শেয়ার বাজার

অধ্যাদেশ জারি
ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

ভূমি ও কৃষিজমির অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল

ভূমি ও কৃষিজমি অপব্যবহারের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬' জারি করা হয়েছে।

গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় এ অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না।

যে অপরাধে যে শাস্তি

অধ্যাদেশে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া কোনো ভূমির জোন পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড পেতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কারখানা বা অনুরূপ স্থাপনা কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ইটভাটায় বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় ও টিলা অথবা জলাধারের পাড়ের মাটি ক্রয়, বিক্রয়, অপসারণ, পরিবহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ভূমির ক্ষতিসাধন, ভূমিরূপ পরিবর্তন বা কৃষি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জলাধার, জলাভূমি, পাহাড় ও টিলা এবং বন ও বনভূমির ক্ষতিসাধন ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের অপরাধগুলোকে অ-আমলযোগ্য, জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের একই প্রকৃতির অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের বিধান অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্তভাবে ক্ষতিপূরণ আদায়, ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপন, অবৈধভাবে ভরাট করা মাটি ও স্থাপনা অপসারণ এবং বৃক্ষরোপণসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে হবে জোনিং ম্যাপ

সরকার কৃষিভূমি সুরক্ষা এবং ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সারাদেশে ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করবে। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব মৌজা, দাগ বা নির্দিষ্ট সীমারেখা অনুযায়ী জোনিং ম্যাপ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি ডাটাবেজ তৈরি, সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

জোনিং ম্যাপ একযোগে পুরো দেশের জন্য বা প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে প্রণয়ন করা যাবে। ম্যাপ তৈরির সময় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও পরীক্ষার ফল বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ভূমিকে ১৮টি জোনে ভাগ করে এ ভূমি জোনিং ম্যাপ করা হবে। জোনগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি অঞ্চল, বিশেষ কৃষি অঞ্চল, কৃষি-মৎস্য চাষ অঞ্চল, নদী ও খাল অঞ্চল, জলাশয়, জলাধার ও জলাভূমি অঞ্চল, পরিবহন ও যোগাযোগ অঞ্চল, শহুরে আবাসিক অঞ্চল, গ্রামীণ বসতি অঞ্চল, মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল, বাণিজ্যিক অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল, প্রাতিষ্ঠানিক ও নাগরিক সুবিধা অঞ্চল, বন ও রক্ষিত এলাকা অঞ্চল, প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা প্রতিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য অঞ্চল, পাহাড় ও টিলা অঞ্চল, পতিত ভূমি অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চল।

খসড়া জোনিং ম্যাপ প্রস্তুত হলে জনসাধারণের মতামত জানার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ডেটা সংরক্ষণের ওয়েবলিংক উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওয়েবসাইট ও নোটিশ বোর্ডে তা প্রকাশ করা হবে। বিধি অনুযায়ী ফি দিয়ে যে কেউ খসড়া ম্যাপের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাশাপাশি এসব কার্যালয়ে খসড়া ম্যাপ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যে কেউ খসড়া ম্যাপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি বা মতামত জেলা প্রশাসকের কাছে দিতে পারবেন। এসব আপত্তি বা মতামত নিষ্পত্তির জন্য জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে। জেলা কমিটি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদন নেবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শুনানি করবে এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে।

জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করা যাবে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করবে এবং সে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্ত জোনিং ম্যাপ প্রকাশ করবে।

সরকার স্পারসোর সহায়তায় ও নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে জোনিং ম্যাপের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করবে এবং প্রতি ১০ বছর অন্তর ম্যাপ হালনাগাদ করবে। জোনিংয়ের পর স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে এবং জোনিং ম্যাপের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হবে। এ কাজে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ, ভূমি ব্যবহার বিশেষজ্ঞ, আইটি, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ, কৃষি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ, আইন ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে অধ্যাদেশে।

খসড়া জোনিং ম্যাপের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা কমিটি গঠন করা হবে। 

কৃষিভূমি সুরক্ষা

অধ্যাদেশে বলা হয়, জোনিংয়ের ভিত্তিতে কৃষিভূমি সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৃষি অঞ্চল ঘোষণা করা যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন বা অকৃষি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। বিশেষ কৃষি অঞ্চল না হলেও দুই বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ থাকবে এবং এক ও দুই ফসলি জমিতেও ধাপে ধাপে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

জাতীয় প্রয়োজনে জ্বালানি, খনিজ বা প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ প্রভাব নিরূপণের শর্তে সীমিত পরিমাণ কৃষিভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মোট কৃষিভূমির ১০ শতাংশের বেশি অকৃষি কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা বা জলাধারের উপরিভাগের মাটি ক্রয়-বিক্রয়, অপসারণ বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জলাধার বা জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা কিংবা প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করা যাবে না। এসব কাজে জড়িত হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত জমি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে বা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

সরকার উপকূলীয় ও সাগরসংলগ্ন ভূমি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিধি অনুযায়ী কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা যাবে। কোনো ভূমির রেকর্ডীয় শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

