শেয়ার বাজার

জনপ্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী
জনগণকে সেবা দিলে ভবিষ্যতে ভোট নিয়ে চিন্তা করা লাগবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৪

জনগণকে সেবা দিলে ভবিষ্যতে ভোট নিয়ে চিন্তা করা লাগবে না

জনগণকে তাদের প্রত্যাশিত সেবা দিলে ভবিষ্যতে ভোট নিয়ে কোনো চিন্তা করা লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ বিভিন্ন জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নবনির্বচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি নিশ্চিত করতে পারেন, ভবিষ্যতে ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষ আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে। এই কথাটা আপনারা মাথায় রাখবেন। জনসেবার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন সেটাই আমরা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাতির পিতা প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে দশ বেডের হাসপাতাল তৈরি করার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। সরকারে আসার পর আমি কমিউনিটি ক্লিনিক করলাম। স্থানীয় লোক সেখানে জমি দেয়, আমরা বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার সরঞ্জামাদি ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে সেখানে নিয়োগ দেই। ৩০ প্রকারের ওষুধ আমরা বিনামূল্যে দিচ্ছি। আপনারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে এসব দিকে নজর দেবেন যে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে চলছে কি না। মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে কি না। মানুষ সেবা পাওয়াটাই বড় কথা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ডা. তাহসীন বাহার সূচনা ও ইকরামুল হক টিটুকে শপথ পড়ান। এদিন একই সঙ্গে ময়মনসিংহ সিটির নবনির্বাচিত কাউন্সিলরদের শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এর বাইরে কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথ পড়ানো হয়।

গেল ৯ মার্চ ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে ভোট গ্রহণ করা হয়। একই দিন উপরোক্ত জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ময়মনসিংহ সিটিতে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইকরামুল হক টিটু। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনে জয়লাভ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহসীন বাহার সূচনা।

কারওয়ান বাজার
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা, সেনা মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা, সেনা মোতায়েন

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারওয়ান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) আব্দুল হান্নান।

এ ঘটনার পর থেকে কারওয়ান বাজার এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে রয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রহমান কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদা আদায় করছেন। এর প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনের আয়োজন করলে তাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় আব্দুর রহমানের লোকজন। পরে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সবাই নেমে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া দেয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পুলিশের সামনে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই আব্দুর রহমানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিলও করেন।

আব্দুল হান্নান বলেন, আব্দুর রহমান নামের একজনের বিরুদ্ধে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলেন। আগেও তারা এমন মানববন্ধন করেছেন। আজকের মানববন্ধনের সময় আশপাশে পুলিশও ছিল। হঠাৎ অতর্কিতভাবে কয়েকজন এসে তাদের ব্যানার কেড়ে নিতে চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ঘটে। পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


আগামী ঈদের আগে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৪

আগামী ঈদের আগে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা 

সংস্কার শেষে দেশে ফিরছে সামিটের মালিকানাধীন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। আগামী সোমবার মহেশখালীতে এই টার্মিনাল পৌঁছাবে। ঈদের আগেই যুক্ত হবে অপারেশনাল কাজে। এরমধ্য দিয়ে প্রায় ছয় মাস পর দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়- আমদানি করা এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে স্থাপন করা দুই ভাসমান টার্মিনাল দিয়েই খালাস করা হয়। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ‘এক্সিলেন্স’। অন্যটি দেশীয় সামিট প্রাইভেটের মালিকানাধীন ‘সামিট’। এ দুই টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন ক্যাপাসিটি দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

গত ১ নভেম্বর সংস্কারের জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয় এক্সিলেন্স কে। এতে দুই টার্মিনালের একটি দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। রান্নায় ভোগান্তি, সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বিঘœ ঘটতে শুরু করে।

এরমধ্যে গত ৭ জানুয়ারি সংস্কার শেষে মহেশখালীতে ফিরে এক্সিলেন্স। এরপর এই এলএনজি টার্মিনালের কমিশনিং শুরু হয়। ত্রুটি সারিয়ে গত ২২ জানুয়ারি থেকে এক্সিলেন্স টার্মিনাল দিয়ে ফের গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে একই সময়ে সংস্কারের জন্য সামিটের টার্মিনাল সিঙ্গাপুর পাঠানোয় গ্যাস সংকট রয়ে যায়।

এলএনজি টার্মিনাল দুটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা- রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এই সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন- সামিটের টার্মিনালটি ফিরে এলে দুটি টার্মিনাল দিয়েই এলএনজি সরবরাহ শুরু করা যাবে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। গ্যাস সংকট কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২২ জানুয়ারি সংস্কারের জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে মহেশখালী ছেড়ে যায় সামিটের টার্মিনাল। এরপর সিঙ্গাপুরের সিট্রিয়াম বেনোই ইয়ার্ডে এই টার্মিনালের ড্রাই-ডকিং কাজ শুরু হয়। কাজ শেষে গত ২৬ মার্চ এটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আগামী ১ এপ্রিল এটি পৌঁছানোর কথা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আরপিজিসিএল’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, সামিটের টার্মিনাল আগামী ১ এপ্রিল দেশে পৌঁছালে ৬-৭ এপ্রিলের মধ্যে অপারেশনাল কাজে যুক্ত হওয়ার কথা। এরমধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর দুটি টার্মিনালই চালু হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এক্সিলেন্স টার্মিনাল দিয়ে প্রতিদিন ৬০০-৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল অপারেশনাল কাজে যুক্ত হলে গ্যাস সরবরাহ প্রতিদিন ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যাবে। যা গ্রীষ্ম মৌসুমে গ্যাসের তীব্র চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়লে পুরোপুরি এলএনজি নির্ভর চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট কমে আসবে বলে মনে করেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (অপারেসন্স) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা দিনে ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছি। দুটি টার্মিনাল চালু হলে যা ২৯০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছি। এতে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।


মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

মা কবরে বাবা কারাগারে: দরিদ্র নানা-নানির কাঁধের বোঝা ৬ শিশু

ফাঁকা বাড়ি, নেই কোনো বেষ্টনী। উঠোনের দুইপাশে দুইটি চুলা এখনো পড়ে আছে। ক’দিন থেকে বাড়িতে সুনসান নীরবতা। সন্ধ্যায় বাড়িতে বাতি জ্বালানোর মতো কেউ নেই। ঘরে ঝোলানো তালা।

গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে এই বাড়িতে স্বামীর মারধরে মারা যান ছয় সন্তানের জননী মরজিনা খাতুন। ঘটনার পর স্থানীয়রা স্বামী আব্দুল মকিমকে (৪০) আটক করে পুলিশে দেয়।

ঘটনার পর থেকে অবুঝ ছয় শিশু এখন দরিদ্র নানা-নানির আশ্রয়ে রয়েছে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে নওগাঁর পোরশা উপজেলার শীতলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মকিমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পাশের নীতপুর গ্রামের মশিউর রহমানের মেয়ে মরজিনা খাতুন রুপসির বিয়ে হয়। দরিদ্র এ দম্পতির ছয় সন্তান। ছেলে সন্তানের আশায় একের পর এক চার মেয়ে। পঞ্চমবার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর আরও এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তাদের নিজেদের আধাপাকা ছোট দুই কক্ষের ঘর ছাড়া কোনো সম্পত্তি নেই।

মকিম কৃষিকাজ এবং মরজিনা প্রতিবেশীদের গরুর দুধ দহন ও বিক্রি করে টেনেটুনে কোনো রকম সংসার চলত। এছাড়া প্রতিবেশীরাও বিভিন্নভাবে তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করত। তাদের বাড়ি জেলার প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী শীতলি ডাঙ্গাপাড়ায়।

সবার বড় মেয়ে মাহিয়া আকতার মিমি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে৷ দ্বিতীয় মেয়ে মারিয়া আকতার চতুর্থ শ্রেণি, তৃতীয় মেয়ে শ্রাবনি আক্তার তৃতীয় শ্রেণি ও চতুর্থ মেয়ে জান্নাতুন শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে৷ এছাড়া পাঁচ নম্বর সন্তান রমজান আলীর বয়স ৪ বছর এবং ছয় নম্বর সন্তান জাইদাতুনের বয়স ১১ মাস।

ঘটনার দিন দুপুরে গমের ক্ষেতে কাজ করে স্বামী মকিম খাবারের জন্য বাড়ি আসেন। মকিম ফ্রিজ থেকে একটি ডিম বের করে ভাঙেন। এই ডিম ভাঙাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বসে মকিম প্রেশার কুকার দিয়ে মরজিনার মাথা ও মুখমন্ডলে আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন মরজিনা। বাচ্চাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়রা মকিমকে আটক করে গাছে বেঁধে রাখে। পরে থানা পুলিশের কাছে তাকে সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছয় সন্তান তার বাবা-মার কাছে আশ্রয় নেয়। মায়ের অনুপস্থিতিতে সন্তানদের কান্না যেন আর থামছেই না।

নিহত মরজিনার প্রতিবেশী আলেয়া বেগম বলেন, আব্দুল মকিমের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তারপরও সে পরিশ্রম করে। আর মরজিনা খুবই পরিশ্রমী একজন মেয়ে। তার কারণে সংসারটা টিকে ছিল। আমরা প্রতিবেশী সবাই তাদের সহযোগিতা করতাম। মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার কারণে মরজিনার গালে জখম করেছিল। অনেক চিকিৎসার পর সুস্থ হয়। ছেলে মেয়ে এখন নানার বাড়িতে থাকে। কিন্তু তাদের এখন কী হবে সেটা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তায় আছে।

দরিদ্র বৃদ্ধ মশিউর রহমান ও তার স্ত্রী তাদের ছোট ছেলের কাছে থাকা-খাওয়া করেন। তার ওপর আরও ছয় নাতি-নাতনি যোগ হয়েছে। তাদের নিয়ে এখন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন নানা-নানি।

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন নানি শওকত আরা।

তিনি বলেন- পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। সবাই শিশু। তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি কীভাবে তাদের মানুষ করবো।

নানা মশিউর রহমান বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বয়স হয়েছে। কোনো কাজকাম করতে পারি না। কষ্ট করে বুড়াবুড়ি ছোট ছেলের মধ্যে খাই। কোনো রকম দিন পার হয়। তার ওপর আরও ছয় সদস্য আমার ঘাড়ে চেপেছে। এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি কীভাবে তাদের বড় করবো। সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ আছেন, তারা যদি একটু সুনজর দিতো নাতি-নাতনিদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করতে পারতাম।

পোরশার নীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম বলেন, বৃদ্ধ মশিউর রহমান দরিদ্র মানুষ। তারা স্বামী-স্ত্রী ছোট ছেলের মধ্যে থাকে। তার ওপর আরও ছয় শিশুর দায়িত্ব পড়েছে মশিউরের কাঁধে। এটাতো অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা এলে তাদের সহযোগিতা করা হবে। কোনো পরিবারে খুন-জখম হোক এটা কেউ চায় না। এসব বিষয়ে সমাজে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।