শেয়ার বাজার

ইচ্ছে পূরণ না হওয়ায় কোন পথে হাঁটছে মাহিয়া মাহি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ইচ্ছে পূরণ না হওয়ায় কোন পথে হাঁটছে মাহিয়া মাহি

ভেবেছিলেন নেত্রী হবেন, নির্বাচনে জেতার আগেই অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হারতেই বিপাকে পড়ে কোন সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হলেন অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি।

সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দাঁড়ান বাংলাদেশি অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। নির্দল প্রার্থী হয়ে রাজশাহী-১ আসন থেকে ট্রাক চিহ্নে নির্বাচন লড়েন। কিন্তু নায়িকার নেত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হল না। তবে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ভোটারদের কাছে একের পর এক অঙ্গীকার করেছিলেন মাহিয়া মাহি। ভোটে জিতলে আর অভিনয় করবেন না বলেও ঘোষণা করে দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে জিততে পারেননি মাহি। ফের অভিনয় জীবনেই ফিরতে চাইছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত এই নায়িকা।

নির্বাচনের জন্য বেশ ক’দিন রাজশাহীতে ছিলেন তিনি। তবে হারতেই ঢাকায় ফেরেন। সম্প্রতি মাহি বলেন, ‘‘আমি সংসদ অধিবেশন নির্বাচিত হলে, এলাকার মানুষের পাশে থাকা, রাজনৈতিক কর্মসূচি— নানা বিষয়ে ব্যস্ত থাকতে হত। তাই নির্বাচনী প্রচারের সময় বলেছিলাম, নির্বাচনের পর অভিনয় ছেড়ে দেব। আসলে অভিনয় করার সময়ই তো পেতাম না নির্বাচিত হলে। 

এখন এলাকার মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়া ছাড়া তেমন কাজ নেই। আমি আগের মতো সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে থাকতে চাই। তার জন্য সপ্তাহে এক-দু’দিনই যথেষ্ট। বাকি দিন আর কী করব? ঠিক করেছি, বাকি দিনগুলোতে শুটিং-ডাবিং-অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকব।’’

অভিনয়ে ফিরতে চান মাহি খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাকি চারটি ছবির প্রস্তাবও পেয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে এখনও কোনও চিত্রনাট্যই চূড়ান্ত করতে পারেননি নায়িকা। মাহি বলেন, ‘‘আমি ছবিটিতে অভিনয় করব এটা নিশ্চিত। তবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরই সব কিছু জানাতে চাই।’’ তাঁর ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবিটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

চিত্রনায়ক শাকিব খানের প্রতিষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত অপু বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

চিত্রনায়ক শাকিব খানের প্রতিষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত অপু বিশ্বাস

বার্তাবেলা বিনোদন: আজ থেকে করপোরেট জগতে ব্যবসায়ী হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। আজ শনিবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে একেবারে ভিন্ন এক পরিচয়ে হাজির হয়েছেন শাকিব। এবার করপোরেট জগতে যাত্রা শুরু করলেন তিনি। কসমেটিকস উৎপাদনকারী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রিমার্ক–এর পরিচালক হয়েছেন শাকিব খান।

আগে থেকেই শাকিব খানের এ প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত তাঁর সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। এক বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠানটির দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা রিমার্কের হারল্যান স্টোরের উদ্বোধন করছেন তিনি। বরিশাল, ময়মনসিংহ, ফেনী, সাতক্ষীরা, জামালপুর, কুমিল্লা, ভোলাসহ দেশের আরও কিছু জায়গায় স্টোর উদ্বোধন করেছেন তিনি। গত ১২ জানুয়ারি রাজধানীর আফতাবনগরের আবাসিক এলাকায় নিজের বুটিক হাউস ও রেস্টুরেন্টের সঙ্গে একটি হারল্যান স্টোরের মালিকানাও নেন অপু।

