শেয়ার বাজার

বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে নির্বাচনি প্রচারণায় আসছেন। ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধানের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ জনগণ এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। সমাবেশে তিন লক্ষাধিক জনসমাগমের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন জানান, ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছাবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন। একইদিন সন্ধ্যায় নওগাঁ বাইপাসে এবং রাতে বগুড়ায় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেবেন। বগুড়ায় রাত্রিযাপন করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তারেক রহমানের আগমনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আমরা কয়েক লাখ মানুষের সমাগম নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বাসভবনে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জ আসনের দলীয় প্রার্থী, মহানগর ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সভায় তিনি রাজশাহীতে তিন জেলার নির্বাচনি সমাবেশ সফল করার জন্য সমন্বয়ের নির্দেশনা দেন। ভার্চুয়াল সভায় রাজশাহী বিভাগের ১৩ আসনের প্রার্থীদেরও এ সমাবেশ সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলেন তিনি। সভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, নাটোর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং মহানগর বিএনপির নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর রোববার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। মঞ্চ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু জানান, তারেক রহমান ২৯ জানুয়ারি বিমানে দুপুর সোয়া ১২টায় রাজশাহীতে নামবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে পৌঁছে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। রাজশাহীসহ আশপাশের তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। রাজশাহী বিএনপির প্রাণকেন্দ্র, এখানকার মানুষ ‘ধানের শীষ’ ছাড়া কিছু ভাবেই না। আমরা বিজয়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতারা মনে করেন, এই সমাবেশ রাজশাহী ও আশপাশের তিন জেলায় বিএনপির নির্বাচনি শক্তিকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করবে এবং ভোটারদের মধ্যে দলীয় মনোবল বাড়াবে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগের ১৩টি আসনে এই বৃহৎ সমাবেশ দলটির জন্য ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ সর্বশেষ ২০০৫ সালে দলীয় কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান রাজশাহীতে এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এই প্রথম ভোটের প্রচারে সরাসরি মহানগরীতে আসার ফলে দল ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জের প্রার্থীদের জন্য একযোগে এই মহাসমাবেশ বিএনপির ঐক্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে দল ও অঙ্গসংগঠন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট স্থগিত, ইসির পরিপত্র জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট স্থগিত, ইসির পরিপত্র জারি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইসি এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার জন্য ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন ও সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসনসংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন।

তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

এরপর ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


‘সাহেব সিন্ডিকেট’ ছাড়া দুবলার চরে শুঁটকি বিক্রি মানা

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

‘সাহেব সিন্ডিকেট’ ছাড়া দুবলার চরে শুঁটকি বিক্রি মানা

সুন্দরবনের দক্ষিণাংশে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা একটি অনন্য দ্বীপের নাম দুবলার চর। বাগেরহাটের শরণখোলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যে ঘেরা দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এ সুযোগ নিয়ে শুঁটকি মাছ কেনাবেচা ঘিরে সেখানে গড়ে উঠেছে ‘সাহেব সিন্ডিকেট’। তারা ছাড়া অন্য কেউ শুঁটকি বিক্রি করতে পারেন না। পর্যটকদের পকেট কেটে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দুবলার চর গিয়ে এ সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া যায়। জেলেদের অভিযোগ ও ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতির বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি কেজি লইট্টা ও ছুরি শুঁটকিতে ২-৪শ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে সিন্ডিকেট কারসাজির মাধ্যমে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকা ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

শুঁটকি মাছ কেনাবেচা ঘিরে সেখানে গড়ে উঠেছে ‘সাহেব সিন্ডিকেট’। তারা ছাড়া অন্য কেউ শুঁটকি বিক্রি করতে পারেন না। পর্যটকদের পকেট কেটে তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।-দুবলা নিউমার্কেট ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল আহম্মদ

