শেয়ার বাজার

নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংসদে কথা বলবো : এমপি এমরান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে সংসদে কথা বলবো : এমপি এমরান চৌধুরী

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট রেড ক্রিসেন্ট মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- সেবা ও মানবতার মহান ব্রত নিয়ে নার্সরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান তা অতুলনীয়। একটি সুস্থ জাতি গঠনে দক্ষ ও ক্ষমতায়িত নার্সের বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আমাদের নার্সিং পেশাকে আরও সম্মান ও গুরুত্ব দিতে হবে।

সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের উদ্যোগে ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার (১২ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের চৌহাট্টাস্থ কলেজ নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি আরও বলেন- বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নার্সরাই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের নার্সিং সেবার মান আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে কথা বলবো ইনশা আল্লাহ। 

সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ রেনোয়ারা আক্তারের সভাপতিত্বে ও সৌরভ বিশ্বাস এবং অনামিকা চন্দ-এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি ও নার্সিং কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুলাহ মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাইদ মো. ইব্রাহিম, সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জীবন, মুজিব জাহান রেড ক্রিসেন্ট ব্ল্যাড ব্যাংকের পরিচালক ডা. তৌহিদ চৌধুরী এবং রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।
আরও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের অধ্যাপক মাকসুদা খাতুন, সহকারী অধ্যাপক আসমা বেগম, পূজা আচার্য সহ কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং নার্সিং শিক্ষার্থী।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় এবং কেক কাটা হয়।

পাকস্থলী-পিত্তথলির ক্যান্সার বেশি তরুণী ও মধ্যবয়সী নারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৩

পাকস্থলী-পিত্তথলির ক্যান্সার বেশি তরুণী ও মধ্যবয়সী নারীদের

দেশের মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ ক্যান্সার। বছরে এক লাখেরও বেশি মানুষ এ রোগে মারা যায়। দেহের স্থানভেদে কর্কট রোগ হয় বিভিন্ন প্রকার। আবার এক ক্যান্সারেরই রয়েছে অনেক ধরন। এর মধ্যে তরুণী এবং মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের মাঝে পাকস্থলী ও পিত্তথলির ক্যান্সারে আক্রান্তের হার প্রতিনিয়তই বাড়ছে। বিশেষ করে এ বয়সী নারীর মধ্যে এর আক্রান্ত ও মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচারের পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি এ রোগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) গত মার্চে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস অ্যান্ড রিলেটেড ডিজিজেস রিপোর্ট’ শিরোনামে এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশের সব বয়সী নারী-পুরুষের ৩৩টি ক্যান্সারের বিভাজন দেখিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১৫-৪৪ বছর বয়সী নারীর মধ্যে পাকস্থলী ও পিত্তথলির ক্যান্সারে আক্রান্তের হার বেশি। এ রোগে তাদের মৃত্যুও বেশি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। 

আইএআরসি বলছে, ১৫-৪৪ বছর বয়সী প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ২ দশমিক ৬৭ জন পিত্তথলির ক্যান্সারে ভোগে, যেখানে পুরুষের আক্রান্তের হার শূন্য দশমিক ৪৭। একইভাবে প্রতি লাখে মৃত্যু হচ্ছে ২ দশমিক শূন্য ৮ নারীর ও শূন্য দশমিক ৩৭ পুরুষের। পাকস্থলীর ক্যান্সারেও এ বয়সী নারীর আক্রান্তের হার পুরুষের চেয়ে বেশি। প্রতি লাখে ১ দশমিক ৩৭ পুরুষ এ রোগে ভুগলেও নারী আক্রান্ত হচ্ছে ১ দশমিক ৫৭ জন। একইভাবে প্রতি লাখে শূন্য দশমিক ৮৩ জন পুরুষের বিপরীতে মৃত্যু হচ্ছে ১ দশমিক ১৩ নারীর। 

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) বলছে, পাকস্থলীর যেকোনো অংশে ক্যান্সার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কতটা গুরুতর তা নির্ভর করে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তার ওপর। পিত্তথলির ক্যান্সারও খাদ্যের পরিপাকে বিশেষ ভূমিকা রাখা এ অঙ্গের যেকোনো অংশে পাওয়া যেতে পারে। 

