শেয়ার বাজার

দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দ্বিগুণ দামেও মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। সরকার ঘোষিত দামে বাজারে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না। এমনকি ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার হাজার টাকা বেশি গুনেও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিনের বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁর রান্না নিয়ে মারাত্মক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে সে দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়েও অনেক এলাকায় মিলছে না। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে অসন্তোষও।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে৷

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ কমায় তারা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অনেক ডিলারের দোকান ফাঁকা। কোনো কোনো দোকানে সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকা অন্যদিকে বাড়তি দামেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার আনতে পারছেন না তারা৷

সরবরাহ সংকটের কারণে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও নিম্নআয়ের মানুষেরা মাটির চুলা ব্যবহার করছেন।

ভোক্তারা বলছেন, বাসাবাড়িতে রান্নার একমাত্র ভরসা এলপি গ্যাস। সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামে কিনছেন, আবার অনেক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর আজিমপুর এলাকার চা বিক্রেতা সিজান বলেন, চায়ের দোকানে সিলিন্ডার গ্যাস আমাদের লাগেই। এই এলাকার কোনো দোকান থেকে সিলিন্ডার কিনতে পারছি না। ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার কামরাঙ্গীরচর থেকে কিনে এনেছি ২ হাজার ৩০০ টাকায়।

আরেক দোকানি রুমান বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করে গতকাল (রোববার) রাতে ২ হাজার ৪০০ টাকায় দুটি সিলিন্ডার পাইছি৷ দাম তো অনেক বেশি৷ কিন্তু কিছু করার নেই, গ্যাস তো লাগবেই৷ এজন্য বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বাটা সিগন্যাল এলাকার এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা ব্যবসায়ী রিপন বলেন, আমরা আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন অনেকেই সিলিন্ডার চাচ্ছেন, আমরা দিতে পারছি না। পাইকারি বিক্রেতারা দাম বেশি নিচ্ছেন৷ কিন্তু গত দুদিন বেশি দামেও পাচ্ছি না। আমরা প্রতি সিলিন্ডারে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ করি। ঘরভাড়া, ভ্যানভাড়া ও লেবার খরচ বাদ দিয়ে তেমন লাভ থাকে না।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বাড়তি দাম রাখছেন। কোথাও কোথাও অস্বাভাবিক দাম রাখা হচ্ছে।

ধানমন্ডির কাঁঠালবাগান এলাকার পাইকারি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজের মালিক জাহিদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমরা সিলিন্ডার ঠিকমতো পাচ্ছি না। চাহিদা মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সিলিন্ডার আনতে নরসিংদী গাড়ি পাঠাতে হয়৷ গাড়ি গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৭-৮ দিন বসে থাকে৷ গাড়ি ভাড়ার ডেমারেজ দিতে হয়৷ আমাদের খরচ অনেক বেশি পড়ে যায়৷

কোম্পানি থেকে সরকারি দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নে এই বিক্রেতা বলেন, কোম্পানি আমাদের থেকে সরকার নির্ধারিত দাম রাখছে। কিন্তু মার্কেটে সাপ্লাই কম, গাড়ি বসে থাকে। এজন্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আমরাও কিছুটা বাড়তি দাম রাখছি।


সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

দেশীয় স্পিনিং শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিল অব এন্ট্রিতে কটন ইয়ার্নের কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে এবং এইচএস কোডের অপব্যবহাররোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প সুরক্ষিত হবে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।

গত ১২ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিবউটিও সেল-২ থেকে এক চিঠিতে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আহ্বানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিল্পের সুরক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২.০৫, ৫২.০৬ ও ৫২.০৭-এর আওতায় ১০ ও ৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ড সুবিধা থাকায় গত কয়েক বছরে আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসব এইচএস হেডিংয়ের আওতায় সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টনে এবং মূল্য ছাড়িয়ে যায় প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিকের প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী, যেখানে আমদানির পরিমাণ ও মূল্য দুটিই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্ড সুবিধা বন্ধের ব্যাখ্যায় চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে আমদানি করা নিম্ন কাউন্টের সুতা দেশীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তারা মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে উৎপাদন চালাচ্ছে, যা শিল্পটির আর্থিক টেকসই অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সুতা আমদানির এই প্রবণতার কারণে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এরই মধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক।