পর্যটক ও স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, বনবিভাগের সহযোগিতায় ‘সাহেব’ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রভাবশালী মধ্যস্বত্বভোগী মিলে এ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে এসব সিন্ডিকেট সদস্য পর্যটকদের কাছে কয়েকগুণ বেশি দামে শুঁটকি বিক্রি করছেন। একদিকে স্থানীয় সাধারণ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ঠকছেন পর্যটকরা। এতে সুন্দরবন ঘিরে গড়ে ওঠা হাজার কোটি টাকার পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুঁটকি উৎপাদনের জন্য দুবলার চর দেশের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নভেম্বর থেকে মার্চ সময়টিতে মূলত শুঁটকি উৎপাদন ও বেচাকেনা চলে। প্রতি বছর শীত মৌসুমের এ সময়টিতে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে হাজারো জেলে দুবলার চরে গিয়ে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। সাগর থেকে ধরা লইট্টা, ছুরি, ফাইস্যা, পোয়া, টেংরা, তপসি, চাপিলা, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। বাঁশের মাচায় খোলা রোদে মাছ শুকিয়ে প্রস্তুত করা এসব শুঁটকি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়।

গত ১৩ জানুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়, দুবলার চরের জেলেপল্লিতে জেলেদের শত শত অস্থায়ী ঘর। সামনে মাছ শুকানোর মাচা। তবে সময়টিতে মাছের জোগান না থাকায় মাচাগুলোতে তেমন মাছ ছিল না। জেলেপল্লির সামনে সৈকত লাগোয়া চরে চারটি অস্থায়ী দোকানে শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে।

এখানে আগে থেকেই আটটি ট্রান্সপোর্ট ছিল। এবছর থেকে পর্যটকদের মধ্যে ট্রান্সপোর্টগুলোর মাধ্যমে শুঁটকি বিক্রি করা হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে বনবিভাগ থেকে এর মধ্যে চারটি ট্রান্সপোর্টকে শুঁটকি বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি শুঁটকিতে সাড়ে ১১ টাকা রাজস্ব আসে।- বনবিভাগের দুবলা জেলেপল্লি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায়

সূর্য ততক্ষণে অস্ত গেছে। পর্যটকদের জাহাজে ফেরার তোড়জোড়। শেষ মুহূর্তে দোকানগুলোতে ভিড় করেন আগ্রহী পর্যটকরা। দোকানি যে দামই চাইছেন, তড়িঘড়ি করে সে দামেই শুঁটকি কিনছেন তারা। অনেক পর্যটক শুঁটকির দাম সম্পর্কে অবগত না থাকলেও যারা নিয়মিত শুঁটকি খান, দুবলার চরে শুঁটকির দাম শুনে তারা হতবাক। খুলনা কিংবা চট্টগ্রামে খুচরা দোকানে যে দামে শুঁটকি বিক্রি হয়, একই শুঁটকি দুবলার চরের ওই চার দোকানে বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি দামে।

ঠকছেন জেলেরা

দুবলার জেলেপল্লির বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয় বার্তাবেলা নিউজের। জেলেদের অভিযোগ, তারা উৎপাদন পর্যায়ে ন্যায্যমূল্য পান না। কিন্তু সিন্ডিকেট করে পর্যটকদের কাছে সেই শুঁটকি অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। পর্যটকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ভাগবাটোয়ারা হয় সিন্ডিকেট সদস্য ও বনবিভাগের মধ্যে।

সাতক্ষীরার তালা থানা এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত বিশ্বাস শুঁটকি মৌসুমে পাঁচ মাসের জন্য অন্য জেলেদের মতো দুবলার চরে যান। বনবিভাগ থেকে অনুমতি নেওয়া লোকদের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। আগের বছরগুলোতে শুকানো শুঁটকি দুবলার চরে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছেও বিক্রি করতে পারতেন। তাতে কিছুটা লাভবান হতেন মাছ শুকানোয় জড়িত জেলেরা। পর্যটকরাও বাজারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে শুঁটকি কিনতে পারতেন। তবে চলতি মৌসুম থেকে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না পর্যটক ও সাধারণ জেলেরা।

