শেয়ার বাজার

সোনার দাম আরও কমলো, ভরি ২৫১১৮৪ টাকা

প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোনার দাম আরও কমলো, ভরি ২৫১১৮৪ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কিছুটা কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল রাতে ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ১ হাজার ৯২৫ টাকা। রাতের সিদ্ধান্তের পর সকাল হতেই এখন দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত আসলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ২৯৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

এর আগে গতকাল ঘোষণা দিয়ে আজ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৮৬৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকা। আজ সকাল ১০টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

দীর্ঘদিন গতিহীনতা, সংকোচন ও আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে চলছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এই প্রেক্ষাপটে বহুদিনের দাবি- বহুজাতিক কোম্পানিসহ শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি এখনো সেই ‘অলীক স্বপ্ন’।

বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের গতি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ভালো কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতার অভাবে এ উদ্যোগ সফল হচ্ছে। শেয়ারবাজারের মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে পরামর্শ দেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল এ সরকারের মেয়াদে হয়তো দু-একটি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।

গত বছরের ১১ মে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে তার সভাপতিত্বে পুঁজিবাজারের সঠিক অবস্থা পর্যালোচনা ও উন্নয়নে করণীয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছে। সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দায়সারা উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— তালিকাভুক্তির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, বোর্ডে আলোচনা না করে তাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কথার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্য আমরা প্রাথমিকভাবে ১০টি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সে লক্ষ্যেই ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

তারা যে ধরনের কথা বলে, তা দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়া মনে হয়েছে। এই সরকারের আমলে অর্থাৎ, আগামী দেড়-দুই মাসে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি অতীতের মতোই একটি সাধারণ আলোচনা সভা হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে, তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতা বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।- ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারি

দেশে ব্যবসা করা অনেক বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতার বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আলাপ হতে পারে সেটা ১০-২০ শতাংশ হবে। কিন্তু তাদের বাধ্যতামূলক শেয়ারবাজারে আসতে হবে, এই নিয়ম করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার কীভাবে এ পদক্ষেপ নেবে, সে পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতে সরকার কখনোই এ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকেরই মনের মধ্যে ভয় ছিল যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে হয়তো সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ, এখানে ব্যবসা আছে বলেই তো তারা এসেছে। ব্যবসা থাকলে সে সব নিয়ম-কানুন মেনেই আসবে, এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সরকারি ভালো কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকারি শেয়ারগুলো আসেনি, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। আমার যেটা মনে হয়— এখানে (সরকারি প্রতিষ্ঠানে) যারা স্বাধীন পরিচালক হন তারা রাজনৈতিক লোকজন। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে তারা বোর্ডের বাইরে অন্য কোনোভাবে সুবিধা পান। এ কারণে তাদেরও একটা আপত্তি থাকে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে। এখন যেহেতু একটা অরাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, সুতরাং আমি মনে করি এই সরকারের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সরকারি ভালো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে) করলে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়, সরকারও লাভবান হবে। সুতরাং, অবশ্যই সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমি মনে করি নির্বাচিত সরকার আসার আগেই এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের কাজ করা উচিত।’

১০টি সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হলে বাজার কীভাবে উপকৃত হবে? এমন প্রশ্ন করলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘আলোচনা মাধ্যমে কিছু হবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই সরকারের সময় একটা শেয়ারও বাজারে আসেনি। বহুজাতিক ও সরকারি ফান্ডামেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত করতে পারলে শেয়ারবাজারের অনেক উপকার হতো।

সরকারি ভালো কোম্পানিগুলো কেন শেয়ারবাজারে আসে না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা সমস্যার, যারা এই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে থাকেন তারা চান না। বড় সমস্যা হচ্ছে সরকারি যেসব কর্মকর্তা এসব কোম্পানিতে আছেন, তারা চান না এগুলো শেয়ারবাজারে আসুক। হয়তো তারা এসব কোম্পানি থেকে অন্য কোনো সুবিধা পান, তালিকাভুক্ত হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।’

আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।- আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কীভাবে দেশের শেয়ারবাজারে আনা যায়? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে না আসা এক ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা বলছি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার জন্য। এক্ষেত্রে একটাই পদক্ষেপ, তা হলো সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকার আন্তরিকভাবে চাইলেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব।’

