শেয়ার বাজার

ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে ঢাকা-সিলেট প্রকল্পের মেয়াদ
জমি সংকটে থমকে ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

জমি সংকটে থমকে ঢাকা-সিলেট এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়েছে। প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জমির এক-তৃতীয়াংশের বেশি বুঝে পায়নি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ফলে মূল সড়ক নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ উভয়ই বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণে প্রায় ১ হাজার ৩৩ একর জমি প্রয়োজন। এর মধ্যে সাত জেলায় ৮২৯ দশমিক ৮ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭৭ দশমিক ২৫ একর জমি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা মোট প্রয়োজনীয় জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলায়। হবিগঞ্জে প্রয়োজনীয় ৩০২ দশমিক ৮৯ একরের মধ্যে মাত্র ৮৯ দশমিক ৭৫ একর এবং সিলেটে ২৫৪ দশমিক ৯৫ একরের মধ্যে মাত্র ৪৮ দশমিক ৫৬ একর জমি বুঝে পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। নরসিংদীতেও ১৫৮ দশমিক ০৩ একরের মধ্যে মাত্র ৩৪ দশমিক ৩৫ একর জমি হস্তান্তর হয়েছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পূর্ণ জমি এবং মৌলভীবাজার ও নারায়ণগঞ্জে অধিকাংশ জমির দখল পাওয়া গেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জনবলসংকট, কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে জটিলতা এবং বিপুলসংখ্যক আপত্তি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

গত মার্চে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা এবং আপত্তির কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে হবিগঞ্জ ও সিলেটে জমির শ্রেণিগত অসংগতি, প্রকৌশলী সংকট এবং কর্মকর্তাদের বারবার বদলির কারণে অধিগ্রহণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রস্তাব জমার পর নারায়ণগঞ্জে ৯ বার, নরসিংদীতে ১৪ বার, হবিগঞ্জে ৯ বার এবং সিলেটে ১১ বার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল করিম বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ হলো ভূমি অধিগ্রহণ এবং বিভিন্ন পরিষেবা লাইন স্থানান্তর। তিনি জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে সময়মতো জমি না পেলে মূল সড়ক নির্মাণে আরও বিলম্ব হবে।

জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে ২০২৫ এবং পরে ২০২৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যা পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অন্যদিকে মূল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে তা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ করা গেলে নির্মাণকাজের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

বর্তমানে প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। এছাড়া ৬৬টি সেতুর মধ্যে ৬২টি, ১৩টি ফ্লাইওভারের মধ্যে ৯টি এবং ৩০৫টি কালভার্টের মধ্যে ১৯৮টিতে কাজ চলমান রয়েছে। শতাধিক কালভার্টের নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অংশ ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা এবং এডিবির ঋণ ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভূমি অধিগ্রহণকে প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে আগামী দুই মাসের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণকে প্রকল্প-পূর্ব কার্যক্রম হিসেবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনে দক্ষ ও স্থায়ী ভূমি অধিগ্রহণ সেল, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড, সময়ভিত্তিক জবাবদিহি এবং কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মেহেবুব। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দুল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিগারুল ইসলাম জিগার, সাবেক সভাপতি আকাশ আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক জগলুল হুদা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৫

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বেঁচে নেই।তার মৃত্যুর বিষয়টি যুগান্তরকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আহত ও দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর। 

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।


বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় হোটেলকর্মী মিলন গ্রেফতার

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় হোটেলকর্মী মিলন গ্রেফতার

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার নিলি নামের এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তার নাম মিলন। পেশায় মিলন একজন হোটেলকর্মী।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দক্ষিণ বনশ্রীর নিজ বাসায় খুন হওয়া স্কুলছাত্রীর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সন্দেহজনক আসামি হোটেলকর্মী মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জানা গেছে, গ্রেফতার মিলন নিহত নিলির বাবার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। নিলি বাসায় একা ছিল সেই সুযোগে মিলন তাকে গলাকেটে হত্যা করে। তবে কি কারণে হত্যা সে বিষয়ে এখনও জানাতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিদের আসামি করে গত শনিবার রাতে একটি মামলা হয়।

গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের প্রীতম ভিল থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

খিলগাঁও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার (১৭) বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতো নিলি। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ চালান। দুই দিন আগে তার মা-বাবা ও ভাই হবিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যান। ঢাকায় সে ও তার বোন ছিল। বিকেলে ফাতেমার বোন জিমে যান। ফিরে এসে ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান।