রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
দালাল চক্রের সদস্যরা লিবিয়ায় উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে চার যুবককে প্রথমে দুবাই তারপর সিরিয়া মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠিয়ে তুলে দেয় সংঘবদ্ধ মাফিয়াদের হাতে। এরপর তাদের নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে ১০ লাখ করে চল্লিশ লাখ টাকা। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে জীবন দিতে হবে চক্রের হাতে চার জিম্মিকে। জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়।
বুধবার (২৭ মার্চ) বিকেল ৩টার মধ্যে যত পারে তত টাকা দিতেও বলা হয়। টাকা না দিলে একজন করে লাশ পড়বে বলে জানান অপহরণকারীরা। বুধবার বিকেলে অপহৃতদের স্বজনরা ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহৃত চার যুবক হলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যম গহিরা বাচা মিয়া মাঝির ঘাট এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. ওয়াসিম (২২), মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে বোরহান উদ্দিন (১৯), আবদুর রহিমের ছেলে জাবেদুর রহিম (১৯) ও জেবল হোসেনের ছেলে নাঈম উদ্দিন (২০)। তারা একই এলাকার বাসিন্দা।
অপহৃতদের স্বজনরা জানান, গহিরা এলাকার মো. হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম গত দুই মাস আগে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ার হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার আশ্বস্ত করেন। এতে মো. ওয়াসিম, বোরহান, জাবেদুর রহিম ও নাঈম উদ্দিন তার সাথে যোগাযোগ করে। প্রতিজন চার লাখ বিশ হাজার টাকা করে জহিরুল ইসলামকে মোট ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে বের হয় তারা।
তারা আরও জানান, জহিরুল তাদের টুরিস্ট ভিসায় প্রথমে দুবাই নিয়ে গিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাসিন্দা মো. মিজান নামে এক লোকের হাতে তুলে দেন। মিজান তিন দিন পর তাদের সবার পাসপোর্ট নিয়ে নেন। সাত দিন পর দুবাই থেকে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে মিজান অন্য দালালের হাতে বিক্রি করে দেন।
স্বজনরা জানান, লিবিয়ায় তাদের মাসখানেক কিছু কাজ দেওয়ার পর গত সোমবার (২৫ মার্চ) তাদের বন্দি করে রাখে। মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) পরিবার ও স্বজনদের কাছে কয়েকটি নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ ও অডিও পাঠায়। এতে প্রতিজনের থেকে ১০ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা প্রদানের জন্য ইসলামী ব্যাংকের চকরিয়া শাখার একটি ব্যাংক হিসাব নংও দেন। টাকা দিতে অপারগ হলে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
তারা আরও জানান, বর্তমানে ৪ যুবক লিবিয়ার একটি গোপন স্থানে বন্দি জীবনযাপন করছেন। টাকা পেলেই ফিরে দেবেন বলে জানান অপহরণকারীরা। দুইদিন ধরে দালালরা তাদের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও পাটাচ্ছে।
অপহৃত জাবেদুর রহিমের বাবা আবদুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার যা ছিল সব দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। সেখানে ছেলে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এখন ১০ লাখ টাকা দিলেই ছেলেকে ফেরত দেবে বলে জানাচ্ছে অপরণকারীরা। আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
বোরহান উদ্দিনের ভাই সাহাব উদ্দিন বলেন, বুধবার ৩টার মধ্যে চারজনের জন্য চার লাখ টাকা পাঠাতে বলেছে। বিকেল থেকে আমার মুঠোফোনের ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার ফোন করছে টাকার জন্য। তাদের নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও পাঠাচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
আনোয়ারা ইউএনও মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার চার যুবককে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র রমজান মাসে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজান মাসে কাজের সময় দুই ঘণ্টা কমানো হবে।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় কমানোর বিকল্প রয়েছে। পাশাপাশি যে কাজ ঘরে বসে করা যায় সেগুলোর বিষয়ে নমনীয় হওয়ার পরিকল্পনাও তাদের আছে।
আমিরাতের বেসরকারি খাতের কর্মীরা সাধারণত দিনে আট থেকে নয় ঘণ্টা কাজ করে। রমজান মাসে এই সময় দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কমানো হবে। কমানোর পর এই সময়সূচির বাইরে কেউ অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর জন্য কর্মীরা অতিরিক্ত মজুরি পাবেন।
দুবাই ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) প্রকাশিত হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে, রমজান সম্ভবত ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হবে।
পবিত্র মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কৃতি অনুশীলনে মুসলিমদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা কমানো রোজাদার ও যারা রোজা থাকে না, উভয় কর্মীর জন্য প্রযোজ্য।
ফেডারেল অথরিটি ফর গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস (এফএএইচআর) ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের জন্য পবিত্র রমজান মাসে অফিসিয়াল কাজের সময় নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী হজের নিয়ম লঙ্ঘন করায় অন্তত ৪২ জনকে আটক করেছে। তারা মূলত ভ্রমণ ভিসায় সৌদি গেছেন। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে মক্কায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই এসব ব্যক্তি মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা শুরু করেছে। তাছাড়া এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমোদনহীনভাবে হজ করার চেষ্টা বা এমন কাজে সহায়তা করলেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই নির্দেশনা কার্যকর হবে জিলক্বদের প্রথম দিন থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত।
নতুন বিধান অনুযায়ী, অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই শাস্তি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, ভিসার যে কোনো ধরনে যারা মক্কা বা পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করবেন বা অবস্থান করবেন, তারাও এর আওতায় পড়বেন।
অবৈধভাবে প্রবেশকারী বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী যারা হজ করার চেষ্টা করবেন, তাদের গ্রেফতার করে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছরের জন্য দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