গত ৭ জানুয়ারি বহুজাতিক ও সরকারি ১০টি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ওখানে (বহুজাতিক কোম্পানিতে) আমাদেরও (সরকারের) শেয়ার আছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত নয়। ওরা বলেছে ওদের সিদ্ধান্ত বোর্ড ছাড়া হবে না। তবে সরকার থেকে আমরা সম্মতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে তো আগেও আলোচনা হয়েছে। এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগে এত দূর যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। এগুলো জটিল। কোম্পানি আইনকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে পাবলিক ইন্টারেস্টে। পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে কোনো বড় ইন্টারেস্ট কারও নেই। নেসলে যদি বোম্বেতে লিস্টেড থাকতে পারে, আমাদের এখানে সমস্যাটা কী? ইউনিলিভার জিএসকের অংশ তালিকাভুক্ত, কিন্তু তাদের মূল অংশ তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু বোম্বেতে টপ টেনের মধ্যে আছে। পাকিস্তানে আছে, থাইল্যান্ডে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইউনিলিভারে সরকারের ৪০ শতাংশের মতো শেয়ার আছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশও ছাড়তে চায় না। আমি বলি আমার সরকারি শেয়ারও বেচতে পারবে না? ওরা বলে বিদেশে ওদের বোর্ড মিটিং লাগবে।’


বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

বাজারে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্য ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত ডলার তুলে নিচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বাড়ছে।

তবে এই নীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্নমত। স্বল্পমেয়াদে এটি স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় রাখতে হয়। উদাহরণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করে, তাহলে শুধু যন্ত্রপাতি নয়-কাঁচামাল, উৎপাদন পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় আগেই নিশ্চিত করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই মুহূর্তে হয়তো ডলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে, কিন্তু সামনে যে বাড়তি চাহিদার চাপ আসবে সেটি কতটা সামাল দেওয়া যাবে—তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কেনা নিয়ে লাভ–ক্ষতির রেকর্ড তোলার কোনো সুযোগ নেই। এটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয় যেখানে খরচ করে লাভ দেখানো যায়। বরং অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির চাপে বিনিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।- বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করলে কাঁচামালসহ নানা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সামনে বাড়তি চাহিদার চাপ কতটা সামাল দেওয়া যাবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

ডলার কেনায় ক্যাশ মার্কেটে প্রভাব পড়ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।’

ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার না তুলতো এবং ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে যেত, তাহলে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যেত। এতে দেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাতেন, যা রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতো। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যখন একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব সরকার দায়িত্ব নেবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে, তখন প্রয়োজনীয় ডলার কোথা থেকে আসবে- এ প্রশ্ন আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, এখন যদি সরকার ডলার সংরক্ষণ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যাওয়ার মতো বড় ফ্ল্যাকচুয়েশন দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের পক্ষে এ ধরনের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে একদিকে রপ্তানিকারক, অন্যদিকে আমদানিকারক— উভয় পক্ষই বড় চাপে পড়তে পারে।

ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।- চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি এবং এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগবান্ধব সরকার এলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। এখন ডলার সংরক্ষণ না করলে তখন ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যেতে পারে, যা আমদানিকারকদের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ফলে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক-উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ শিল্প উদ্যোক্তার মতে, ডলারের দামের চেয়ে স্থিতিশীলতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজার থেকে ডলার কেনার বিকল্প নেই। সরকার শতভাগ সঠিক কাজটাই করছে।’

তবে অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলেরই একটি অংশ। এতে স্বল্পমেয়াদে ডলার বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং কিছুটা স্বস্তি আসবে। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি হিসেবে চলতে থাকে, তাহলে ডলার নীতির দ্বিমুখী প্রভাব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।’

বর্তমানে বাজারে থাকা অতিরিক্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নিচ্ছে, যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে রিজার্ভে। ফলে রিজার্ভ বাড়লেও বেসরকারি খাতে ডলারের প্রাপ্যতা সংকুচিত হচ্ছে। এতে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা আরও কঠিন হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই সমাধান তখনই আসবে, যখন দেশে বাস্তব অর্থে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) এবং অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল বায়েস বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে মূলত রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ডলারের দাম যেন অতিরিক্ত কমে বা বেড়ে না যায়—সে লক্ষ্যেই। বাজারে ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে দাম পড়ে যেতে পারে, যা রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতের জন্য ক্ষতিকর। এই ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ডলার কিনে নেয় এবং প্রয়োজন হলে ডলার ছেড়ে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মূলত ডলার বাজারে একটি দ্বিমুখী হস্তক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই রিজার্ভ কী কাজে লাগছে। যদি একই সঙ্গে আমদানি, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়তো, তাহলে রিজার্ভ বৃদ্ধির তাৎপর্য থাকতো। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির। বলা যায়, চর্বি বাড়ছে, কিন্তু এক্সারসাইজ নেই।’

অধ্যাপক বায়েসের মতে, ‘স্বল্পমেয়াদে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখা কার্যকর হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও প্রকৃত ডলার চাহিদা তৈরি না হলে এই নীতির সুফল সীমিত থাকবে। ডলারের অস্থিতিশীলতাই রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ডলার বাজার একটি ‘স্ট্যাবল জোনে’ (স্থিতিশীল) রাখা।