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) ক্যান্সার রোগতত্ত্বের সাবেক অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, খাওয়াদাওয়ার ব্যাপার আছে। খুব স্পাইসি খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। অ্যাসিডিটির সঙ্গে সম্পর্ক আছে। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ায় সৃষ্ট সংক্রমণের কারণে পাকস্থলীর ক্যান্সার হতে পারে। তারপর অ্যালকোহলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। অনেক সময় গলব্লাডারে স্টোন (পিত্তথলিতে পাথর) হয়, সেটা থেকেও সংক্রমণ হয়। নারীদের ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনাচার ও খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক রয়েছে।’

সব বয়সী নারী ও পুরুষের মধ্যে ক্যান্সার বিভাজনের ক্ষেত্রে আইএআরসি বলেছে, নারীর মধ্যে স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি। প্রতি লাখে ১৬ জন এ ক্যান্সারে আক্রান্ত। এর পরে রয়েছে জরায়ুমুখের ক্যান্সার। এতে প্রতি লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জনেরও বেশি। খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ৯ দশমিক ৩৪, পিত্তথলির ক্যান্সারে ৬ দশমিক ৫৫ এবং ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারে প্রতি লাখে ৫ দশমিক ৬৮ জন আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে পুরুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যান্সার হচ্ছে খাদ্যনালীর, প্রতি লাখে ১৭ জন। এরপর ফুসফুসের ক্যান্সার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এতে আক্রান্ত হচ্ছে ১১ দশমিক ৮ জন। তৃতীয় অবস্থানে ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ১১ জন পুরুষ। 

বাসি খাবার গ্রহণ পাকস্থলী ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ কারণ জানিয়ে এনআইসিআরএইচের ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকের সাবেক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শুঁটকি ও অতিরিক্ত লবণ পাকস্থলীর ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। পিত্তথলিতে পাথর হলে সেখান থেকে ক্যান্সার হয়। এছাড়া খাদ্যে ভেজালেও এ ক্যান্সারগুলো হতে পারে। ঝাল, লবণ ও সংক্রমণের কারণে এসব ক্যান্সার প্রভাবিত হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের ক্ষেত্রে গলব্লাডারে ক্যান্সার বেশি হয়।’

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে কোনো ক্যান্সার রেজিস্ট্রি নেই। বছরে সারা দেশে কত রোগী এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বা মারা গেছে এমন হিসাব সরকারের কাছে নেই। তবে গ্লোবাল ক্যান্সার ইনসিডেন্স, মর্টালিটি অ্যান্ড প্রিভিলেন্স (গ্লোবোক্যান) পরিসংখ্যানের আলোকে আইএআরসি একটি হিসাব করেছে। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে শনাক্তকৃত রোগীর মধ্যে এখনো ক্যান্সারে আক্রান্ত রয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজারের কাছাকাছি। এর মধ্যে ২০২০ সালে শনাক্ত হয়েছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৭৫ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ক্যান্সার রোগীর।

বিশেষজ্ঞরা যদিও বলছেন, দেশে বছরে তিন-চার লাখের মতো মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে দেড় লাখ। কোথাও এ হিসাব তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। প্রাক্কলিত রোগীর সংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ ক্যান্সার রোগী বছরে রোগ শনাক্তের বাইরে থেকে যায়। দেশে বিশেষায়িত পর্যায়ের (টারশিয়ারি) সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসার কমবেশি সুবিধা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল এনআইসিআরএইচ। সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার রোগীরাই চিকিৎসার জন্য দেশের সর্বোচ্চ এ হাসপাতালে আসে। তাদের তথ্যে তৈরি রেজিস্ট্রি দেশের ক্যান্সার রোগীর হিসাবের প্রতিনিধিত্ব করে। 

হাসপাতালটির ক্যান্সার রোগতত্ত্ব (ক্যান্সার এপিডেমিওলজি) বিভাগ সম্প্রতি ‘ক্যান্সার রেজিস্ট্রি রিপোর্ট: ২০১৮-২০’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৮৩ হাজারের কিছু বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য বহির্বিভাগে এসেছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৩৫ হাজারের ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। দেশে সাধারণভাবে পুরুষের চেয়ে নারী ক্যান্সার রোগীদের হার বেশি। এ তিন বছরেও হাসপাতালটিতে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারীর হার ছিল ৫৫ শতাংশ।

শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রত্যেকটা ক্যান্সারের জেনেটিক (বংশগতি) প্রবণতা থাকে, সেই প্রবণতা জাতিতে জাতিতে বিভিন্ন রকম হয়। জেনেটিক কারণে বিভিন্ন জাতি এবং এমনকি এক জাতির বিভিন্ন ব্যক্তি বা বংশের মধ্যেও অনেক সময় জেন্ডারের প্রবণতা ভিন্ন হয়। এখন জেন্ডারের প্রবণতা থেকে জিনের যে প্রবণতা অনেক যুগ থেকে, অনেক জেনারেশন থেকেই হয় তো ছিল। রোগটা বীজের মতো। জিনটা বীজের মতো। বীজকে যেমন মাটি-পানি না দিলে সেটি গাছে পরিণত হবে না, তেমনি ক্যান্সারও পরিবেশের কারণে প্রভাবিত হয়। কোনো একটি জেনেটিক কারণ থাকে, তার সঙ্গে প্রবণতাটা বাড়ে। পরিবেশে কৃত্রিম খাবার, রঙ অর্থাৎ জীবনে কৃত্রিমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম উপাদানও বেড়েছে। এটাও ক্যান্সারের জীবাণুকে প্রভাবিত করে। এর প্রবণতাও বেড়ে গেছে।’

মানুষের ওজন আধিক্যের সঙ্গে ক্যান্সারের সুস্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে ডা. লিয়াকত আলী আরো বলেন, ‘আমাদের জীবনাচার, কায়িক শ্রম কমে যাওয়ার কারণে ওজন আধিক্য সৃষ্টি হচ্ছে। জীবনাচারের পরিবর্তন ও দূষণের সঙ্গে যে কৃত্রিম উপাদানগুলো বেড়ে গেছে তাতে বহুগুণেই ক্যান্সারসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরুষের মধ্যে বেশি আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর মধ্যে বেশি।’ 

জাতীয়ভাবে ক্যান্সারের কোনো রেজিস্ট্রি না থাকায় সারা দেশের চিত্র মূলত কেমন তা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা গত বছর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও হাসপাতাল, আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্য দিয়ে ক্যান্সার রেজিস্ট্রি তৈরির একটি পাইলট প্রজেক্ট করার চেষ্টা চালিয়েছি। সেখানে বিভিন্ন ক্যান্সার রোগী পেয়েছি। তবে তা কোনোটাই জাতীয় অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। আইএআরসি যে তথ্য দিয়েছে তা প্রাক্কলিত। এটা দিয়েও জাতীয় অবস্থা বোঝা যাবে না। জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে যে তথ্য পাওয়া যায় তাও তাদের রোগীদের। সমগ্র বাংলাদেশের তথ্য সেখানে নেই। আমরা পরিকল্পনা করেছি, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বড় পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আমরা রোগীদের তথ্য নিয়ে কাজ করব। এতে কিছুটা ভালো তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া ক্যান্সারসহ সব অসংক্রামক রোগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’


অবশেষে চালু হচ্ছে নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর
২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতাল

নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতাল। নাগরিক সমাজের আপত্তি উপেক্ষা করে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দায়িত্বশীলরা অনেকটা জোর করে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন এই হাসপাতাল। নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হলেও এতোদিন এটি চালু করা যায়নি। প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো এ হাসপাতাল। অবশেষে নগরের চৌহাট্টা এলাকার এ হাসপাতালটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার সিলেট সফরে এসে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই হাসপাতাল চালুর আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘সিলেটে শীঘ্রই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে। এছাড়া সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ১২০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।’

রবিবার (৩১ মে) বিকেলে সিলেটের মুসলিম সাহিত্য সংসদে মহানগর বিএনপি আয়োজিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এরআগে গত ২০ এপ্রিল সিলেট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তারও আগে এই হাসপাতাল নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও এটি কেন নির্মিত হয়েছে কেউ জানে না। স্বাস্থ্যসংশ্লিস্ট কোন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা না করেই এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আমি সংশ্লিস্টদের সাথে আলাপ করে এটি চালুর ব্যবস্থা করবো।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর এই জেলা হাসপাতাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণসহ রংকরণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভবনে হাসপাতালের কোনো যন্ত্রপাতি আনা হয়নি।

