শেয়ার বাজার

কোরবানির চামড়ার দাম বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কোরবানির চামড়ার দাম বেড়েছে প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে, খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দাম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সমানভাবে কার্যকর হবে। সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য এবারও সরকার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণ করবে। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী এবং মসজিদ-মাদরাসার মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী কোরবানির ঈদে কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদরাসার প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেবে। তারা কোরবানির পর চামড়া সংরক্ষণ করবেন।

এর আগে, বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি সভাপতিত্বে কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অংশ নেন। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ কমিটির’ সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। 

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল, ২০২৬

সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও

দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল ও দোকান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানে ক্রেতা থাকে না। ক্রেতারা আসেন বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে। এ সময়ই মার্কেটে ক্রেতা আসেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর এ কারণেই বিক্রি কমে গেছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।

ক্রেতারাও বলছেন, অফিস ও কাজ শেষে প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে পারছেন না না তারা।

মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক বাজারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এসেছে। নির্বাচিত নতুন সরকারের সময়ে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রস্তুতকৃত নানা পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কারণ, বৈশাখের পরে আর এসব পণ্যের ক্রেতা থাকবে না।

এমন প্রেক্ষিতে দোকান মালিক সমিতির নেতা ও একাধিক সংগঠন এখনও দাবি করছেন যাতে দুপুর ১২টায় দোকান খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করা যায়। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হলেও তা কোনো ইতিবাচক প্রভাব আনবে না বলে মন্তব্য তাদের। অন্তত পহেলা বৈশাখের আগ পর্যন্ত রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখার দাবি রয়েছে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর।

যা বলছেন সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ

পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহীন মিয়া। মাকে নিয়ে এবার তিনি হজে যাবেন। তবে এখনও হজের কেনাকাটা করতে পারেননি।

শাহীন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দোকান বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। সেখান থেকে ফিরে যে মার্কেটে যাবো তার উপায় নেই। ৭টার মধ্যে শপিংমলও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে রাতে যে মার্কেটে যাবো সেই উপায় নেই। হয়তো পুরো একদিন দোকান বন্ধ রেখেই মার্কেট করতে হবে।’

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহবুব হাসান সজীব।বার্তা বেলা নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস এখনও আগের নিয়মেই চলছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। আগামী বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়ি যাবো। ভেবেছিলাম তার আগেই বৈশাখের কেনাকাটা করবো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনও কেনাকাটা করতে পারিনি। অফিস বাদ দিয়ে তো আর মার্কেটে যাওয়া যাবে না।’

 বলছেন সাধারণ দোকানিরা

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে নারীদের পোশাক বিক্রি করেন ফ্যাশন লেডির কর্ণধার মনির। এই কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদের মৌসুমেই কাপড়ের মূল বিক্রি। আর আমরা যেসব পোশাক বিক্রি করি তা মূলত মৌসুম কেন্দ্রিক। তবে এই সময়ে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা ছিলো, দোকান বন্ধ থাকায় সেই বিক্রি হচ্ছে না।’

রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে পাইকারিতে কসমেটিক্স বিক্রি করেন হাসিব। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এখন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হচ্ছে। কিন্তু সকালে কোনো ক্রেতা থাকে না। বিকেলের দিকে ক্রেতা আসতে শুরু করলেই দোকান বন্ধ করার সময় এসে যায়। নতুন এই সিদ্ধান্তে বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।’

মোবাইল মার্কেটে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে জানতে চাইলে বসুন্ধরা সিটির তানভীর টেলিকমের তানভীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ অফিস-আদালতে কাজ শেষ করে ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মার্কেটে আসে। ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইলের কেনাকাটা করতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু ততক্ষণে ৭টা বেজে যায়। তাড়াহুড়া করে আমাদের হিসাব করতে হয় এবং দোকান বন্ধ করতে হয়। এতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক ক্রেতা এসে মার্কেটের বাইরে অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ ফিরে যান। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্রেতারা বলেন- ভাই ওই মোবাইলটা নিয়ে বের হন। কিন্তু মার্কেটের বাইরে নিয়ে তো আর মোবাইল বিক্রি করা যাবে না। আমাদের বিক্রিও অনেক কমে গেছে।’

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও উদ্বেগ

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিষ্ঠান অর্লিনস লেদারস অ্যান্ড ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাহমিনা আক্তার শাম্মী জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে এসএমই খাতে বিশাল বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে বিক্রি কমে যাওয়া। আগে সন্ধ্যার পর, বিশেষ করে ৬টার পরে আমাদের বেশি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, ফলে আয় অনেক কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাজারীবাগ ও লেক সিটির শোরুম- দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। সন্ধ্যা ৭টার পরে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছি। দোকান ভাড়া, স্টাফদের বেতন, ফ্যাক্টরি খরচ- সবকিছু চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

