শেয়ার বাজার

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত নির্বাচন বিশ্লেষণ করতে পারে, মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারত বিশ্লেষণ করতে পারে, তবে মতামত দেওয়ার সুযোগ (অধিকার) দেশটি রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এছাড়া পতিত স্বৈরাচার ভোটের পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করলে সরকার প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।  

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ কথা জানান। রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। 

কোনো কোনো জেলায় ডিসিদের গণভোটের পক্ষে সেভাবে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, আমরা যা করছি তা হলো, আমরা উপদেষ্টারা দেশের ৬৪ জেলায় গিয়ে বিভিন্ন জেলার যারা সুশীল সমাজের আছেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আছেন, ছাত্র প্রতিনিধি আছেন, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন- সবাইকে গণভোটটা কেন হচ্ছে, গণভোটের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো কী- এটা বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়ে গেছে, এখন আর আমরা কোনো উপদেষ্টা সেখানে যাচ্ছি না। আমাদের কিছু ম্যাটেরিয়াল আছে গণভোটের স্বপক্ষে, সেটাই আমরা বিলি করে বেড়াচ্ছি।  

তিনি বলেন, কিন্তু জেলা প্রশাসকেরা কোথায় প্রচার করছেন, করছেন না... জেলা প্রশাসকেরা প্রচার করবেন হচ্ছে যে ১২ তারিখে সাধারণ ভোটের পাশাপাশি একটা গণভোট হবে। সাধারণ ভোটের পাশাপাশি জনগণ যেন গণভোটে যেতে পারে সে খবরটা জানানো। এর বেশি তো আর তাদের কিছু করার কথা না।  

সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ কেমন দেখছেন? দুই দলের মধ্যে ঢিল ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও ভোট নিয়ে মন্তব্য আসছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, শোনেন, প্রথম কথা হচ্ছে নির্বাচনের পরিবেশ তো উত্তেজনাপূর্ণ হবে। এক দল আরেক দলকে হারাবার চেষ্টা করবে, এক দল জিতবার চেষ্টা করবে। যে দল জিতবার চেষ্টা করবে সে তার পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য কথা বলবে, প্রতিপক্ষ আরেকজনকে ঘায়েল করার কথা বলবে, এটা খুব স্বাভাবিক কথা।

তিনি বলেন, কোনো কোনো জায়গায় হয়তো ভদ্রতা সভ্যতার সীমাটা রাখা হচ্ছে না, সেজন্য সব দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যদি কোনোটা আইনশৃঙ্খলা পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন সেটা সরকারের দায়িত্ব। তার আগ পর্যন্ত কে কার জনসভায় কী বললো না বললো সেটা তো সরকারের দায়িত্ব না।  

নির্বাচন সম্পূর্ণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেখানে অন্য দেশ বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মতামত তো দেওয়ার সুযোগ রাখে না। তার বিশ্লেষণ থাকতে পারে কিন্তু কে জিতলে কী ধারণা করবে জিতবার আগেই এত কথা বলে দিলে তো এই মন্তব্য বস্তুনিষ্ঠ সেরকম মনে করার কোনো সুযোগ নেই।  

ভোটের পরিবেশ নষ্ট হলে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হবে- সরকারের এমন একটা বিবৃতি আছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার যে আওয়ামী লীগ চেষ্টা করেনি তা তো ঠিক কথা না। ভোটের যেদিন শিডিউল ঘোষণা হলো সেদিনই তো বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলো এবং সেটার ভুক্তভোগী আমরাও কয়েকজন আছি। ফলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য যদি পতিত স্বৈরাচারের কোনো শক্তি কোনো রকম চেষ্টা করে সেটা প্রতিরোধ করার জন্য সরকার প্রস্তুত আছে, প্রয়োজনে প্রস্তুতি আমরা বাড়াবো।

মানুষের ভেতরে ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভয় কাজ করছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেবেন যে কোন মানুষ আপনাকে বলেছে তার ভোট দিতে ভয় লাগছে। আমরা যে এত কয়টা জেলায় গেলাম সব জায়গায় আমরা দেখে এসেছি প্রতিটি জায়গায় নির্বাচনের একটা আমেজ শুরু হয়েছে। যখন আমরা গেছি তখনও কিন্তু নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়নি। তো প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়বে, আগ্রহও বাড়বে, আনন্দও বাড়বে। এটা সবসময় বাংলাদেশে হয়ে থাকে। কোনো জায়গাতে কোনো মানুষ আমাকে বলেনি যে আপা ভোট দিতে কেমন করে যাবো আমার ভয় লাগছে। আপনাকে যদি কেউ এটা বলে থাকে আমাদের জানাবেন তার ভয় দূর করার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের।

সরকারের এ উপদেষ্টা আরও বলেন, এই যে ভয়ের একটা আবহ তৈরি করা নানান প্রচার-প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, নানান কিছু ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে দিয়ে একটা ভয়ের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যই বলা হচ্ছে যে পতিত স্বৈরাচার যদি নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্ন করার জন্য কোনো কাজ করে আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

শতকোটি টাকার বিনিয়োগ সত্ত্বেও দেশের ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে স্বস্তি ফিরছে না। আধুনিকায়নের নামে স্থাপিত নতুন যন্ত্রপাতিতে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আখচাষিরা।

মিল সূত্র জানায়, মাত্র চার দিনের (৯৬ ঘণ্টা) কার্যক্রমে ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে হয়েছে। একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যায় মিল থেমে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার হাজারো আখচাষির ওপর।

