শেয়ার বাজার

সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

সন্ধ্যায় শপিংমল-দোকান বন্ধ হওয়ায় বিক্রিতে ধস, ধাক্কা বৈশাখী বাজারেও

দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শপিংমল ও দোকান বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে বেচাকেনায় ধস নেমেছে। বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি।

বিক্রেতারা বলছেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকানে ক্রেতা থাকে না। ক্রেতারা আসেন বিকেলে ও সন্ধ্যার পরে। এ সময়ই মার্কেটে ক্রেতা আসেন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ। আর এ কারণেই বিক্রি কমে গেছে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।

ক্রেতারাও বলছেন, অফিস ও কাজ শেষে প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে পারছেন না না তারা।

মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক বাজারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এসেছে। নির্বাচিত নতুন সরকারের সময়ে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা ছিলো আকাশচুম্বী। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে প্রস্তুতকৃত নানা পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কারণ, বৈশাখের পরে আর এসব পণ্যের ক্রেতা থাকবে না।

এমন প্রেক্ষিতে দোকান মালিক সমিতির নেতা ও একাধিক সংগঠন এখনও দাবি করছেন যাতে দুপুর ১২টায় দোকান খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করা যায়। সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা করা হলেও তা কোনো ইতিবাচক প্রভাব আনবে না বলে মন্তব্য তাদের। অন্তত পহেলা বৈশাখের আগ পর্যন্ত রাত ৯টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখার দাবি রয়েছে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর।

যা বলছেন সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ

পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহীন মিয়া। মাকে নিয়ে এবার তিনি হজে যাবেন। তবে এখনও হজের কেনাকাটা করতে পারেননি।

শাহীন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের দোকান বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। সেখান থেকে ফিরে যে মার্কেটে যাবো তার উপায় নেই। ৭টার মধ্যে শপিংমলও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে রাতে যে মার্কেটে যাবো সেই উপায় নেই। হয়তো পুরো একদিন দোকান বন্ধ রেখেই মার্কেট করতে হবে।’

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাহবুব হাসান সজীব।বার্তা বেলা নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস এখনও আগের নিয়মেই চলছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। আগামী বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়ি যাবো। ভেবেছিলাম তার আগেই বৈশাখের কেনাকাটা করবো। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনও কেনাকাটা করতে পারিনি। অফিস বাদ দিয়ে তো আর মার্কেটে যাওয়া যাবে না।’

 বলছেন সাধারণ দোকানিরা

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে নারীদের পোশাক বিক্রি করেন ফ্যাশন লেডির কর্ণধার মনির। এই কাপড় বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদের মৌসুমেই কাপড়ের মূল বিক্রি। আর আমরা যেসব পোশাক বিক্রি করি তা মূলত মৌসুম কেন্দ্রিক। তবে এই সময়ে যে পরিমাণ বিক্রি হওয়ার কথা ছিলো, দোকান বন্ধ থাকায় সেই বিক্রি হচ্ছে না।’

রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে পাইকারিতে কসমেটিক্স বিক্রি করেন হাসিব। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘এখন সকাল ৯টার মধ্যে দোকান খুলে সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হচ্ছে। কিন্তু সকালে কোনো ক্রেতা থাকে না। বিকেলের দিকে ক্রেতা আসতে শুরু করলেই দোকান বন্ধ করার সময় এসে যায়। নতুন এই সিদ্ধান্তে বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।’

মোবাইল মার্কেটে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে জানতে চাইলে বসুন্ধরা সিটির তানভীর টেলিকমের তানভীর জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানুষ অফিস-আদালতে কাজ শেষ করে ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে মার্কেটে আসে। ইলেকট্রনিক্স ও মোবাইলের কেনাকাটা করতে ২ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু ততক্ষণে ৭টা বেজে যায়। তাড়াহুড়া করে আমাদের হিসাব করতে হয় এবং দোকান বন্ধ করতে হয়। এতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক ক্রেতা এসে মার্কেটের বাইরে অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ ফিরে যান। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্রেতারা বলেন- ভাই ওই মোবাইলটা নিয়ে বের হন। কিন্তু মার্কেটের বাইরে নিয়ে তো আর মোবাইল বিক্রি করা যাবে না। আমাদের বিক্রিও অনেক কমে গেছে।’

