শেয়ার বাজার

সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের
তালিকায় অনিয়ম ,ইউনিয়ন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

তালিকায় অনিয়ম ,ইউনিয়ন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:সুনামগঞ্জের হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অকৃষক, অক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম তালিকাভূক্ত করে সহায়তা বিতরণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছেন হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। গত দুদিন ধরে ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ইউনিয়ন শুক্রবার দুপুরে অফিস ঘেরা করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শাল্লা উপজেলায়ও ঈদের আগে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণে হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও শুকাতে না পারায় পচে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতি হয় গোখাদত্য খড়েরও। এতে কৃষকদের বিপুল ক্ষতি হয়। সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠে এসে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার নির্দেশনা দেয়। এই নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কৃষি বিভাগের মতে জেলায় চলতি বোরো মওসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে।

জেলায় ১৬ হাজার ৭৮৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় হাওরের অর্ধেক ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কাটা ফসল ও গোখাদ্য খড়ের। টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও পচে নষ্ট হয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে জেলায় বড় কৃষক পরিবার ১২ হাজার ২৫১, মাঝারি কৃষক পরিবার ৬৭ হাজার ৮৯৮, ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪০ জন এবং প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন ৪৯ হাজার ১২৪জন।

তবে ঈদের আগে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ৬৪ হাজার কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় যুক্ত করে। এতে বাদ পড়েন অন্যরা। তালিকাভূক্ত কৃষকদের সরকার টানা তিন মাস ৩ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে এবং ১৫ কেজি চাল প্রতিমাসে সহায়তা দিচ্ছে। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে সহায়তার তালিকায় অকৃষক ও ক্ষতি হয়নি এমন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন প্রকৃত কৃষকরা। তালিকায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করতে কৃষকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়েছেন এমন অভিযোগও আছে। এই অভিযোগে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা। শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ও হবিবপুর ইউনিয়নে তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ঘটনায় অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

গত ৪ জুন বৃহষ্পতিবার দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়ন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। তারা জানিয়েছেন তালিকায় দুর্নীতি ও অনিয়ম করে চেয়ারম্যান মেম্বার তাদের স্বজনদের নামসহ অকৃষক ও ক্ষতি হয়নি এমন কৃষকদের তালিকাভূক্ত করেছেন। এতে বঞ্চিত হয়েছেন কৃষকরা। একই ইউনিয়নের বড়খলা ও জিংড়িপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে জড়িতদের বিচার দাবি ও বঞ্চিতদের তালিকাভূক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বড় কৃষক ও পাইকুরহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সবুজ মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বার নিজের আত্নীয় স্বজনদের তালিকাভূক্ত করেছেন। যারা কৃষক না, যাদের কোনও ক্ষতি হয়নি টাকা খেয়ে তাদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। আর আমরা যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা বঞ্চিত হয়েছি। এলাকার বঞ্চিত কৃষকরা এই প্রতিবাদে গত বৃহষ্পতিবার ইউপি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। আজ আমরা এলাকায় একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল দিয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক উসমান গণি বলেন, তারা টেকা খাইয়া নাম দিছে। আমরারে বাদ দিছে। আমার অর্ধেক জমি পাইন্যে নিছে। আমার মতো ক্ষতি অইছে এমন কৃষকরা তালিকায় নাই। তালিকায় তারা দুর্নীতি করেছে। আমরা এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী ও এমপি সাবের কাছে বিচার চাই।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, প্রথমে যে তালিকা পাঠানো হয়েছিল তা থেকে অর্ধেক কৃষককে আংশিক ক্ষতিপূরণের জন্য বাছাই করা হয়েছে। ঈদের আগ থেকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এখন বাদ পড়া লোকজন বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমাদের ষ্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদেরকে তালিকাভূক্ত করার। কিন্তু এখন আমরা কিছু কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়া
স্বপ্নের ধান আনছেন বছরের খোরাকী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬

স্বপ্নের ধান আনছেন বছরের খোরাকী

দিরাই রাস্তার মুখ সংলগ্ন মদনপুর গ্রামের উত্তরে যতদূর চোখ যায় দেখারহাওরে শুধু পানি আর পানি। পানিতে ভাসছে ছোট ছোট নৌকা। নৌকাগুলো মাছ ধরছে ভেবে অনেকে ভুল করতেই পারেন। কিন্তু নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা জাল দিয়ে মাছ ধরছেন না, বরং আঁছড়ি দিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া স্বপ্নের পাকা ধান তুলে নৌকায় রাখছেন। নৌকা বোঝাই হলে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রেখে নৌকাটি আবার ছুটে চলে হাওরের মাঝখানে। এভাবে সারাদিন দু’জন বা তিনজন মিলে পানির নিচে থাকা ধান আঁচড়ে পাড়ে তুলে নিয়ে আসেন।

এদিকে, এই ধানকে প্রথমে রাস্তার একপাশ দিয়ে মেলে দেন কৃষক পরিবারের নারী সদস্যরা। পরে, পা দিয়ে মাড়িয়ে খড় ছাড়িয়ে আলাদা করেন ধান। এই কাজে তাদেরকে সাহায্য করেন পুরুষরাও। এই ধান শুকিয়ে বছরের খোড়াকীর যোগার করছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুর গ্রামের কৃষকরা। এভাবে শুধু যে মদনপুর গ্রামের কৃষকরাই তলিয়ে যাওয়া ধান তুলে আনছেন তা কিন্তু নয়, জেলার প্রায় সব হাওর থেকেই এসব একই প্রক্রিয়ায় ধান তুলে সারা বছরের খোড়াকীর যোগার করছেন সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকরা। এক রকম নিরুপায় হয়েই এমন কাজ করছেন তারা।