প্রশান্ত বিশ্বাস বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যটকদের কাছে সরাসরি মাছ (শুঁটকি) বিক্রি করতে পারি না। এবছর সাহেবদের দোকানে শুঁটকি বেচাকেনা করতে হবে। দুবলায় চার-পাঁচজন সাহেব আছেন। কামাল সাহেব, পিন্টু সাহেব, হক সাহেব আছে। তাদের দোকান ছাড়া পর্যটকরা শুঁটকি কিনতে পারবে না। আমরাও পর্যটকদের কাছে সরাসরি শুঁটকি বিক্রি করতে পারবো না।’

তারা অতিরিক্ত দাম নিলেও নিতে পারেন। কিন্তু রাজস্বের বাইরে আমরা কিছু দেখি না। যে দোকানগুলো বসেছে, তারাই (ট্রান্সপোর্ট মালিক) আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন যেহেতু একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ আসছে, সেখানে আরও কিছু দোকান বসানোর কথা বলবো।- বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

তৈরি শুঁটকি কোথায় পাঠানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামে শুঁটকি পাঠাই। ছোট সাইজের ছুরি শুঁটকি ৪শ, ৫শ, ৬শ টাকা, মাঝারি ৮শ থেকে এক হাজার টাকা বিক্রি হয়। এখানকার সাহেবদের দোকানগুলোতে অধিক দামে বিক্রি হয়। এতে সাধারণ জেলেরা লাভবান হতে পারছেন না।’

জেলে মাধব দাশ বলেন, ‘দুবলার চর থেকে শুধু পর্যটকেরা শুঁটকি কেনেন, তা কিন্তু নয়। এখান থেকে শুঁটকি চট্টগ্রাম, সৈয়দপুরসহ নানান জেলায় পাইকারি পাঠানো হয়। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে মাছের দাম বাড়ে কমে। নদীতে মাছ কম পাইলে দাম বেশি হয়। বেশি পাইলে দাম কম হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ বছর থেকে জেলেদের চাতাল থেকে সরাসরি পর্যটকদের কাছে শুঁটকি বিক্রি নিষেধ হয়ে গেছে। আমরা যারা মাছ শুকাই তারা বিক্রি করতে পারব না। এখন পর্যটকদের শুঁটকি বিক্রির জন্য আলাদা দোকান বরাদ্দ হয়েছে। নির্ধারিত ওই দোকানগুলো থেকে পর্যটকদের শুঁটকি কিনতে হবে।’

জেলে মিলন বিশ্বাস বলেন, ‘এখানকার চারটি দোকানে জেলেদের কাছ থেকে মণ ২০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। বড় ছুরি মাছ আমাদের কাছ থেকে নিলে ৭শ ৮শ, ৯শ টাকা, মাঝারি ছুরি ৬শ-৭শ টাকা। এখন সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। ছোট-মাঝারি ছুরি বিক্রি করছে ৮শ থেকে ১২শ টাকায়।’

আরেক জেলে পিযুষ বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাতক্ষীরা থেকে এসেছি মাছ ধরতে। এবার আমরা ১২ লাখ টাকা খরচ করে এখানে পৌঁছেছি। এখানে আসার তিনদিন পর জেনেছি এখানে সিন্ডিকেট হয়েছে। সিন্ডিকেটের লোকজন বাসা তৈরি করে স্পেশালভাবে মাছ বিক্রি করছে। আগে পর্যটকদের কাছে আমরা মাছ বিক্রি করতে পারতাম। এখন বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা।’

তিনি বলেন, ‘এখন সাহেবরা (প্রভাবশালীরা সাহেব হিসেবে পরিচিত) মাছ বিক্রি করেন। উচ্চ লেবেলের সাহেবরা মিলে সিন্ডিকেট করেছেন। টোকন সাহেব, কামাল সাহেব, সব সাহেবরা মিলে সিন্ডিকেট করেছেন। গত বছর যে দামে পর্যটকদের কাছে মাছ বিক্রি করেছি, এবছর বিক্রি করতে পারছি না। আমরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত। পর্যটকরা আগের বছর ৪শ-৫শ টাকায় যে মাছ কিনেছে, এবছর কিনতে হচ্ছে এক হাজার টাকায়। তারাও (পর্যটকরা) মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে।’