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কণ্ঠেও উদ্বেগ

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিষ্ঠান অর্লিনস লেদারস অ্যান্ড ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাহমিনা আক্তার শাম্মী জাগো নিউজকে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে এসএমই খাতে বিশাল বড় প্রভাব পড়েছে। আমাদের ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে বিক্রি কমে যাওয়া। আগে সন্ধ্যার পর, বিশেষ করে ৬টার পরে আমাদের বেশি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, ফলে আয় অনেক কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাজারীবাগ ও লেক সিটির শোরুম- দুই জায়গাতেই একই অবস্থা। সন্ধ্যা ৭টার পরে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছি। দোকান ভাড়া, স্টাফদের বেতন, ফ্যাক্টরি খরচ- সবকিছু চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

ফ্যাশন হাউজের মালিক ও নেতারা যা বলছেন

পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বৈশাখের ব্যবসায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বাস্তবতা হলো, মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পরই শপিংয়ে আসে। এখন সময় কমে যাওয়ায় ক্রেতারা ঠিকমতো মার্কেটে আসতে পারছেন না, ফলে আমাদের বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।’

‘আমরা চাই, সকালবেলার সময়টা যদি কম গুরুত্ব পায়, তাহলে দোকান খোলার সময় কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে রাত পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক—ধরেন রাত ৯টা বা ১০টা পর্যন্ত। এতে অন্তত ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে এসে কেনাকাটা করতে পারবেন।’

বিপ্লব সাহা বলেন, ‘বৈশাখকে কেন্দ্র করে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই সময়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য-যেমন টেপা পুতুল, শখের হাড়ি, কুলা, বিভিন্ন কারুশিল্প—এসব সারা বছর বিক্রি হয় না, শুধু বৈশাখেই চাহিদা থাকে। এসব পণ্যের সঙ্গে গ্রামের অসংখ্য মানুষ জড়িত। তারা যদি এই সময় পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে এবং দেনা-পাওনা শোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে।

এ বছর আমরা অনেক আশা নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বৈশাখের আগে কিছুটা সময় পেয়েছিলাম, তাই আয়োজনও ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সব আয়োজন কার্যত ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। দোকান খোলা না থাকলে বা সময় সীমিত থাকলে ব্যবসা কীভাবে চলবে? আমার কাছে বিষয়টা খুব সরল- এই কয়েকটা দিন মার্কেট খোলা রেখে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হোক। এরপর চাইলে ১৫ এপ্রিলের পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আগে আমাদের বাঁচতে দিতে হবে, তারপর অন্য বিষয় চিন্তা করা যাবে।’ বলছিলেন বিপ্লব সাহা।

ফ্যাশন হাউস ‘সাদাকালো’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বার্তা বেলা নিউজকে বলেন, ‘মার্কেট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্তে ব্যবসায় তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি, বরং পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি-সময়টা পুনর্বিন্যাস করা দরকার। সকাল ১০টা থেকে খোলার বদলে দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখলে বেশি কার্যকর হতো। কারণ বাস্তবতা হলো, দিনে যেখানে ৪০ শতাংশ ক্রেতা আসে, সেখানে সন্ধ্যার পর আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এখন সময় সীমিত থাকায় আমাদের বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে।’

আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘এটি নিয়মিত ব্যবসার জন্য বড় ধরনের আঘাত। এর সঙ্গে সামনে বৈশাখ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাধারণত এ সময় বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাজারে ব্যাপক কেনাকাটা শুরু হয়, কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জ্বালানি সংকটসহ সার্বিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে- বৈশাখ কীভাবে উদযাপিত হবে, সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।’

