শেয়ার বাজার

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

দীর্ঘদিন গতিহীনতা, সংকোচন ও আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে চলছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এই প্রেক্ষাপটে বহুদিনের দাবি- বহুজাতিক কোম্পানিসহ শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি এখনো সেই ‘অলীক স্বপ্ন’।

বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের গতি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ভালো কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতার অভাবে এ উদ্যোগ সফল হচ্ছে। শেয়ারবাজারের মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে পরামর্শ দেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল এ সরকারের মেয়াদে হয়তো দু-একটি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।

গত বছরের ১১ মে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে তার সভাপতিত্বে পুঁজিবাজারের সঠিক অবস্থা পর্যালোচনা ও উন্নয়নে করণীয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছে। সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দায়সারা উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— তালিকাভুক্তির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, বোর্ডে আলোচনা না করে তাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কথার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্য আমরা প্রাথমিকভাবে ১০টি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সে লক্ষ্যেই ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

তারা যে ধরনের কথা বলে, তা দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়া মনে হয়েছে। এই সরকারের আমলে অর্থাৎ, আগামী দেড়-দুই মাসে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি অতীতের মতোই একটি সাধারণ আলোচনা সভা হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে, তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতা বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।- ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারি

দেশে ব্যবসা করা অনেক বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতার বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আলাপ হতে পারে সেটা ১০-২০ শতাংশ হবে। কিন্তু তাদের বাধ্যতামূলক শেয়ারবাজারে আসতে হবে, এই নিয়ম করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার কীভাবে এ পদক্ষেপ নেবে, সে পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতে সরকার কখনোই এ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকেরই মনের মধ্যে ভয় ছিল যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে হয়তো সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ, এখানে ব্যবসা আছে বলেই তো তারা এসেছে। ব্যবসা থাকলে সে সব নিয়ম-কানুন মেনেই আসবে, এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সরকারি ভালো কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকারি শেয়ারগুলো আসেনি, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। আমার যেটা মনে হয়— এখানে (সরকারি প্রতিষ্ঠানে) যারা স্বাধীন পরিচালক হন তারা রাজনৈতিক লোকজন। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে তারা বোর্ডের বাইরে অন্য কোনোভাবে সুবিধা পান। এ কারণে তাদেরও একটা আপত্তি থাকে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে। এখন যেহেতু একটা অরাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, সুতরাং আমি মনে করি এই সরকারের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সরকারি ভালো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে) করলে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়, সরকারও লাভবান হবে। সুতরাং, অবশ্যই সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমি মনে করি নির্বাচিত সরকার আসার আগেই এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের কাজ করা উচিত।’

১০টি সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হলে বাজার কীভাবে উপকৃত হবে? এমন প্রশ্ন করলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘আলোচনা মাধ্যমে কিছু হবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই সরকারের সময় একটা শেয়ারও বাজারে আসেনি। বহুজাতিক ও সরকারি ফান্ডামেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত করতে পারলে শেয়ারবাজারের অনেক উপকার হতো।

সরকারি ভালো কোম্পানিগুলো কেন শেয়ারবাজারে আসে না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা সমস্যার, যারা এই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে থাকেন তারা চান না। বড় সমস্যা হচ্ছে সরকারি যেসব কর্মকর্তা এসব কোম্পানিতে আছেন, তারা চান না এগুলো শেয়ারবাজারে আসুক। হয়তো তারা এসব কোম্পানি থেকে অন্য কোনো সুবিধা পান, তালিকাভুক্ত হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।’

আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।- আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কীভাবে দেশের শেয়ারবাজারে আনা যায়? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে না আসা এক ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা বলছি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার জন্য। এক্ষেত্রে একটাই পদক্ষেপ, তা হলো সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকার আন্তরিকভাবে চাইলেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব।’

গত ৭ জানুয়ারি বহুজাতিক ও সরকারি ১০টি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ওখানে (বহুজাতিক কোম্পানিতে) আমাদেরও (সরকারের) শেয়ার আছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত নয়। ওরা বলেছে ওদের সিদ্ধান্ত বোর্ড ছাড়া হবে না। তবে সরকার থেকে আমরা সম্মতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে তো আগেও আলোচনা হয়েছে। এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগে এত দূর যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। এগুলো জটিল। কোম্পানি আইনকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে পাবলিক ইন্টারেস্টে। পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে কোনো বড় ইন্টারেস্ট কারও নেই। নেসলে যদি বোম্বেতে লিস্টেড থাকতে পারে, আমাদের এখানে সমস্যাটা কী? ইউনিলিভার জিএসকের অংশ তালিকাভুক্ত, কিন্তু তাদের মূল অংশ তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু বোম্বেতে টপ টেনের মধ্যে আছে। পাকিস্তানে আছে, থাইল্যান্ডে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইউনিলিভারে সরকারের ৪০ শতাংশের মতো শেয়ার আছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশও ছাড়তে চায় না। আমি বলি আমার সরকারি শেয়ারও বেচতে পারবে না? ওরা বলে বিদেশে ওদের বোর্ড মিটিং লাগবে।’

কোরবানির চামড়ার দাম বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬

কোরবানির চামড়ার দাম বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে, খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সমানভাবে কার্যকর হবে। সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য এবারও সরকার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করবে। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী এবং মসজিদ-মাদরাসার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী কোরবানির ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেবে। তারা কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ করবেন।

এর আগে, বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি সভাপতিত্বে কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। 


খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বেড়েছে গমের চাহিদা, আমদানিতে রেকর্ডের আশা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বেড়েছে গমের চাহিদা, আমদানিতে রেকর্ডের আশা

বিশ্ববাজারে দাম কম

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে বাড়ছে চাহিদা

নির্বাচনের কারণেও বাড়তি প্রস্তুতি


বিশ্ববাজারে দাম কম, দেশেও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে চাহিদা বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের। এরমধ্যে সামনে নির্বাচন, তারপরে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। সবমিলিয়ে দেশে বাড়বে খাদ্যপণ্যের ব্যবসা। যার প্রস্তুতি হিসেবে এখন প্রচুর গম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। এরপর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গম আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি কমে ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টনে নেমে আসে। এর পরের বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি আরও কমে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৪০ লাখ ১২ হাজার টন গম। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষ্ণসাগরে অস্থিরতা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি আরও কমে নেমে আসে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

তবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টন গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটা কমে ৬২ লাখ ৩৫ হাজার টনে নামে। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সময়ে) ৩৫ লাখ ৭১ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে দেশে। আমদানিকারকরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগের আমদানির রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এ অর্থবছর।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

আমদানি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্ববাজারে গমের নিম্নমুখী দাম। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে প্রতি টন রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৩৫ ডলারে। মাঝারি প্রোটিনের আমেরিকান গমের দাম ২৬০ থেকে ২৭০ ডলার ও উচ্চমানের গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে।

এ দাম করোনা পরবর্তী কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ক্রমাগত কমছে গমের দাম। ২০২২ সালে গমের দাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহারের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। আর যেহেতু দেশে সেভাবে গম উৎপাদন হচ্ছে না, সেহেতু বছরে উল্লেযোগ্য পরিমাণ গম আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া এখন যেহেতু বিশ্ববাজারে দাম কম, সে কারণে অনেকে সুবিধা পাচ্ছে, তাই বেশি আমদানি করছে।

শফিউল আতহার আরও বলেন, গত এক বছর ধরে বিশ্ববাজার কিছুটা স্থিতিশীল। তবে মূলত বর্ধিত চাহিদার কারণেই ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়িয়েছেন।

আমদানিকারকরা বলছেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন। দেশের অনেকেই এখন এক বেলা ভাত আর দুই বেলা রুটি খান।

মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়াবে এমন প্রত্যাশাও ব্যবসায়ীদের। সেটিও আমদানি বৃদ্ধির একটি কারণ বলে জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যশস্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব। এ উৎসবকেন্দ্রিক একটি ভালো বেচাকেনা হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া রোজা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে সবাই একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন

আবুল বশর চৌধুরী আরও বলেন, সারা বিশ্বে তেল ছাড়া অন্যান্য সব খাদ্যশস্যের উৎপাদন ভালো। যে কারণে বৈশ্বিক ব্যবসা চাঙ্গা হচ্ছে, খাদ্যপণ্য রপ্তানিও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক দশক আগে হাতেগোনা কয়েকটি শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য বাজারজাত করতো। চাহিদা বাড়ায় এখন বড় বড় শিল্প গ্রুপও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় নজর দিয়েছে। এসব শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করে। বর্তমানে নুডলস, বিস্কুট, পাউরুটি, চানাচুরসহ শুকনা খাবার এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে গম দিয়ে। এসব পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবার বিশ্বের প্রায় একশ দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এছাড়া দেশে খাদ্যপণ্য তৈরির বড় বড় কারখানা, বেকারি, কনফেকশনারি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেড়েছে আটার ব্যবহার। আবার গমের উপজাত ভুসি প্রাণী ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।


সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।