ছোট একটি গাগড়া টেংরা শুঁটকি দেখিয়ে পিযুষ বলেন, ‘এই মাছ কেজি একশ টাকায় কিনে দোকানগুলোতে ৪শ টাকায় বিক্রি করছে। তারা সিন্ডিকেট করে বিক্রি করছে। একই মাছ আমরা দেড়শ-দুইশ টাকায় বিক্রি করতাম।’

মৌসুমে ২ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন সুন্দরবন

শীত মৌসুমে সুন্দরবনে ট্যুর পরিচালনাকারীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) তথ্যমতে, সুন্দরবনে পর্যটকদের সেবা দেয় ৮০টির মতো জাহাজ। নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত তারা ট্যুর পরিচালনা করে। বনবিভাগের নিয়ম অনুযায়ী একটি জাহাজ এক ট্রিপে ৭৫ জনের বেশি পর্যটক নিতে পারেন না। চাহিদা অনুসারে সপ্তাহে দুটি ট্যুর পরিচালনা করে জাহাজগুলো। দুই লাখের মতো পর্যটক প্রতি মৌসুমে সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে কমবেশি একলাখ পর্যটক দুবলার চর ভ্রমণে যান।

সুন্দরবনে বড় ট্যুর পরিচালনাকারী হলিডেজ শিপিং লাইনস। তাদের দুটি উন্নত ক্রুজ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবুল ফয়সাল মো. সায়েম বাবু টোয়াসের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দুবলার চরে শুঁটকি সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুন্দরবন ট্যুরে ৭০টি জাহাজ রয়েছে। প্রতি সিজনে কোনো কোনো জাহাজ ৪০টির মতো ট্যুর করে। প্রতি ট্যুরে ৭০ জনের মতো পর্যটক থাকে। সুন্দরবনে গেলে পর্যটকেরা দুবলার চরে যান।’

তিনি বলেন, ‘দুবলায় আগে যে লইট্টা মাছ ৩শ টাকায় বিক্রি হতো, এবার সেটা সাড়ে ৭শ-৮শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দুবলায় যাওয়া পর্যটকরা অতিরিক্ত দামে শুঁটকি কিনে প্রতারিত হচ্ছে। এখন দেশে নির্বাচনের হাওয়া চলছে। নির্বাচনের পরপরই আমরা বিষয়টি বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সিন্ডিকেট বন্ধের দাবি জানাবো।’

চার দোকান ছাড়া বিক্রি করতে পারে না শুঁটকি

চলতি মৌসুমে দুবলার চরে চারটি দোকানে পর্যটকদের কাছে শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে। সেগুলো হলো- সাগর ট্রান্সপোর্ট, মেসার্স সুন্দরবন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, সুন্দরবন সাউথ জোন ট্রান্সপোর্ট ও মেসার্স নিউ রামপাল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি। জাগো নিউজের হাতে আসা সাগর ট্রান্সপোর্টের একটি রসিদে লেখা রয়েছে- ‘দুবলার চরে রসিদ ব্যতীত শুঁটকি ক্রয় আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

সাড়ে ১১ টাকা রাজস্বের জন্য শুঁটকির দামে অস্থিরতা

দুবলা নিউ মার্কেট ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল আহম্মদ। রসিদে ‘প্রোপ্রাইটর বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহম্মদ’ লেখা রয়েছে। কামাল আহম্মদের ভাষ্য- দুবলায় তার নিজের তিনটিসহ ছয়টি পরিবহন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাগর ট্রান্সপোর্ট ও মেসার্স সুন্দরবন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি ও বিলাস ট্রান্সপোর্টের মালিক তিনি।