কৃষিভূমিতে আবাসন-অবকাঠামো নির্মাণ

সরকারি বা বেসরকারি সব প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ অধ্যাদেশের বিধান মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়, নির্ধারিত অনুমতি সাপেক্ষে কেউ নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয়, কবরস্থান, গুদামঘর, পারিবারিক পুকুর বা কুটির শিল্প স্থাপন করতে পারবেন। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাতিল করা যাবে। অনুমতি ছাড়া কৃষিভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করলে তা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হবে।

কৃষিভূমি, পাহাড়, টিলা, জলাধার ও জলাভূমি ছাড়া অন্য জমির জোন পরিবর্তন বা জোনিং বহির্ভূত ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, পরিবেশ ও এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৪ (বাসস) : কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)’র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা এবং নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমাদের অর্থনীতির বিশেষ প্রতিনিধি এম. মোশাররফ হোসাইন।

২১ সদস্যের কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ও এম. এস. দোহা, যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম ও কামরুজ্জামান বাবলু, অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রতন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারজানা আফরিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক বদরুল আলম মজুমদার, ইভেন্ট-আপ্যায়ন সম্পাদক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বেলাল এবং নির্বাহী সদস্য দিদারুল আলম দিদার, সায়ীদ আবদুল মালিক, সাঈদ আহমদ খান, মোহাম্মদ মাসুদ ও কমল চৌধুরী।

দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্ম অধিবেশন ও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হোসাইন, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব রশিদ, মোহাম্মদ আবু তাহের, মো. শরীফুল ইসলাম এবং ফারুক খান।

এর আগে সকাল ১০টায় সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি, সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক গাজিউল হাসান খান, প্রেস ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মোস্তফা হোসেইন, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাসস'র সিনিয়র রিপোর্টার দিদারুল আলম, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য আ. ন. ম. কুদরাত-ই-খোদা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ ইসহাক খান এবং আবু তাহের, বার্তাবেলা.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক মহিন উদ্দিন স্বপন।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার যে ঐতিহ্য সবাইকে তা ধারণ করে এগুতে হবে। তবে কাজের ক্ষেত্রে যোগ্যতার সঙ্গে লড়াই চলে না। কুমিল্লাকে প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণ প্রজন্ম যাতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠে সে উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, পরিবর্তনকে ভয় পেলে চলবে না। আপনারা উন্নত কুমিল্লা চান। উন্নত বলতে বুঝায় জ্ঞানে-বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত। আপনারা সাংবাদিকরা এর জন্য অবদান রাখবেন, বিশ্বাস করি। আগামী দিনের ইতিবাচক অগ্রযাত্রায় শামিল হবেন। অনেকে সমস্যার কথা বলেছেন, এগুলোর সমাধানে আপনারা একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। আমি সর্বতোভাবে সহায়তা করবো।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, অনেকে বলেন রাজনীতিবিদরাই সমাজ সেবা করে। শুধু রাজনীতিবিদরা নয়, সবাই সমাজসেবা করে। আমরা স্ব-স্ব জায়গা থেকে নিজ দায়িত্বটুকু পালন করলেই সমাজসেবা হয়ে যায়। এসময় তিনি কুমিল্লাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

 বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, সাংবাদিকদের কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করতে হবে। কুমিল্লার নবাব ফয়জুন্নেছা বাংলাদেশের শিক্ষার বিকাশে পথপ্রদর্শক, তার মূল্যায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। তার বাড়ির স্মৃতি সংরক্ষণ করতে হবে। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মন ও উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কে স্মরণ করতে হবে। শান্তি ও সুনীতিকে সামনে আনতে হবে। একটা মাত্র জেলা যেখানে মুক্তিযুদ্ধের তিনটি সেক্টর ছিল।

তিনি বলেন, আমি জেলা কোটা বিলুপ্তির পক্ষে, কুমিল্লা নামেই বিভাগের পক্ষে। আমরা চেষ্টা করলে কুমিল্লাকে আরও বিকশিত করতে পারি। ব্রান্ডিং করতে পারি।


নরসিংদীতে ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নরসিংদীতে ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

বার্তাবেলা (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের সংঘর্ষে মো: মাহবুব মিয়া নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। এসময় গুরুতর আহত হয়েছে  মোটরসাইকেলের অপর আরোহী ইব্রাহিম।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের নীলকুঠি-আলগী আঞ্চলিক সড়কে মানিকনগর গ্রামের মান্নান মাস্টারের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক নিতাই চন্দ্র দাস ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিহত মো: মাহবুব মিয়া উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে। অপরদিকে আহত ইব্রাহিম মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই বন্ধু মোটরসাইকেল যুগে আলগী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তারা মানিকনগর এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের চালক রাস্তায় ছিটকে পড়ে ট্রাক্টরের সামনের চাকার চাপায় গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মো: মাহবুব মিয়ার মারা যায় এবং মোটরসাইকেলের অপর আরোহী ইব্রাহিম মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, মরদেহ  উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাক্টর ফেলে চালক পালিয়ে গেছে ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছ। এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। ময়না তদন্তের পর তদন্ত সাপেক্ষে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬

চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।


বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামীতে দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।