ফ্যাশন হাউজের মালিক ও নেতারা যা বলছেন

পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বৈশাখের ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বাস্তবতা হলো, মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পরই শপিংয়ে আসে। এখন সময় কমে যাওয়ায় ক্রেতারা ঠিকমতো মার্কেটে আসতে পারছেন না, ফলে আমাদের বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।’

‘আমরা চাই, সকালবেলার সময়টা যদি কম গুরুত্ব পায়, তাহলে দোকান খোলার সময় কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে রাত পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক—ধরেন রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত। এতে অন্তত ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে এসে কেনাকাটা করতে পারবেন।’

বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই সময়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য-যেমন টেপা পুতুল, শখের হাড়ি, কুলা, বিভিন্ন কারুশিল্প—এসব সারা বছর বিক্রি হয় না, শুধু বৈশাখেই চাহিদা থাকে। এসব পণ্যের সঙ্গে গ্রামের অসংখ্য মানুষ জড়িত। তারা যদি এই সময় পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং দেনা-পাওনা শোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে।

এ বছর আমরা অনেক আশা নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বৈশাখের আগে কিছুটা সময় পেয়েছিলাম, তাই আয়োজনও ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সব আয়োজন কার্যত ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। দোকান খোলা না থাকলে বা সময় সীমিত থাকলে ব্যবসা কীভাবে চলবে? আমার কাছে বিষয়টা খুব সরল- এই কয়েকটা দিন মার্কেট খোলা রেখে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হোক। এরপর চাইলে ১৫ এপ্রিলের পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আগে আমাদের বাঁচতে দিতে হবে, তারপর অন্য বিষয় চিন্তা করা যাবে।’ বলছিলেন বিপ্লব সাহা।

ফ্যাশন হাউস ‘সাদাকালো’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বার্তা বেলা নিউজকে বলেন, ‘মার্কেট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায় তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি-সময়টা পুনর্বিন্যাস করা দরকার। সকাল ১০টা থেকে খোলার বদলে দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখলে বেশি কার্যকর হতো। কারণ বাস্তবতা হলো, দিনে যেখানে ৪০ শতাংশ ক্রেতা আসে, সেখানে সন্ধ্যার পর আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এখন সময় সীমিত থাকায় আমাদের বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।’

আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘এটি নিয়মিত ব্যবসার জন্য বড় ধরনের আঘাত। এর সঙ্গে সামনে বৈশাখ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাধারণত এ সময় বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা শুরু হয়, কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকটসহ সার্বিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে- বৈশাখ কীভাবে উদযাপিত হবে, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।’

আজহারুল হক আজাদ আরও বলেন, ‘সময় কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়ছে। বৈশাখ মানেই উৎসব, অনুষ্ঠান- তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আয়োজন কতটা হবে, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্রেতারা এখনো পুরোপুরি বাজারমুখী হচ্ছেন না। যদিও এবার ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আগের কয়েক বছরের তুলনায় ভালো ছিল। কারণ গত কয়েক বছর বৈশাখ ঈদের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আলাদা করে প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না। কিন্তু এবার ঈদের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি সময় পাওয়া গিয়েছিল, তাই সবাই বেশি করে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আমরা এখনো সংশয়ে আছি। এ অবস্থায় আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, সকালের সময় কমিয়ে দিয়ে মার্কেট অন্তত রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক। তাহলে অন্তত ব্যবসা কিছুটা সচল রাখা সম্ভব হবে।’

রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবি

সারাদেশে দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বলছে, তারা দুপুর ১২টায় দোকান-শপিংমল খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চান। একই দাবি রয়েছে অন্যান্য সংগঠনগুলোরও।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বার্তা বেলা নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক বেচাকেনা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কারণ আমাদের অধিকাংশ কাস্টমারই সন্ধ্যার পর আসেন, এটা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বাস্তবতা, যা হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা বিকল্প হিসেবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। যেমন- সকালবেলা দোকান খুলে রাতে পর্যন্ত চালু রাখা, অথবা প্রয়োজনে দুপুর থেকে কার্যক্রম শুরু করা, যে কোনো সমন্বিত সমাধানে আমরা রাজি আছি, যদি এতে ব্যবসা কিছুটা টিকে থাকে।’

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আয় কমলেও খরচ একটুও কমেনি। আমাদের দোকান ভাড়া দিতে হচ্ছে, সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে, স্টাফদের বেতন দিতে হচ্ছে। দোকান মালিকরা তাদের ভাড়া ঠিকই নিচ্ছেন, কিন্তু যারা ব্যবসা পরিচালনা করছি, আমরা কোথায় যাবো? মাস শেষে এসব খরচ তো আমাদের দিতেই হবে। এক মাস যদি আমাদের আয় না থাকে, তাহলে আমরা সেই পুঁজি পাবো কোথায়? ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’


খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বেড়েছে গমের চাহিদা, আমদানিতে রেকর্ডের আশা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বেড়েছে গমের চাহিদা, আমদানিতে রেকর্ডের আশা

বিশ্ববাজারে দাম কম

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে বাড়ছে চাহিদা

নির্বাচনের কারণেও বাড়তি প্রস্তুতি


বিশ্ববাজারে দাম কম, দেশেও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে চাহিদা বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের। এরমধ্যে সামনে নির্বাচন, তারপরে একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। সবমিলিয়ে দেশে বাড়বে খাদ্যপণ্যের ব্যবসা। যার প্রস্তুতি হিসেবে এখন প্রচুর গম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ৬৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। এরপর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গম আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি কমে ৫৩ লাখ ৪২ হাজার টনে নেমে আসে। এর পরের বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি আরও কমে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৪০ লাখ ১২ হাজার টন গম। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষ্ণসাগরে অস্থিরতা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমদানি আরও কমে নেমে আসে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

তবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টন গম আমদানি করে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটা কমে ৬২ লাখ ৩৫ হাজার টনে নামে। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ সময়ে) ৩৫ লাখ ৭১ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে দেশে। আমদানিকারকরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগের আমদানির রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে এ অর্থবছর।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

আমদানি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিশ্ববাজারে গমের নিম্নমুখী দাম। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে প্রতি টন রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৩৫ ডলারে। মাঝারি প্রোটিনের আমেরিকান গমের দাম ২৬০ থেকে ২৭০ ডলার ও উচ্চমানের গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে।

এ দাম করোনা পরবর্তী কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ক্রমাগত কমছে গমের দাম। ২০২২ সালে গমের দাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে দেশে বাড়ছে গমের তৈরি খাবারের চাহিদা। অথচ, দেশে গমের উৎপাদন ১০ লাখ টনের ঘরে রয়ে গেছে। যে কারণে চাহিদার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহারের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। আর যেহেতু দেশে সেভাবে গম উৎপাদন হচ্ছে না, সেহেতু বছরে উল্লেযোগ্য পরিমাণ গম আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া এখন যেহেতু বিশ্ববাজারে দাম কম, সে কারণে অনেকে সুবিধা পাচ্ছে, তাই বেশি আমদানি করছে।

শফিউল আতহার আরও বলেন, গত এক বছর ধরে বিশ্ববাজার কিছুটা স্থিতিশীল। তবে মূলত বর্ধিত চাহিদার কারণেই ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়িয়েছেন।

আমদানিকারকরা বলছেন, মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন। দেশের অনেকেই এখন এক বেলা ভাত আর দুই বেলা রুটি খান।

মানুষ এখন আগের তুলনায় গমের খাদ্যপণ্য বেশি খাচ্ছে। গমের তৈরি খাদ্যপণ্যের রপ্তানিও বাড়ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই ভাত খাওয়া কমিয়ে গমের খাবারের প্রতি ঝুঁকেছেন।

এছাড়া আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়াবে এমন প্রত্যাশাও ব্যবসায়ীদের। সেটিও আমদানি বৃদ্ধির একটি কারণ বলে জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যশস্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি উৎসব। এ উৎসবকেন্দ্রিক একটি ভালো বেচাকেনা হওয়া স্বাভাবিক। এছাড়া রোজা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভালো ব্যবসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে সবাই একটু বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন

আবুল বশর চৌধুরী আরও বলেন, সারা বিশ্বে তেল ছাড়া অন্যান্য সব খাদ্যশস্যের উৎপাদন ভালো। যে কারণে বৈশ্বিক ব্যবসা চাঙ্গা হচ্ছে, খাদ্যপণ্য রপ্তানিও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক দশক আগে হাতেগোনা কয়েকটি শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য বাজারজাত করতো। চাহিদা বাড়ায় এখন বড় বড় শিল্প গ্রুপও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় নজর দিয়েছে। এসব শিল্প গ্রুপ খাদ্যপণ্য তৈরির জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ গম আমদানি করে। বর্তমানে নুডলস, বিস্কুট, পাউরুটি, চানাচুরসহ শুকনা খাবার এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে গম দিয়ে। এসব পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আবার বিশ্বের প্রায় একশ দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এছাড়া দেশে খাদ্যপণ্য তৈরির বড় বড় কারখানা, বেকারি, কনফেকশনারি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেড়েছে আটার ব্যবহার। আবার গমের উপজাত ভুসি প্রাণী ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।