অপু বিশ্বাসের ব্যবসায়ী পরিচয়কেও স্বাগত জানিয়েছেন শাকিব খান। এ প্রসঙ্গে ১২ জানুয়ারির ওই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের অপু বলেন, ‘আমার ওপর শাকিবের আস্থা, ভরসা অনেক বেশি। ও জানে, আমি কিছু করতে চাইলে সেটা নিশ্চয়ই পারব। তা ছাড়া আমার সব ভালো কাজ আর সফলতার পেছনে শাকিবের দোয়া, ভালোবাসা, আশীর্বাদ থাকে। তাই তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

প্রসঙ্গত, ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি ছিল শাকিব খান–অপু বিশ্বাস। হঠাৎ করেই ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় হঠাৎ প্রকাশ্যে আসেন এক টিভি অনুষ্ঠানে। তখনই জানান, শাকিব খানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে, জয় তাঁদেরই সন্তান। সেসময় এই চিত্রনায়িকা বলেছিলেন, শাকিবের আপত্তিতেই বিয়ে ও সন্তান হওয়ার খবর চেপে রেখেছিলেন তিনি।

পরে শাকিবও সেই বিয়ের কথা স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তখন গুঞ্জন ছিল, শাকিবের অন্য সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়া দেখে বিয়ে–সন্তানের খবর প্রকাশ করে দিয়েছিলেন অপু। এমন নানা আলোচনার মধ্যে নয় মাসের মাথায় বিচ্ছেদ ঘটে অপু–শাকিবের।

ছয় বছরের বেশি সময় আগে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস ও শীর্ষ নায়ক শাকিব নিজেদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করেননি। বরং ছেলেকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিদেশে একসঙ্গে ঘোরাঘুরি ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের কাজ নিয়ে প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার অপুর যুক্ত থাকা প্রতিষ্ঠানে শাকিব খানের পরিচালক হিসেবে যুক্ত হওয়া তাঁদের সম্পর্কের উন্নতিরই আভাস।

এর মধ্যে গত বছর সাবেক স্ত্রী অপু এবং ছেলে জয়কে নিয়ে শাকিব খানের যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে বেড়ানোর খবর সামনে আসে। ইনস্টাগ্রামে ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে শাকিব তুলে ধরেন ছেলের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা। জয়–শাকিব–অপুর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের অনেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ভক্ত–অনুরাগীরা দেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডায়ও জয়কে সঙ্গে নিয়ে শাকিব–অপুকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

সন্তানকে নিয়ে ঘোরাঘুরির ব্যাপারটি শাকিব–অপুর ভক্ত–শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। অপু বিশ্বাসও বেশ কিছুদিন ধরে শাকিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতিবাচক কথা বলে আসছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে অপু এমনও বলছেন, ‘এই জীবনে তাঁর যা অর্জন, মা–বাবার পর এর পুরো কৃতিত্ব শাকিব খানের।’ অপু এ–ও জানিয়েছেন, ঈদে মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘লাল শাড়ি’ ছবির শুটিংয়ে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন শাকিব।

উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস ছাড়াও রিমার্ক গ্রুপের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত আছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, চিত্রনায়িকা পরীমণি, নুসরাত ফারিয়া ও বিদ্যা সিনহা মিম। এর সঙ্গে হারল্যান স্টোরের নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে আছেন চিত্রনায়ক মামুনুন ইমন।


গণমাধ্যম হবে সত্য প্রকাশের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম-- সিসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

গণমাধ্যম হবে সত্য প্রকাশের  নির্ভরযোগ্য মাধ্যম-- সিসিক প্রশাসক

গণমাধ্যম হবে সত্য প্রকাশের  নির্ভরযোগ্য মাধ্যম-- সিসিক প্রশাসক, সিলেটে এশিয়া পোস্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক ? বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে অনলাইন গণমাধ্যম ‘এশিয়া পোস্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ মিলনায়তনে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "গণমাধ্যম হবে সত্য প্রকাশের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা নিয়েই আমরা গণতন্ত্র উত্তরণের পথে এগিয়ে চলেছি। ডিজিটাল যুগে 'এশিয়া পোস্ট' আধুনিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা করবে বলে আমার বিশ্বাস।"
তিনি আরও যোগ করেন, "অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন করে সমাজে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়। আমি আশা করি, এশিয়া পোস্ট বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি এশিয়া পোস্টের সফলতা কামনা করে বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানুষকে আলোর পথ দেখায়। আমরা প্রত্যাশা করি, এশিয়া পোস্ট নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”