জানা যায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পাকার আগেই অথবা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। ধান হারিয়ে অনেকে দিশেযহারা হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, অনেক জমিতে পাকা ধান থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটাতে না পারায় পানির নিচে চলে গিয়েছিলো অনেক জমি। গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত কম ও তুলনামূলক কম পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ধান কাটার সাহস করেছেন অনেকে। তাই নৌকার মাধ্যমে আছড়ি দিয়ে ধান তুলে পাড়ে আনছেন। যদিও এই ধান দেখতে কালো ও থেতে খুব একটা স্বাদ হবে না। কৃষকরা জানান, এই ধান তুলে আনা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। এইসব ধান তুললে সারা বছর খাবো কী?

মদনপুর গ্রামের কৃষক মদরিছ আলী জানান, হাওরের তলে ৮ থেকে ১০ কিয়ার জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। একটি ধানও তুলতে পারিনি। এখন কষ্ট করে হাওরের তল থেকে কিছু ধান তুলে আনার চেষ্টা করছি। যদি কিছু আনতে পারি তাহলে সন্তান সন্ততিদের নিয়ে খাবো।

ফজিলাতুন নেছা বলেন, আমার ছেলে মেহনত করে পরের জমি চাষ করেছিলো। অনেক টাকা খরচ হয়েছে, কষ্ট করেছে। সব ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছে। এখন কিছু তুলে আনার চেষ্টা করছে। একমাসের খোড়াকী হলে তো হলো। আছির আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, ১২ কিয়ার জমি চাষ করে মাত্র ৩ কিয়ার তুলে ছিলাম। বাকী পানিতে চলে গিয়েছে। পেতে তো আর বুঝে না, তাই কষ্ট করে তলিয়ে যাওয়া ধানও ‘আকি’ দিয়ে তুলে আনার চেষ্টা করছি।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, সুনামগঞ্জের মানুষ এখন অসহায়। বলতে পারেন অনেক কৃষকের ঘরে খাওয়ার মতো ধানচাল নেই। পানিতে সব চলে দেছে। এই জেলার কৃষকরা কখনোই পরিশ্রমের কাছে হারেন না, হারেন দুর্নীতিবাজ আমলাদের দুর্নীতি ও অপসিস্টেমের কাছে।

তিনি বলেন, আগামীতে বাঁধ নির্মাণ করতে হলে উভয়দিক বিবেচনা করে নির্মাণ করতে হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি যে, রাজনৈতিক প্রভাবে কৃষকদের তালিকা হচ্ছে। এমনটি হলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্তই থেকে যাবেন।


রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪

রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ

সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেপলমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক- এ রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেপলমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নতুন এমডি ও সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এ চার প্রতিষ্ঠানে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে।

উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক থেকে এমডি পদে পদোন্নতি ও পদায় দিয়ে সোমবার (২১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জরি করা হয়েছে। আর বাকি ৬ ব্যাংকের এমডি নিয়োগের সুপারিশ করে পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান। জনতা ব্যাংকের ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ডিএমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। রূপালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিএমডি মো. আ. রহিম।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন জনতা ব্যাংকের আরেক সাবেক ডিএমডি মো. কামরুজ্জামান।

এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি মীর মোফাজ্জল হোসেনকে আনসারি-ভিডিপি ব্যাংকের এমডি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি সালমা বানুকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডি, সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি সঞ্চিতা বিনতে আলীকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি চানু গোপাল ঘোষকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি ও সিইওদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর এসব ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করতে চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তারপর থেকে এসব ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদ শূন্য ছিলো।

যোগাযোগ করা হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব অমল কৃষ্ণ মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ৪টি ব্যাংকের ডিএমডি-কে পদোন্নতি দিয়ে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আর বাকি ৬টি ব্যাংকের এমডি নিয়োগের জন্য সুপরিশ করে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পরিচালনা পর্ষদ তাদেরকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেবেন।


পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা ; লাগাম টানতে মাঠে নামছে ভোক্তা-অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা ; লাগাম টানতে মাঠে নামছে ভোক্তা-অধিকার

বার্তাবেলা: পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হু হু করে বাড়ানো হচ্ছে এই কৃষিপণ্যটির দাম। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানে নামছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভোক্তা-অধিকার জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। যা গতকাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়। ভারত সরকারের এ ঘোষণার পর বাংলাদেশের বাজারে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আমদানি করা পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় তেমন প্রভাব পড়বে না।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, নিজেদের দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে পণ্যটি রপ্তানির ওপর আগামী মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভোক্তা-অধিকারের বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঢাকায় অধিদপ্তরের চারজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চারটি পৃথক টিম বাজার অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়া দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করবে।

ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর টনপ্রতি পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও সময়সীমার শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ আগেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

এদিকে, ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরই দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১২০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন এ পেঁয়াজের কেজি ২৪০ টাকা। আর কেজিতে ৯০ টাকা বেড়ে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। কেউ কেউ ২২০ টাকাও দাম হাঁকছেন।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, গোদারাঘাট, উলন বাজারসহ কয়েকটি বাজারে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।