জানা গেছে, হাসপাতাল ভবন নির্মাণ শেষ হলেও ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় নাকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা পরিচালনা করবে, সেটি এখনও নির্ধারণ হয়নি। হাসপাতাল হস্তান্তরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ না পাওয়ায় গণপূর্ত বিভাগ এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে আটতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রঙের কাজ, ইলেক্ট্রিক, টাইলস, গ্লাস, দরজা, জানালা লাগানোও সম্পন্ন। হাসপাতাল ভবনের বেসমেন্টে রয়েছে কার পার্কিং; প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম; দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার; তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক; চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ; পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থোপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে। গত ২ মে সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুততম সময়ে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন।


মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

মেয়াদ শেষ, চুক্তি ছাড়াই চলছে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন

সিসিকের মৌখিক অনুমতিতে ৫ মাস ধরে ‘অবৈধ’ কার্যক্রম, প্রশ্নে জননিরাপত্তা
হাসান জুলহাস :: সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপাদিঘীর পাড়ে অবস্থিত বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ পরিচালনার অভিযোগ| সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের এই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো বৈধ লিখিত চুক্তি ছাড়াই গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এনজিও ‘সীমান্তিক’| এতে জননিরাপত্তা, সেবার ˆবধতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন| সুত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আরবান হেলথ সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ মাতৃসদন কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)|

২০২০ সালের ১ জুলাই টেন্ডারের মাধ্যমে ৫ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় এনজিও সীমান্তিক। সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ৩০ জুন।
পরবর্তীতে সীমান্তিকের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে সিসিক সাময়িকভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো চুক্তি বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এখনও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে সিসিক নগর ভবনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন,“এখানে মিথ্যা বলার কিছু নেই। সীমান্তিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩০ জুন। পরে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে কোনো লিখিত ডকুমেন্ট ছাড়া মৌখিকভাবে চলছে।”
তিনি আরও জানান, আগে মাতৃসদনের তিন দিনের প্যাকেজ ছিল ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডের বেড ভাড়া দৈনিক ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয়ও রোগীকেই বহন করতে হচ্ছে।

খরচ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে মাসিক কিছু খরচ দেওয়া হতো। এখন তা দেওয়া হয় না। তাই ডাক্তার-কর্মচারীদের বেতন দিতে খরচ বাড়ানো হয়েছে।” সিসিক থেকে বর্তমানে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “না, সিসিক থেকে এখন কোনো খরচ দেওয়া হয় না।”

এদিকে সীমান্তিকের পরিচালক পারভেজ আলম মুঠোফোনে জানান, “সিসিকের সঙ্গে সমন্বয় করেই আমরা চালাচ্ছি। খরচের অর্ধেক সিসিক দেওয়ার কথা।”
তবে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সিসিকের সঙ্গে সীমান্তিকের কোনো বৈধ লিখিত চুক্তিই নেই, সেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, চিকিৎসা জটিলতা কিংবা রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে? সীমান্তিক, নাকি সিসিক?

এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা আরবান হেলথ প্রকল্প স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী  সিসিক প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্র সিলেটের সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু হস্তান্তরের পরও রবিবার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তিক এনজিও আগের মতোই কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: নাছির উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন আমরা শুধু ভবন বুঝে পেয়েছি ভবনের লজিস্টিক বুঝে পাইনি, এক সপ্তাহের মধ্যেই আশা করি বুঝে পাবো। অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবৈধভাবে ৫ মাস যাবৎ চলছে, এবিষয়ে তিনি বলেন কাগজপত্র দেখে অবৈধ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে| এ ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক হস্তান্তরের পরও কীভাবে একটি এনজিও লিখিত অনুমোদন ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে? আর এই ‘মৌখিক অনুমতি’র আড়ালে চলছে না তো নতুন কোনো অনিয়মের খেল?