দোকানগুলোতে কোরাল, রূপচাঁদা শুঁটকি প্রতি কেজি ৪ হাজার টাকা, লইট্টা ৮শ থেকে ১১শ টাকা, ছোট ছুরি শুঁটকি ১ হাজার থেকে ১৪শ টাকা, বড় চিংড়ি ১৩শ টাকা, ছোট চিংড়ি পোনা ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ পর্যটক লইট্টা ও ছুরি শুঁটকিই কেনেন।

কামাল আহম্মদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘দুবলায় প্রতি বছর এক লাখ পর্যটক বেড়াতে যান। কেউ এক কেজি, দুই কেজি, পাঁচ কেজি শুঁটকি কেনেন। বনবিভাগের হিসাব মতে, বছরে ৪-৫ লাখ কেজি শুঁটকি পর্যটকরা কিনে নেন। তাতে কোনো রাজস্ব পায় না সরকার। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুবলায় উৎপাদিত শুঁটকির প্রতি কেজিতে সাড়ে ১১ টাকা সরকারি রাজস্ব রয়েছে। পর্যটকদের কাছে বিক্রি হওয়া শুঁটকির বিশাল অংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবছর বনবিভাগ থেকে আমাদের চারটি ট্রান্সপোর্টকে শুঁটকি বিক্রির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

জেলেদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দুবলায় বনবিভাগের অনুমোদিত ৫-৬শ অস্থায়ী ঘর রয়েছে। এতে নৌকা আছে এক হাজার থেকে ১২শ। দুবলায় যাওয়া ৯০ শতাংশ জেলের নিজেদের কোনো মূলধন নেই। ব্যবসায়ী, পাইকার ও সমিতি-এনজিও থেকে জেলেদের অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। আগের বছরগুলোতে পর্যটকদের কাছে শুঁটকি বিক্রিতে অরাজকতা ছিল। বেশি দাম নিতো। সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য এবার জেলেদের সরাসরি শুঁটকি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

‘অন্যখাতে বনবিভাগকে আলাদা টাকা দিতে হলেও পর্যটকদের কাছে বিক্রি শুঁটকিতে আলাদা টাকা দিতে হয় না বলে দাবি করেন তিনি। বলেন- ‘প্রতি কেজি শুঁটকিতে খরচ বাদে ১০০ টাকা লাভ থাকলে হয়। সে হিসাবে দোকানের লোকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা হলে বনবিভাগের দুবলা জেলেপল্লি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘এখানে আগে থেকেই আটটি ট্রান্সপোর্ট ছিল। এবছর থেকে পর্যটকদের মধ্যে ট্রান্সপোর্টগুলোর মাধ্যমে শুঁটকি বিক্রি করা হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে বনবিভাগ থেকে এর মধ্যে চারটি ট্রান্সপোর্টকে শুঁটকি বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি শুঁটকিতে সাড়ে ১১ টাকা রাজস্ব আসে। পর্যটকরা শুঁটকি কিনলে দোকানগুলোতে রসিদ দেওয়া হয়। রসিদ বইগুলো বনবিভাগ থেকে যাচাই করে দেওয়া হয়। বই থেকে হিসাব করে রাজস্ব আদায় করা হয়।’ তবে বেশি দামে শুঁটকি বিক্রির বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ওখানে শুঁটকি কেনাবেচার জন্য অনেকের আগে থেকেই পারমিট আছে। এবার শুধু খুচরা বিক্রির জন্য দোকানগুলো দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের কাছে বিক্রি করা শুঁটকির রাজস্ব আমাদের দেন। এর বাইরে কোনো সুবিধা বনবিভাগ নেয় না।’

দোকানগুলোতে বাজারের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নিতে পারেন- এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তারা অতিরিক্ত দাম নিলেও নিতে পারেন। কিন্তু রাজস্বের বাইরে আমরা কিছু দেখি না। যে দোকানগুলো বসেছে, তারা তারাই (ট্রান্সপোর্ট মালিক) আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন যেহেতু একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ আসছে, সেখানে আরও কিছু দোকান বসানোর কথা বলবো।’


আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।