শেয়ার বাজার

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বাড়ছে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অনিরাপত্তায় চৌদ্দগ্রামবাসী

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

গত শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ ঘটনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এক নারীর বাড়িতে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে পাশের কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন তার কৃষি জমি দেখা শেষে ওই বাড়িতে গেলে সোনাপুর গ্রামের যুবকরা বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ব্যাপক মারধর করে। মিয়াধনকে মারধরের খবর পেয়ে মাসকরা গ্রামে ডাকাত প্রবেশ করেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে সোনাপুরের যুবকদের ওপর আক্রমণ করে। এতে সোনাপুর গ্রামের যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মাসুম আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা যায়।


এ ঘটনার জেরে আহত জাহিদুল ইসলাম মাসুমের বন্ধু উপজেলার ডলবা গ্রামের মোহাম্মদ রুবেল, মো. রানা ও ছাতিয়ানী গ্রামের ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সোনাপুর, ডলবা, বসকরা, ছাতিয়ানী ও শ্রীপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬০-৭০ জন অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য পাটানন্দী গ্রাম হয়ে মাসকরায় প্রবেশ করে। এ সময় তারা অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছয়টি দোকানসহ অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বেশ কয়েকটি খড়ের স্তূপে অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট করা হয় স্বর্ণালংকার, হাঁস-মুরগি ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র।

এ সময় তাদের হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে মাসকরা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে করে তাদের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বিকেল থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষটি রাত পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া সহোদর ভাই রুবেল ও রানা চৌদ্দগ্রামের কিশোর গ্যাং লিডার। রুবেল ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হয়। অপর ভাই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ভাঙচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও সংসদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সহোদর দুই ভাই স্থানীয় একতা বাজারে আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত দ্রুত বিচারের মামলারও আসামি। শনিবার বিকেল মাসকরা গ্রামে হামলার পর রুবেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে হামলাকারী রুবেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছি। এর আগে আগুনে ঘর ও খড়ের ছিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাওসার হোসেন বলেন, সোনাপুর ও মাসকরার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে রোববার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

ইসলামী ব্যাংকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতে এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

ইসলামী ব্যাংকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতে এস আলমের ছেলেসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আহসানুল বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের (এস আলম) ছেলে। এস আলমের দুই ভাইকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

ত ১৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন ঢাকার সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পরিষদের ১৪ জন ও এস আলমের দুই ভাইসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

আহসানুল আলম ছাড়াও এ মামলায় আসামির তালিকায় আছেন এস আলমের ভাই সোনালী ট্রেডার্সের সহিদুল আলম ও গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাশেদুল আলম। আসামির তালিকায় আরও আছেন ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান এমডি মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রফিকুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর আহমদ, সাবেক পরিচালক মো. ফসিউল আলম, কাজী শহীদুল আলম, মো. সিরাজুল করিম, জামাল মোস্তফা চৌধুরী, মো. জয়নাল আবেদীন, খুরশীদ উল আলম, মো. কামরুল হাসান, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ সালেহ জহুর ও মোহাম্মদ সোলায়মান এবং সাবেক নমিনি পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে এস আলম-সংশ্লিষ্ট মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম সরওয়ার চৌধুরী চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের চাক্তাই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেন। পরের মাসে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তা অনুমোদন করেন। মিথ্যা তথ্যের ওপর জাল কাগজে এ ঋণের জন্য আবেদন করে মুরাদ এন্টারপ্রাইজ। পরে এ ঋণ অনুমোদন করা হয়। কোনো প্রকার যাচাই না করেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে এ ঋণ অনুমোদন করেন। প্রথমে ৮৯০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করা হলেও পরে সেটা বৃদ্ধি করা হয়। গত বছরের মার্চ মাসে এ ঋণ জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ যে বিনিয়োগের কথা বলে ঋণ নিয়েছিল, পণ্য না কিনে তা স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ মূলত এস আলম গ্রুপে পণ্য সরবরাহ করতেন। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাঁরা ঋণের টাকা স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন।

গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক এস আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী ও খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। এই দুটি ঋণের বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক।

এস আলম পরিবারের ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

এস আলম পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহীম মিয়া আজ এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অনুসন্ধান পর্যায়ে ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছে। শুনানি নিয়ে আদালত সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের এ আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ। দুদকের পক্ষ থেকে গতকাল লিখিতভাবে আদালতকে বলা হয়, এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস ও অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৯১ টাকা জমা রয়েছে।

এর আগে ৭ অক্টোবর এস আলম তাঁর স্ত্রী, সন্তান, ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী এস আলম। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক দখল করে নেয়। এরপর আরও একাধিক ব্যাংক, বিমা দখল করে নামে-বেনামে ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। পাশাপাশি গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামেও ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংককে এস আলম মুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সহায়তায় কয়েকটি ব্যাংক দখল করার পর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তাঁর সহযোগীরা ‘অন্তত’ ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ‘বের করে নিয়েছেন’।


মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটি'র নেতৃবৃন্দদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটি'র নেতৃবৃন্দদের

বার্তাবেলা (নিজস্ব প্রতিবেদক): মহান বিজয়দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির পক্ষ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। 

আজ (সোমবার) ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪, বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির আহ্বায়ক মোঃ এফ রহমান রুপক এবং সদস্য সচিব মোঃ শাহাজালাল ভুইয়া উজ্জ্বলের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শাহাজাহান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ এনামুল হক আবির, এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন মোঃ মহিন উদ্দিন স্বপন, মোঃ শাহ আলম সাগর,মাহবুব মন্ডল, মোসাঃ মাহাফুজা আক্তার, মোসাঃ ডালিয়া আক্তার, মোঃ রায়হান, মোঃ মনির হোসেন, এবং মোঃ নাজমুল হুদা বাবুল প্রমুখ।


এসময় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ বজায় রাখতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এদিনের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধের মহান আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন


"কাচ্চি ভাই" ও ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

"কাচ্চি ভাই" ও ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা

অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বুধবার (৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়েন এ আদালত পরিচালনা করেন। তার সঙ্গে আছেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।

এদিকে, এসময় একই অভিযোগে ধানসিঁড়ি নামে আরেকটি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সিঁড়ির সামনে মালামাল রাখায় সেভা হাউজ নামে একটি ভবনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই ভবনটি সাততলা।

দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত গুলশান-২ নম্বর এলাকায় অভিযান চলে।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রেস্টুরেন্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি খুঁজতে অভিযানে নেমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বেইলি রোডে বন্ধ থাকা সুলতানস ডাইন ও নবাবী ভোজ নামের রেস্টুরেন্ট দুটি সিলগালা করে রাজউক। এছাড়া স্কাই ভিউ নাইটেঙ্গল টাওয়ার নামের ৮ তলা রেস্টুরেন্ট ভবন পরিদর্শন করেন তারা। সেখানে তারা দেখতে পান ৩ মিটার সিঁড়ির বদলে সেখানে রয়েছে ৩ ফিট সিঁড়ি। সঙ্গে রয়েছে ছোট্ট একটি লিফট। এছাড়া ভবনটিতে কোনো ফায়ার এক্সটিংগুইসার দেখা যায়নি। পরে সেখানে ফায়ার সার্ভিস ‘ভবনটি অগ্নি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ লিখে একটি নোটিশ টানিয়ে দেয়।

এছাড়া সোমবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশত রেস্টুরেন্টে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পুলিশ। এসব অভিযানে বেশকিছু রেস্টুরেন্ট সিলগালা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁর ১৬ জনকে আটক এবং ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে করা কয়েকটি রেস্তোরাঁ ভেঙে ফেলাও হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, সেই ভবনের প্রথম তলায় ‘চায়ের চুমুক’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত, যা পরে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তদারকি করতে অভিযান পরিচালনা করছে বিভিন্ন সংস্থা।