নির্ধারিত সময়ে আখ মাড়াই না হওয়ায় মাঠ ও মিল চত্বরে পড়ে থাকা আখ রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আখের ওজন ও গুণগত মান কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আখচাষিরা।

গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নতুন ইউনিটে মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো কারখানায় কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফার ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন ইউনিট চালু করা হলে শুরু হয় যান্ত্রিক বিপর্যয়। মিল হাউস, বয়লার ও টারবাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে ত্রুটির কারণে একের পর এক বন্ধ থাকে মিলের কার্যক্রম।

মিলের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ৬ ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি টানা ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ৬ ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা আখ মাড়াই বন্ধ ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা সংকটে ওজন শেষে পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আবার মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে আনা আখ দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

কেরু কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকলের আধুনিকায়ন করতে ২০১২ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় ব্যালেন্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন (বিএমআরই) প্রকল্পের কাজ। ২০১২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রথমে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। তবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের একটি সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যারা মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরে দায়িত্ব পায় উত্তম এনার্জি লিমিটেড। নির্ধারিত দুই বছরের প্রকল্প সাত দফা সময় বাড়িয়েও ১৩ বছরে শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সম্প্রতি একনেক প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, এর বাইরে আর সময় বা ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই।

এদিকে ট্রায়াল রানের সময় মিল থেকে বিকট শব্দ ও অপরিশোধিত বর্জ্যপানির কারণে দর্শনাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতাসে ছাই উড়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চিনিকলের আশপাশের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন ইউনিটে আখ মাড়াই চালুর চেষ্টা চলছে। যান্ত্রিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফিদা হাসান বাদশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ফের ঢাকাসহ ৪ বিভাগে
ফের ঢাকাসহ ৪ বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ, বুধ-বৃহস্পতি বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪

ফের ঢাকাসহ ৪ বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ, বুধ-বৃহস্পতি বৃষ্টির আভাস

বার্তাবেলা ডেস্ক: সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে গেছে। আরও তীব্র হয়েছে শীত। এতে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। শীতের তীব্রতা বেড়েছে নগরেও। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো শীতে জবুথবু রাজধানীবাসীও।

দেশের চার বিভাগ এবং চার জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তাপমাত্রা বেড়ে শীতের তীব্রতা কমতে পারে। এছাড়া আগামী বুধ এবং বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। একদিন আগে যা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল দিনাজপুর ও বদলগাছীতে।

ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কমে হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা বিভাগ শৈত্যপ্রবাহের আওতায় থাকলেও শুধু ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রাই ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য স্টেশনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকার আকাশে রোদের দেখা মিলেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে নির্দিষ্ট সময় ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে বলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে হলে তাকে বলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে বলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে তাকে বলে অতিতীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মঙ্গলবার পুরো ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগসহ শ্রীমঙ্গল, কুমিল্লা, ভোলা, বরিশাল জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তিনি জানান, দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বুধ এবং বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাতেই খুলনার সাতক্ষীরার দিকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বুধ ও বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিকে এবং ঢাকা বিভাগের দক্ষিণাংশের ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের দু/এক জায়গায় হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে।

শুক্রবার থেকে বৃষ্টি কেটে যেতে পারে জানিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, কিছু কিছু জায়গায় কুয়াশা পড়বে, আবার কিছু কিছু জায়গায় রোদ থাকবে। দেশের উত্তরাঞ্চল আজ সকাল থেকেই পরিষ্কার। তবে দেশের পূর্বাংশের কুমিল্লা নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেটের দিকে কুয়াশা রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় কুয়াশা থাকবে, আবার বিভিন্ন জায়গায় আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে।


মেগা প্রকল্পে বিরল ঘটনা: মেয়াদ বাড়ছে, ব্যয় কমছে!
কাজ শুরুতেই চমক ৬০০ কোটি টাকা কমে গেল সিলেট-শেওলা প্রকল্পের ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬

কাজ শুরুতেই চমক ৬০০ কোটি টাকা কমে গেল সিলেট-শেওলা প্রকল্পের ব্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পেলে ব্যয়ও বেড়ে যায়। তবে ব্যতিক্রম ঘটেছে সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে। প্রকল্পটির কাজ বিলম্বে শুরু হলেও আন্তর্জাতিক দরপত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য পাওয়ায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় কমেছে।

সম্প্রতি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির পূর্ত কাজের জন্য ২ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছে। অথচ একই কাজের জন্য পূর্বে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বনিম্ন দরদাতাদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক উন্নয়ন কাজ তিনটি পৃথক লটে বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ৪৭টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯টি কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতাদের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।

প্রথম লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের মনিকো লিমিটেড ও চীনের চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এ লটের কাজের মূল্য ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় লটের কাজ বাস্তবায়ন করবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)। এ লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। তৃতীয় লটের কাজ পেয়েছে বাংলাদেশের এনডিই এবং চীনের আরবিসিজির যৌথ উদ্যোগ। এ অংশের কাজের মূল্য ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ দশমিক ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ, উভয় পাশে দুটি সার্ভিস লেন, ৩১টি কালভার্ট, ৩টি সেতু, একাধিক ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি একটি টোল প্লাজাও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ৬০০ মিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি ৩০০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রানাপিং ও রামধা বাজার এলাকায় আরও দুটি ফ্লাইওভার এবং কুশিয়ারা নদীর ওপর বর্তমান শেওলা সেতুর পাশে নতুন চার লেনের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হবে না। এ কারণে মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ কিছুটা পিছিয়েছে। তবে আগস্টের আগেই এ কাজ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমাসহ মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে শেওলা স্থলবন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।