আজহারুল হক আজাদ আরও বলেন, ‘সময় কমে যাওয়ার প্রভাবও পড়ছে। বৈশাখ মানেই উৎসব, অনুষ্ঠান- তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আয়োজন কতটা হবে, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্রেতারা এখনো পুরোপুরি বাজারমুখী হচ্ছেন না। যদিও এবার ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আগের কয়েক বছরের তুলনায় ভালো ছিল। কারণ গত কয়েক বছর বৈশাখ ঈদের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আলাদা করে প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না। কিন্তু এবার ঈদের পর ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি সময় পাওয়া গিয়েছিল, তাই সবাই বেশি করে প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রস্তুতির সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আমরা এখনো সংশয়ে আছি। এ অবস্থায় আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, সকালের সময় কমিয়ে দিয়ে মার্কেট অন্তত রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক। তাহলে অন্তত ব্যবসা কিছুটা সচল রাখা সম্ভব হবে।’

রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বাড়ানোর দাবি

সারাদেশে দোকান, বাণিজ্য বিতান ও শপিংমল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি বলছে, তারা দুপুর ১২টায় দোকান-শপিংমল খুলে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চান। একই দাবি রয়েছে অন্যান্য সংগঠনগুলোরও।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বার্তা বেলা নিউজকে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক বেচাকেনা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কারণ আমাদের অধিকাংশ কাস্টমারই সন্ধ্যার পর আসেন, এটা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক বাস্তবতা, যা হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় আমরা বিকল্প হিসেবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। যেমন- সকালবেলা দোকান খুলে রাতে পর্যন্ত চালু রাখা, অথবা প্রয়োজনে দুপুর থেকে কার্যক্রম শুরু করা, যে কোনো সমন্বিত সমাধানে আমরা রাজি আছি, যদি এতে ব্যবসা কিছুটা টিকে থাকে।’

দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির এই নেতা আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, আয় কমলেও খরচ একটুও কমেনি। আমাদের দোকান ভাড়া দিতে হচ্ছে, সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে, স্টাফদের বেতন দিতে হচ্ছে। দোকান মালিকরা তাদের ভাড়া ঠিকই নিচ্ছেন, কিন্তু যারা ব্যবসা পরিচালনা করছি, আমরা কোথায় যাবো? মাস শেষে এসব খরচ তো আমাদের দিতেই হবে। এক মাস যদি আমাদের আয় না থাকে, তাহলে আমরা সেই পুঁজি পাবো কোথায়? ইতোমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ফেলেছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরামর্শক খাতেই ৩২২ কোটি টাকা আবদার

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরামর্শক খাতেই ৩২২ কোটি টাকা আবদার

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) ঋণ সহায়তায় জরুরি সেবা দিতে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। প্রকল্পে নানা ধরনের পরামর্শক-সেমিনার-গবেষণা-প্রশিক্ষণ-সার্ভে খাত দেখিয়ে ব্যয় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ি ভাড়া খাতে ৪০ কোটি এবং ভ্রমণে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ।

স্ট্রেনদেনিং হেলথ ইমার্জেন্সি প্রিভেনশন, প্রিপেয়ার্ডনেস, রেসপন্স অ্যান্ড রেজিলেন্স উইথ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্পে এ ব্যয় চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে আইডিএ ঋণ সহায়তায়। আইডিএ তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেয়, যেখানে সার্ভিস চার্জ প্রায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সুদহার প্রায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া উত্তোলন না হওয়া অর্থের ওপর বছরে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি দিতে হয়। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর এবং পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর।

তবে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সুদের হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয় ও পরিশোধের চাপ বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট ঋণ প্রস্তাব ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের স্বাস্থ্য উইংয়ের যুগ্মপ্রধান মানস মিত্র বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, মাত্র প্রকল্পটির প্রস্তাবনা এসেছে পরিকল্পনা কমিশনে। এখনো পিইসি সভা হয়নি। তবে সামনে সভা হবে এজন্য একটি ওয়ার্কিং পেপার তৈরি করেছি। প্রকল্পে গাড়ি ভাড়া ব্যয় বাবদ ৪০ কোটি, এছাড়া ভ্রমণ ব্যয়সহ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা এটা জানতে চাইবো। তবে প্রকল্পটি একেবারে প্রাথমিক ধাপে আছে। এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। প্রকল্পটি নিয়ে আমরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। সব ব্যয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

