শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে
শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার আলোচিত ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের
কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের
রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্বাক্ষরিত এক অফিস
আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট
আবাসিক হলগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণ, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ
খতিয়ে দেখতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয়
সুপারিশও প্রদান করবে কমিটি। তদন্ত শেষে একটি
পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির
চৌধুরীকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড.
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শাহপরান হলের প্রাধ্যক্ষ
অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ এবং ফাতিমা-তুজ-জাহরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.
ইসমত আরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে
নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। গত ৭ মে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতারা
উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে
তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বানও জানানো হয়। স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন,
আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে চাপ
সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী বলেন, তদন্ত কমিটি
গঠনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিক চিঠিও হাতে পেয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর কমিটির কার্যক্রম শুরু
করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের
আগস্টে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সময় আবাসিক হলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সে সময় বিভিন্ন অভিযোগ ও চাপের মুখে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের
জন্য পুনরায় আসন বরাদ্দের কার্যক্রম চালু করা হয়।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পর তদন্ত কমিটি গঠন করায় বিষয়টি আবারও ক্যাম্পাসে আলোচনায়
এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে ওই সময়ের পরিস্থিতি ও
দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।