এছাড়া সুতা আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের গার্মেন্টস খাতকে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। এতে দেশের টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্প কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার কথা তুলে বলেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা অনেকাংশে হারাতে হবে। তখন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, সেপা ও জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে রপ্তানি পণ্যে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। আমদানি করা সুতার ওপর নির্ভরতা থাকলে এসব শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, মনে করে বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও লিড টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে রপ্তানি খাতের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাবে। বিপরীতে, নিম্ন কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্পে ভারসাম্য ফিরে আসবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।


জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরামর্শক খাতেই ৩২২ কোটি টাকা আবদার

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পরামর্শক খাতেই ৩২২ কোটি টাকা আবদার

বিশ্বব্যাংকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) ঋণ সহায়তায় জরুরি সেবা দিতে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। প্রকল্পে নানা ধরনের পরামর্শক-সেমিনার-গবেষণা-প্রশিক্ষণ-সার্ভে খাত দেখিয়ে ব্যয় চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ি ভাড়া খাতে ৪০ কোটি এবং ভ্রমণে ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ।

স্ট্রেনদেনিং হেলথ ইমার্জেন্সি প্রিভেনশন, প্রিপেয়ার্ডনেস, রেসপন্স অ্যান্ড রেজিলেন্স উইথ ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্পে এ ব্যয় চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে আইডিএ ঋণ সহায়তায়। আইডিএ তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেয়, যেখানে সার্ভিস চার্জ প্রায় শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং সুদহার প্রায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া উত্তোলন না হওয়া অর্থের ওপর বছরে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি দিতে হয়। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড পাঁচ বছর এবং পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর।

তবে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে সুদের হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রকল্প ব্যয় ও পরিশোধের চাপ বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট ঋণ প্রস্তাব ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।

আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের স্বাস্থ্য উইংয়ের যুগ্মপ্রধান মানস মিত্র বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, মাত্র প্রকল্পটির প্রস্তাবনা এসেছে পরিকল্পনা কমিশনে। এখনো পিইসি সভা হয়নি। তবে সামনে সভা হবে এজন্য একটি ওয়ার্কিং পেপার তৈরি করেছি। প্রকল্পে গাড়ি ভাড়া ব্যয় বাবদ ৪০ কোটি, এছাড়া ভ্রমণ ব্যয়সহ সব কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা এটা জানতে চাইবো। তবে প্রকল্পটি একেবারে প্রাথমিক ধাপে আছে। এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। প্রকল্পটি নিয়ে আমরা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। সব ব্যয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

প্রকল্পে গাড়ি ভাড়া খাতে ৪০ কোটি ও ভ্রমণ ব্যয়ে ১২০ কোটি টাকা প্রস্তাবের সমালোচনা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘দেশে অনেক প্রকল্পেই মূল কাজের চেয়ে আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় বেশি হয়, যা নতুন কিছু নয়।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে এমন প্রকল্পও দেখা গেছে যেখানে পরামর্শক, সেমিনার ও অন্যান্য খাতে ব্যয় থাকলেও মূল কার্যক্রমে গুরুত্ব কম ছিল। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী হন। প্রকল্পটি যেহেতু পরিকল্পনা কমিশনে গেছে, তাই সরকারের উচিত বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করা, যাতে অযৌক্তিক ব্যয় অনুমোদন না পায়। যৌক্তিকভাবে সব কিছু ব্যয় করা উচিত।’

মুজেরি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ভুল বারবার হলেও দায় নির্ধারণ বা শাস্তির নজির খুব কম। প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে জনগণের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন প্রচেষ্টা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংক্রামক ব্যাধির প্রাথমিক সতর্কতা ও নজরদারি ব্যবস্থার সহায়ক হবে। অগ্রাধিকারমূলক স্বাস্থ্য হুমকি প্রতিরোধ, স্থিতিস্থাপকতা ও প্রতিক্রিয়া উন্নত করা, স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা, কার্যকর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে প্রকল্পটি। এছাড়া তিনটি মন্ত্রণালয়কে সহজতর পদ্ধতি ও দ্রুত তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য একটি সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতির জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিক্রিয়ার জন্য জাতীয় ক্ষমতা উন্নত করা।

