, এসএমএস এবং গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে এ বছর আগাম সতর্ক তারা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে লার্ভিসাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেন, খাল ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার অভিযান চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। কিছু নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, রোববার থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে বাউল গানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রোববারই প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ৭৫ ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর হটস্পট শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘প্রাক্‌-বর্ষা এডিস লার্ভা জরিপ শুরু করেছে। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

এ ছাড়া ডিএসসিসি বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা কার্যক্রম, খাল, ড্রেন ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা কমাতে পোর্টেবল পাম্প ব্যবহারের উদ্যোগ এবং প্রতি মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালনের ঘোষণা দিয়ে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। গতকাল তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাম বা অন্য কোনো রোগের কারণে ডেঙ্গুকে কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। আমরা সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আজও (গতকাল) ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে দেশের প্রতিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যাতে রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা ও সমন্বয় কার্যক্রম দ্রুত করা যায়। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, বিশেষ করে স্যালাইন, ওষুধ ও পরীক্ষার সামগ্রী জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগের ক্রমবর্ধমান বিস্তারের জন্য বর্তমান নগর কাঠামোকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করলেন নগর বিশেষজ্ঞ, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাজধানীতে জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। এত জনঘনত্বপূর্ণ স্থানে মশাবাহিত রোগ খুব দ্রুত ছড়ায়। ঢাকায় বৃষ্টিপাতের সময়ে নানা কারণে জলাবদ্ধতা হয়। এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ (শহরের যেসব স্থানে উষ্ণতা বেশি) এর প্রভাব থাকে, যার ফলে মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।’

এ বছর ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়বে এমন আশঙ্কা জানিয়ে এই নগর গবেষক বলেন, ‘পরিসংখ্যান আমাদের সে তথ্যই দিচ্ছে। নগর কাঠামোর কোনো পরিবর্তন না হওয়া এবং বর্তমান নগর পরিকল্পনার অব্যবস্থাপনা এসব মিলিয়ে পরিস্থিতি সেদিকেই ইঙ্গিত করছে।’



বাংলাদেশে ভয়ংকর সীসা দূষণ, হৃদরোগে মারা যাচ্ছে লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

বাংলাদেশে ভয়ংকর সীসা দূষণ, হৃদরোগে মারা যাচ্ছে লাখো মানুষ

সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে আক্রান্ত ১ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। একই কারণে দেশটির শিশুদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যার ফলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হবার ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসা সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে’ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল হেলথ বার্ডেন অ্যান্ড কস্ট অব লেড এক্সপোজার ইন চিলড্রেন অ্যান্ড অ্যাডাল্টস: অ্যা হেলথ ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ইকোনমিক মডেলিং অ্যানালাইসিস’ নামের এই গবেষণাটি করেছেন বিশ্বব্যাংকের একদল গবেষক।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, সীসা দূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন চতুর্থ। এর ফলে একদিকে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তেমনি শিশুদেরও আইকিউ কমে যাচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ৬৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির ২০১৯ সালের মোটি জিডিপি’র প্রায় ৬ থেকে ৯ শতাংশের সমান। সীসা সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে শিশুদের। মাত্রার চেয়ে বেশি সীসা শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।

বাংলাদেশের ২০১৯ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন যে, সীসা দূষণের ফলে দেশটিতে শূন্য থেকে চার বছর বয়সী বাচ্চারা প্রায় দুই কোটি আইকিউ পয়েন্টস হারাচ্ছে। এতে শিশুদের বুদ্ধির যথাযথ বিকাশ হচ্ছেনা। ফলে নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে তাদের যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি আচার-ব্যবহারেও নানা অসংগতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, খাবারে অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ - এরকম নানা সমস্যাও তৈরি করছে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. প্রিসিলা ওবিল এ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলাদেশে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রায় সীসার উপস্থিতি তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।এছাড়া সীসা দূষণের ফলে তাদের আইকিউ কমে যাচ্ছে, যা দেশটির সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই সীসা দূষণ বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী।” ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজে’র তথ্যে দেখা গিয়েছিলো যে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অকালে মারা যাচ্ছে। কিন্তু নতুন এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। এখানে দেখা যাচ্ছে যে, সীসা দূষণের ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সীসা দূষণ রোধে এখনই উপযুক্ত সময়। এই সমস্যাকে সমূলে উৎপাটনের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।”

সীসা দূষণের উৎস

ব্যাটারি ভাঙ্গা শিল্প, সীসাযুক্ত পেইন্ট, অ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল, খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত সিরামিকের পাত্র, ই-বর্জ্য, খেলানা, সার, রান্নায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মশলা, প্রসাধনী, খাবার-দাবার এবং চাষ করা মাছের জন্য তৈরি খাবার থেকেই মূলত: বাংলাদেশে সীসার দূষণ ঘটে।

প্রকাশিত গবেষণাটির অংশ হিসেবে খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০০টি নমুনা সংগ্রহ করে সীসার উপস্থিতি পরিমাপ করে দেখেছে নিউ-ইয়র্ক ভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘পিওর আর্থ’। এসব নমুনার মধ্যে খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত ধাতব ও প্লাস্টিকের পাত্র, সিরামিক পাত্র, রঙ, শুকনা খাবার, খেলনা, রান্নায় ব্যবহৃত মশলা এবং প্রসাধনী পণ্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৪% নমুনাতেই মাত্রাতিরিক্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

খাবার রাখার জন্য ব্যবহৃত ৫৯% ধাতব পাত্রে, ৪৪% সিরামিক পাত্রে, ৯% প্লাস্টিকের পাত্রে, ৫৪% পেইন্টে, ১৭% চাল/স্টার্চে, ১৩% খেলনায়, ৭% মশলায় এবং ৬% প্রসাধনীতে অতিমাত্রায় ক্ষতিকর সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে গড়ে প্রায় ৬.৮ মাইক্রোগ্রাম সীসা পাওয়া গেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে। তবে একজন মানুষের শরীরে কতটুকু সীসা থাকা নিরাপদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার সঠিক কোনো পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।