প্রকল্পে গাড়ি ভাড়া খাতে ৪০ কোটি ও ভ্রমণ ব্যয়ে ১২০ কোটি টাকা প্রস্তাবের সমালোচনা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘দেশে অনেক প্রকল্পেই মূল কাজের চেয়ে আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় বেশি হয়, যা নতুন কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে এমন প্রকল্পও দেখা গেছে যেখানে পরামর্শক, সেমিনার ও অন্যান্য খাতে ব্যয় থাকলেও মূল কার্যক্রমে গুরুত্ব কম ছিল। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী হন। প্রকল্পটি যেহেতু পরিকল্পনা কমিশনে গেছে, তাই সরকারের উচিত বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা, যাতে অযৌক্তিক ব্যয় অনুমোদন না পায়। যৌক্তিকভাবে সব কিছু ব্যয় করা উচিত।’

মুজেরি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ভুল বারবার হলেও দায় নির্ধারণ বা শাস্তির নজির খুব কম। প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন প্রচেষ্টা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংক্রামক ব্যাধির প্রাথমিক সতর্কতা ও নজরদারি ব্যবস্থার সহায়ক হবে। অগ্রাধিকারমূলক স্বাস্থ্য হুমকি প্রতিরোধ, স্থিতিস্থাপকতা ও প্রতিক্রিয়া উন্নত করা, স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, কার্যকর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে প্রকল্পটি। এছাড়া তিনটি মন্ত্রণালয়কে সহজতর পদ্ধতি ও দ্রুত তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য একটি সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতির জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিক্রিয়ার জন্য জাতীয় ক্ষমতা উন্নত করা।

মোট ব্যয়

প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে চার বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সারাদেশে বাস্তবায়িত হবে।

কোন খাতে কত ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা যায়, প্রকল্পের পরামর্শক খাতে ব্যয় চাওয়া হয়েছে ৩২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১১ শতাংশ। ৩৯৭ কোটি ৫ লাখ টাকার স্থানীয় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ শতাংশ। এছাড়া ১২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সেমিনার ওয়ার্কশপ ব্যয় চাওয়া হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ৩০৯ কোটি টাকা আদার বিল্ডিং স্ট্রাকচার খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কি উপকার হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবনায় সুস্পষ্ট নয়, এ বিষয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের (পিএমইউ) ৮০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার পরামর্শক, ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সেমিনার ব্যয়, ২ কোটি টাকার গবেষণা এবং ২ কোটি টাকার সার্ভে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ কীভাবে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তার কোনো ব্যাখ্যা প্রকল্পে নেই। একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটে ১৩৪ কোটি টাকার পরামর্শক, ১৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ১০২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সেমিনার, ২৭ কোটি টাকার গবেষণা এবং ১২ দশমিক ৬৭ কোটি টাকার সার্ভে' ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ব্যয় প্রস্তাবের যথার্থতা নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আরও একটি অংশে ৫৪ কোটি ৭১ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয়, ১৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সেমিনার এবং ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সার্ভে ব্যয় চাওয়া হয়েছে। এ ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না কমিশন। ফলে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। প্রকল্পের বন অধিদপ্তর অংশে ৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয়, ৫৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার পিএইচডি প্রোগ্রাম, আড়াই কোটি টাকার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওয়ার্কশপ, ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সার্ভে ইত্যাদি খাতের ব্যয় চাওয়া হয়েছে। যার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না কমিশন। প্রকল্পে ক্রস বর্ডার সার্ভিলেন্স প্রিভেনশন বাস্তবায়নে ৪৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, এর আওতায় কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মেডিসিন অ্যান্ড ভ্যাকসিন খাতে ১২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, আদার বিল্ডিং অ্যান্ড স্ট্রাকচার খাতে ১২৮ কোটি ৮৬ লাখ, ল্যাবরেটরি ইকুইপমেন্ট খাতে ২৬০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, প্রকল্পের কার্যক্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং এর প্রভাব দেশজুড়ে তথা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বিস্তৃত হবে। তবে, মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য জরুরি সেবা দেওয়ার উদ্দেশে তিনটি খাতের (মানব, প্রাণী ও পরিবেশ) জরুরি ল্যাবরেটরি সক্ষমতা স্থাপন উন্নয়ন আধুনিকায়ন উন্নীতকরণ এবং একটি কার্যকর ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গঠনের লক্ষ্যে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। তবে প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন কোনো সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট নয়, সমীক্ষণ প্রতিবেদনে প্রকল্পের যথার্থতা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে অথবা তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা জরুরি। বাংলাদেশ ছাড়াও আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগীর প্রকল্প ঋণের মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি না তার তথ্য জানতে চেয়েছে কমিশন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