মোট ব্যয়

প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে চার বছর মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সারাদেশে বাস্তবায়িত হবে।

কোন খাতে কত ব্যয়

পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা যায়, প্রকল্পের পরামর্শক খাতে ব্যয় চাওয়া হয়েছে ৩২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১১ শতাংশ। ৩৯৭ কোটি ৫ লাখ টাকার স্থানীয় আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১৩ শতাংশ। এছাড়া ১২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সেমিনার ওয়ার্কশপ ব্যয় চাওয়া হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ৩০৯ কোটি টাকা আদার বিল্ডিং স্ট্রাকচার খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কি উপকার হবে, তা প্রকল্প প্রস্তাবনায় সুস্পষ্ট নয়, এ বিষয় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের (পিএমইউ) ৮০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার পরামর্শক, ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সেমিনার ব্যয়, ২ কোটি টাকার গবেষণা এবং ২ কোটি টাকার সার্ভে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ কীভাবে ওয়ান হেলথ অ্যাপ্রোচ কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তার কোনো ব্যাখ্যা প্রকল্পে নেই। একইভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটে ১৩৪ কোটি টাকার পরামর্শক, ১৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ১০২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সেমিনার, ২৭ কোটি টাকার গবেষণা এবং ১২ দশমিক ৬৭ কোটি টাকার সার্ভে' ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ব্যয় প্রস্তাবের যথার্থতা নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আরও একটি অংশে ৫৪ কোটি ৭১ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয়, ১৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রশিক্ষণ, ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সেমিনার এবং ৭৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার সার্ভে ব্যয় চাওয়া হয়েছে। এ ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না কমিশন। ফলে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। প্রকল্পের বন অধিদপ্তর অংশে ৫২ কোটি ৯১ লাখ টাকার পরামর্শক ব্যয়, ৫৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার পিএইচডি প্রোগ্রাম, আড়াই কোটি টাকার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওয়ার্কশপ, ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সার্ভে ইত্যাদি খাতের ব্যয় চাওয়া হয়েছে। যার কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না কমিশন। প্রকল্পে ক্রস বর্ডার সার্ভিলেন্স প্রিভেনশন বাস্তবায়নে ৪৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, এর আওতায় কি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মেডিসিন অ্যান্ড ভ্যাকসিন খাতে ১২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা, আদার বিল্ডিং অ্যান্ড স্ট্রাকচার খাতে ১২৮ কোটি ৮৬ লাখ, ল্যাবরেটরি ইকুইপমেন্ট খাতে ২৬০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, প্রকল্পের কার্যক্রম বাংলাদেশের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং এর প্রভাব দেশজুড়ে তথা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বিস্তৃত হবে। তবে, মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য জরুরি সেবা দেওয়ার উদ্দেশে তিনটি খাতের (মানব, প্রাণী ও পরিবেশ) জরুরি ল্যাবরেটরি সক্ষমতা স্থাপন উন্নয়ন আধুনিকায়ন উন্নীতকরণ এবং একটি কার্যকর ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গঠনের লক্ষ্যে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। তবে প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন কোনো সংস্থার মাধ্যমে করা হয়েছে তা সুস্পষ্ট নয়, সমীক্ষণ প্রতিবেদনে প্রকল্পের যথার্থতা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে অথবা তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা জরুরি। বাংলাদেশ ছাড়াও আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন সহযোগীর প্রকল্প ঋণের মাধ্যমে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি না তার তথ্য জানতে চেয়েছে কমিশন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

একটি সহনশীল প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো। প্রধান লক্ষ্য হলো: টেকসই রোগ নির্ণয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বস্তরে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ, নজরদারি, আগাম সতর্কতা, মহামারি প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা জোরদার করা ও মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা উন্নয়ন।

বাংলাদেশ বন বিভাগ

প্রাণিজ উৎসজনিত রোগ নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একটি সহনশীল বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্য ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও সাড়া দেওয়া।