শেয়ার বাজার

দরিদ্র পরিবারের মাঝে আাজিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

দরিদ্র পরিবারের মাঝে আাজিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের ইফতার সামগ্রী বিতরণ

রাউজান প্রতিনিধি:  পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন রাউজানের সমাজ সেবী সংগঠন আজিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের। 

গতকাল ৯ মার্চ শনিবার বিকালে রাউজান পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের হাজী পাড়ায় এই ইফতার সামগ্রী বিতরন করা হয় । প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব শাহাজাহান ইকবালের সভাপতিত্বে ও রাউজান পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ রাসেলের সঞ্চলনায় অনুষ্টিত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি । 

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, রাউজান থানার ওসি জহিদ হোসেন, রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি কামরুল হাসান বাহাদুর, রাউজান পৌরসভ্রা কাউন্সিলর বশির উদ্দিন খান,এডভোকেট সমীর দাশ গুপ্ত,জানে আলম জনি, জসিম উদ্দিন চৌধুরী,চেয়ারম্যান বিএম জসিম উদ্দিন হিরু, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ প্রমুখ । রাউজান পৌরসভার ৬,৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড ৭নং রাউজান ইউনিয়ন ও ডাবুয়া ইউনিয়ন, চিকদাইর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন।

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৫

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেঁচে নেই পাইলট

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বেঁচে নেই।তার মৃত্যুর বিষয়টি যুগান্তরকে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।আহত ও দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থালে সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অর্ধশতাধিক আহত ও দগ্ধকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসেছে। সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তাদের মধ্যে একজন মৃত। দগ্ধদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈমানিকের বিষয়েও কোনো তথ্য এখনো দেয়নি আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর। 

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনীর ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমানটি সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়।

স্কুলের একটি অ্যাকাডেমিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। অনেক দূর থেকেও সেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। জ্বলন্ত উড়োজাহাজটির আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট।


অধ্যাদেশ জারি
ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এ অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।

যে অপরাধে যে শাস্তি

অধ্যাদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অপরাধগুলোকে অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের একই প্রকৃতির অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের বিধান অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধভাবে ভরাট করা মাটি ও স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে হবে জোনিং ম্যাপ

সরকার কৃষিভূমি সুরক্ষা এবং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করবে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মৌজা, দাগ বা নির্দিষ্ট সীমারেখা অনুযায়ী জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

জোনিং ম্যাপ একযোগে পুরো দেশের জন্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে প্রণয়ন করা যাবে। ম্যাপ তৈরির সময় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে এ ভূমি জোনিং ম্যাপ করা হবে। জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী ও খাল অঞ্চল, জলাশয়, জলাধার ও জলাভূমি অঞ্চল, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও রক্ষিত এলাকা অঞ্চল, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড় ও টিলা অঞ্চল, পতিত ভূমি অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চল।

খসড়া জোনিং ম্যাপ প্রস্তুত হলে জনসাধারণের মতামত জানার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ডেটা সংরক্ষণের ওয়েবলিংক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে তা প্রকাশ করা হবে। বিধি অনুযায়ী ফি দিয়ে যে কেউ খসড়া ম্যাপের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি এসব কার্যালয়ে খসড়া ম্যাপ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে কেউ খসড়া ম্যাপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি বা মতামত জেলা প্রশাসকের কাছে দিতে পারবেন। এসব আপত্তি বা মতামত নিষ্পত্তির জন্য জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। জেলা কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন নেবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানি করবে এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে।

জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করা যাবে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করবে এবং সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত জোনিং ম্যাপ প্রকাশ করবে।

সরকার স্পারসোর সহায়তায় ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জোনিং ম্যাপের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করবে এবং প্রতি ১০ বছর অন্তর ম্যাপ হালনাগাদ করবে। জোনিংয়ের পর স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং জোনিং ম্যাপের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। এ কাজে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ, আইটি, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ, কৃষি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ, আইন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

খসড়া জোনিং ম্যাপের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হবে। 

কৃষিভূমি সুরক্ষা

অধ্যাদেশে বলা হয়, জোনিংয়ের ভিত্তিতে কৃষিভূমি সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করা যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা অকৃষি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চল না হলেও দুই বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ থাকবে এবং এক ও দুই ফসলি জমিতেও ধাপে ধাপে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

জাতীয় প্রয়োজনে জ্বালানি, খনিজ বা প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণের শর্তে সীমিত পরিমাণ কৃষিভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মোট কৃষিভূমির ১০ শতাংশের বেশি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা বা জলাধারের উপরিভাগের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার বা জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা কিংবা প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করা যাবে না। এসব কাজে জড়িত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

সরকার উপকূলীয় ও সাগরসংলগ্ন ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি অনুযায়ী কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

কৃষিভূমিতে আবাসন-অবকাঠামো নির্মাণ

সরকারি বা বেসরকারি সব প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অধ্যাদেশের বিধান মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অনুমতি সাপেক্ষে কেউ নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয়, কবরস্থান, গুদামঘর, পারিবারিক পুকুর বা কুটির শিল্প স্থাপন করতে পারবেন। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাতিল করা যাবে। অনুমতি ছাড়া কৃষিভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা, জলাধার ও জলাভূমি ছাড়া অন্য জমির জোন পরিবর্তন বা জোনিং বহির্ভূত ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, পরিবেশ ও এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।


মেগা প্রকল্পে বিরল ঘটনা: মেয়াদ বাড়ছে, ব্যয় কমছে!
কাজ শুরুতেই চমক ৬০০ কোটি টাকা কমে গেল সিলেট-শেওলা প্রকল্পের ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬

কাজ শুরুতেই চমক ৬০০ কোটি টাকা কমে গেল সিলেট-শেওলা প্রকল্পের ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে ব্যয়ও বেড়ে যায়। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে। প্রকল্পটির কাজ বিলম্বে শুরু হলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় কমেছে।

সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির পূর্ত কাজের জন্য ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে। অথচ একই কাজের জন্য পূর্বে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বনিম্ন দরদাতাদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ তিনটি পৃথক লটে বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ৪৭টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতাদের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

প্রথম লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের মনিকো লিমিটেড ও চীনের চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এ লটের কাজের মূল্য ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় লটের কাজ বাস্তবায়ন করবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)। এ লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তৃতীয় লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের এনডিই এবং চীনের আরবিসিজির যৌথ উদ্যোগ। এ অংশের কাজের মূল্য ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ, উভয় পাশে দুটি সার্ভিস লেন, ৩১টি কালভার্ট, ৩টি সেতু, একাধিক ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি একটি টোল প্লাজাও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ৬০০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি ৩০০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রানাপিং ও রামধা বাজার এলাকায় আরও দুটি ফ্লাইওভার এবং কুশিয়ারা নদীর ওপর বর্তমান শেওলা সেতুর পাশে নতুন চার লেনের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আগস্টের আগেই এ কাজ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমাসহ মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে শেওলা স্থলবন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।