একটি সহনশীল প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো। প্রধান লক্ষ্য হলো: টেকসই রোগ নির্ণয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বস্তরে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ, নজরদারি, আগাম সতর্কতা, মহামারি প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা ও মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নয়ন।

বাংলাদেশ বন বিভাগ

প্রাণিজ উৎসজনিত রোগ নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একটি সহনশীল বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়া।



জ্বালানি উপদেষ্টা
নতুন পে-স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে না

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

নতুন পে-স্কেল অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে না

অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পে-কমিশনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন পে-কমিশন প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র সীমিত সময়ের হওয়ায় এই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নে যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপারিশগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে মতামত দেবে।

পরবর্তী সরকার চাইলেই কি এ সুপারিশ বাতিল করতে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, পরবর্তী সরকার যে কোনো কিছু করতে পারে। এ সরকার যেমন একটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। পরবর্তী সরকার ঠিক একইভাবে ক্ষমতাপপ্রাপ্ত ওরা যেকোনো কিছু করতে পারে।

কমিটির যে সুপারিশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে গেলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই ব্যয়ের অর্থের সংস্থান কোথায় থেকে হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের যে কথা আপনারা বলছেন সেটা হবে যদি পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হয় এবং একই সময়ে যদি সব বাস্তবায়ন করা হয়।

তিনি বলেন, আমি সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, বাস্তবতা হলো এ ধরনের পে-কমিশন একসঙ্গে সব বাস্তবায়িত হয় না, পর্যায়ক্রমে হয়। সম্ভবত একটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। অর্থের সংস্থান কিভাবে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।

এ ধরনের সুপারিশ দিয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সরকারের জন্য চাপ হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা একটি সীমিত সময়ের সরকার। আমরা অনেক কাজ করছি যাতে আগামী সরকার উপকৃত হয়।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছিল। বিক্ষোভ হয়েছিল, নানা রকম। যাতে নতুন সরকার এসে এ ধরনের একটি অচল অবস্থা সম্মুখীন না হয়, আমরা চাচ্ছি নতুন যে সরকার আসবে তাদের যাত্রাপথ স্মুথ হয়। যেই সরকারই আসুক।

সুপারিশ গ্রহণ না করে এটা তো আপনারা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যেতে পারতেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কোন সুপারিশ গ্রহণ করিনি। শুধু রিপোর্টটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুপারিশ পরীক্ষার জন্য শুধু একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে।


বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

দীর্ঘদিন গতিহীনতা, সংকোচন ও আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে চলছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এই প্রেক্ষাপটে বহুদিনের দাবি- বহুজাতিক কোম্পানিসহ শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি এখনো সেই ‘অলীক স্বপ্ন’।

বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের গতি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ভালো কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতার অভাবে এ উদ্যোগ সফল হচ্ছে। শেয়ারবাজারের মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে পরামর্শ দেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল এ সরকারের মেয়াদে হয়তো দু-একটি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।

গত বছরের ১১ মে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে তার সভাপতিত্বে পুঁজিবাজারের সঠিক অবস্থা পর্যালোচনা ও উন্নয়নে করণীয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছে। সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দায়সারা উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— তালিকাভুক্তির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, বোর্ডে আলোচনা না করে তাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কথার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্য আমরা প্রাথমিকভাবে ১০টি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সে লক্ষ্যেই ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