সিলেট ব্যুরো প্রধান শুয়াইবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ব্যুরো প্রধান ইকবাল সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি ও সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবির, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেটের স্কুল পরিদর্শক আবু মূসা মো. তারেক।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সিলেট ম্যানেজার ও নারী উদ্যোক্তা সেলিনা চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমেদ, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি বদরুদ্দোজা বদর, দৈনিক সিলেট মিররের সম্পাদক জিয়াউস শামস শাহীন, সিনিয়র সাংবাদিক ও চ্যানেল এস-ইউকে’র বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল মালিক জাকা, দৈনিক ইত্তেফাকের সিলেট ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আব্দুল কাদের তাপাদার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সিলেট ব্যুরো প্রধান, গল্পকার সেলিম আউয়াল, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, সিসিএস-সিলেটের আহ্বায়ক ইমদাদুল হক জীবন, সিনিয়র সাংবাদিক নূর আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাব সদস্য জুনেদ আহমদ চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল নোমান, জেনারুল ইসলাম, মাসুম আহমদ চৌধুরী, কানন চন্দ, শংকর দাস, শামীম আহমদ, শাকিল আহমেদ, জিএইচ সুফিয়ান, তাহমিদ আহমেদ, মাজেদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, তারেক মাহমুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন।


রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

রেলস্টেশনে পাওয়া মেয়েটির নতুন জীবনের শুরু

মাত্র চার বছর বয়স। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে পারত না ছোট্ট মেয়েটি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে একদিন তাকে অসহায় অবস্থায় পাওয়া যায়। কোথা থেকে এসেছে, কার মেয়ে—কেউ জানত না। হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটির চোখে ছিল ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্ক।

সেই ছোট্ট শিশুটির নাম স্বপ্না আক্তার। রেলস্টেশনে পাওয়ার ১৪ বছরের পর বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তিনি। যে প্রতিষ্ঠান একদিন তাকে আশ্রয় দিয়েছিল, সেই প্রতিষ্ঠানই আজ হয়ে উঠল তার নতুন জীবনের সূচনার সাক্ষী। বিয়ের পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ। কোথাও কোনো ঘাটতি ছিল না। সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুই ছিল একটি স্বাভাবিক পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতোই। উপস্থিত অনেকের চোখেই তখন জল। কারণ, পরিবারহীন এক মেয়েকে ঘিরে এত মানুষের ভালোবাসা সত্যিই বিরল দৃশ্য।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রেলস্টেশন থেকে স্বপ্নাকে উদ্ধার করার পর তাকে আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ধীরে ধীরে লেখাপড়া শিখে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, “স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।”

পাত্রও সিলেটেরই সন্তান। তিনি ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়ের আয়োজনকে ঘিরে এগিয়ে আসেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করে রাখা হবে। স্থানীয় এক ব্যক্তি উপহার দিয়েছেন প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। এমনকি একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান উপহার হিসেবে দেয় ১০০ কাপ দই।

সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন ছিল আনন্দমুখর ও হৃদয়স্পর্শী। কেউ বুঝতেই পারেননি, এটি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক তরুণীর বিয়ে। বরং মনে হচ্ছিল, বহু আদরে বড় হওয়া কোনো মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমার খুবই ভালো লেগেছে। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল।”
তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, ঝুঁকিতে থাকা ও পিতৃহীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়, ভরণপোষণ এবং পুনর্বাসন সেবা দিয়ে আসছে। স্বপ্না আক্তারের গল্প সেই মানবিক উদ্যোগেরই এক জীবন্ত উদাহরণ।