তারা যে ধরনের কথা বলে, তা দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়া মনে হয়েছে। এই সরকারের আমলে অর্থাৎ, আগামী দেড়-দুই মাসে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি অতীতের মতোই একটি সাধারণ আলোচনা সভা হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে, তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতা বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।- ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারি

দেশে ব্যবসা করা অনেক বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতার বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আলাপ হতে পারে সেটা ১০-২০ শতাংশ হবে। কিন্তু তাদের বাধ্যতামূলক শেয়ারবাজারে আসতে হবে, এই নিয়ম করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার কীভাবে এ পদক্ষেপ নেবে, সে পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতে সরকার কখনোই এ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকেরই মনের মধ্যে ভয় ছিল যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে হয়তো সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ, এখানে ব্যবসা আছে বলেই তো তারা এসেছে। ব্যবসা থাকলে সে সব নিয়ম-কানুন মেনেই আসবে, এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সরকারি ভালো কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকারি শেয়ারগুলো আসেনি, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। আমার যেটা মনে হয়— এখানে (সরকারি প্রতিষ্ঠানে) যারা স্বাধীন পরিচালক হন তারা রাজনৈতিক লোকজন। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে তারা বোর্ডের বাইরে অন্য কোনোভাবে সুবিধা পান। এ কারণে তাদেরও একটা আপত্তি থাকে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে। এখন যেহেতু একটা অরাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, সুতরাং আমি মনে করি এই সরকারের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সরকারি ভালো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে) করলে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়, সরকারও লাভবান হবে। সুতরাং, অবশ্যই সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমি মনে করি নির্বাচিত সরকার আসার আগেই এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের কাজ করা উচিত।’

১০টি সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হলে বাজার কীভাবে উপকৃত হবে? এমন প্রশ্ন করলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘আলোচনা মাধ্যমে কিছু হবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই সরকারের সময় একটা শেয়ারও বাজারে আসেনি। বহুজাতিক ও সরকারি ফান্ডামেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত করতে পারলে শেয়ারবাজারের অনেক উপকার হতো।

সরকারি ভালো কোম্পানিগুলো কেন শেয়ারবাজারে আসে না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা সমস্যার, যারা এই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে থাকেন তারা চান না। বড় সমস্যা হচ্ছে সরকারি যেসব কর্মকর্তা এসব কোম্পানিতে আছেন, তারা চান না এগুলো শেয়ারবাজারে আসুক। হয়তো তারা এসব কোম্পানি থেকে অন্য কোনো সুবিধা পান, তালিকাভুক্ত হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।’

আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।- আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কীভাবে দেশের শেয়ারবাজারে আনা যায়? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে না আসা এক ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা বলছি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার জন্য। এক্ষেত্রে একটাই পদক্ষেপ, তা হলো সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকার আন্তরিকভাবে চাইলেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব।’

গত ৭ জানুয়ারি বহুজাতিক ও সরকারি ১০টি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ওখানে (বহুজাতিক কোম্পানিতে) আমাদেরও (সরকারের) শেয়ার আছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত নয়। ওরা বলেছে ওদের সিদ্ধান্ত বোর্ড ছাড়া হবে না। তবে সরকার থেকে আমরা সম্মতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে তো আগেও আলোচনা হয়েছে। এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগে এত দূর যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। এগুলো জটিল। কোম্পানি আইনকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে পাবলিক ইন্টারেস্টে। পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে কোনো বড় ইন্টারেস্ট কারও নেই। নেসলে যদি বোম্বেতে লিস্টেড থাকতে পারে, আমাদের এখানে সমস্যাটা কী? ইউনিলিভার জিএসকের অংশ তালিকাভুক্ত, কিন্তু তাদের মূল অংশ তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু বোম্বেতে টপ টেনের মধ্যে আছে। পাকিস্তানে আছে, থাইল্যান্ডে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইউনিলিভারে সরকারের ৪০ শতাংশের মতো শেয়ার আছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশও ছাড়তে চায় না। আমি বলি আমার সরকারি শেয়ারও বেচতে পারবে না? ওরা বলে বিদেশে ওদের বোর্ড মিটিং লাগবে।’