শেয়ার বাজার

হল পরিদর্শন থেকে ডাইনিং টেবিল
শিক্ষার্থীদের পাশে শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

শিক্ষার্থীদের পাশে শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাঠে নামলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। আবাসিক হল পরিদর্শন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে দুপুরের খাবার খাওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রথম কয়েক দিনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপাচার্য। পরিদর্শিত হলগুলো হলো আয়েশা সিদ্দিকা হল, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল, ফাতিমা তুজ জাহরা হল, শাহপরান হল, বিজয় ২৪ হল এবং সৈয়দ মুজতবা আলী হল। পরিদর্শনে শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। হল প্রশাসন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিনয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। কর্মচারীদের কাজের গতি ও উৎসাহ বাড়াতে 'বেস্ট স্টাফ' পুরস্কার চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান উপাচার্য।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্দিষ্ট 'ভিজিটিং আওয়ার' চালু করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপাচার্যের কাছে সমস্যা জানাতে পারেন। পাশাপাশি যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে হলের কক্ষ পরিদর্শনে আসার কথাও জানান তিনি। সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন কক্ষের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন এ সময়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট থাকবেন ততক্ষণ কোনো বাধা বা প্রতিকূলতার পরোয়া করেন না তিনি।

নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। তবে এই যাত্রায় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চান বলে জানান। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সাবিহা আফরিন, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসমত আরা, অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন শিকদার এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।

দুই দিন পর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরও এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন উপাচার্য। দুপুরে শাহপরান হলের ডাইনিংয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান এবং তাদের খোঁজখবর নেন তিনি। খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন উপাচার্য। বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সমাধানে সময় প্রয়োজন, তবে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। চলমান ছুটির পরপরই প্রতিটি হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসার ঘোষণাও দেন তিনি। উপাচার্যের এই ধারাবাহিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রশাসনের এই সরাসরি তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলাম এবং সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিসবাহ উদ্দি


সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য চান না প্রধানমন্ত্রী: নওফেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য চান না প্রধানমন্ত্রী: নওফেল

বার্তাবেলা ডেস্ক: দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো ধরনের বৈষম্য চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—বিশ্ববিদালয়গুলোর মধ্যে কোনো রকমের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সেটা হোক প্রাইভেট কিংবা পাবলিক।’

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এখন আন্তর্জাতিক চাকরির ক্ষেত্রে ভালো জায়গায় যেতে পারছেন। সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগও সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ফ্যাকাল্টিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তন করার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করা এবং পেনশন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া সমন্বয়ের বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রি বলতে আমরা বুঝি ফিজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, মানে কলকারখানা। আমি বলছি— ভোকেশনের কথা। ভোকেশনের সঙ্গে একাডেমিয়ার লিংক বড় বিষয়।


বরাদ্দ অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে ‘অনীহা’

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

বরাদ্দ অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে ‘অনীহা’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি মাত্র একমাস। এ নির্বাচনে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হলেও তাতে নড়চড় নেই শিক্ষা প্রশাসনে। বরাদ্দের অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে এক ধরনের ‘অনীহা’ দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে সরকারি বরাদ্দের কোনো তথ্য তারা এখনো পাননি। বরাদ্দ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার কারণে প্রস্তুতি শুরু করাও সম্ভব হয়নি। ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি শুধু চিঠি ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগ ও খরচে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কিছু কাজ করছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসির চিঠি পেলেও মিলছে না বরাদ্দ

জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমরা তথ্য পাইনি। কীভাবে ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামত বা সংস্কার করা হবে, তা আমি বলতে পারছি না।- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন সূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়—এমন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনাগুলো সংস্কার, মেরামত, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাস্তা সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মতির প্রয়োজন হবে না বলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো মূলত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নিজস্ব প্রকৌশল বিভাগ না থাকায় এ দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল তারা। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায় ও কলেজ এবং মাদরাসা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী  বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমরা তথ্য পাইনি। কীভাবে ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামত বা সংস্কার করা হবে, তা আমি বলতে পারছি না।’

কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানেও নিয়মের মারপ্যাঁচ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির দিকে নজর না দিলে ভোটের দিন লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হতে পারে।- ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চিঠির পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করা হয়। তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলেছেন—ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দ নেই। এ কারণে কোনো অর্থও দেওয়া সম্ভব নয়। এখন এ সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরাদ্দের এমন অনিশ্চয়তায় মূলত সবাই চুপ। কারও কোনো নড়চড় নেই।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে চান না বলে জানান।

ভোটকেন্দ্রে কোন ধরনের সংস্কার-প্রস্তুতি প্রয়োজন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য এক লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং নারীদের জন্য এক লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট কক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।

বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। বরাদ্দ না পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পয়ঃনিষ্কাশন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা ও প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। শিগগির আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে চিঠি দেবো।- ইসি সচিব আখতার আহমেদ

এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রবেশ করা ভোটাদের ভোট গ্রহণে যত সময় লাগবে, তা নেওয়া হবে। ফলে ভোটগ্রহণ শেষ হতেই প্রায় ৫টা বাজবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর ভোট গণনা শুরু হবে। সেটি করতেও অনেক সময় লাগবে। রাতেও কাজ চলবে।

পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগের দিন রাতে কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। ফলে দুই রাতের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি থাকতে হবে। এছাড়া দিনের বেলায়ও ভোটকেন্দ্রের কক্ষ ও বুথগুলোতে বৈদ্যুতিক বাতির প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতি, গোসলখানা, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান থাকলেও বাতির ব্যবস্থা নেই। কারণ স্কুলগুলোতে দিনের বেলা ক্লাস হয়। আবার পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধাও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই। এসব বিষয়ে প্রস্তুতি ও সংস্কার করতে টাকা প্রযোজন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক-অধ্যক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বেকায়দায় পড়েছেন।

নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা কর্মকর্তারা

ভোটকেন্দ্র হতে পারে বা সক্ষমতা আছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা জমা দিয়েছেন সব জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু সংস্কারের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি তারা। কীভাবে, কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়েও কোনো ধারণা নেই তাদের। প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরাও বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে।

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান সরকার বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র হতে পারে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা তালিকা করে জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনো বরাদ্দ বা সংস্কারের নির্দেশনা পাইনি। ফলে কোনো কেন্দ্র প্রস্তুতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। জেলা প্রশাসন হয়তো এটা জানাতে পারবেন।’

রাজবাড়ীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করে বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘কেন্দ্রের তালিকায় আমাদের কলেজের নাম আছে। তবে আমরা কোনো প্রস্তুতি শুরু করতে পারিনি। আমাদের তহবিলে সংস্কারের জন্য তেমন টাকা নেই। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু করতে হলে গভর্নিং বডির অনুমোদন লাগবে। এখন কলেজে গভর্নিং বডিও নেই। সেজন্য আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’

ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি, নিজস্ব তহবিল থেকে খরচের নির্দেশ

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ৬ জানুয়ারি সব শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্বাচনকালীন কার্যক্রমের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বরাদ্দের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ করা হবে, সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সংস্কার বা মেরামত, বুথ ও আঙিনায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা এবং টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সিসি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে বিধি মোতাবেক খরচ করা যেতে পারে।

ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছি ঠিক, তবে যেসব কাজ করতে বলা হয়েছে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্বাহ করা সম্ভব নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানেও নিয়মের মারপ্যাঁচ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির দিকে নজর না দিলে ভোটের দিন লেজেগোবরে অবস্থার তৈরি হতে পারে।

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে গড়িমসির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে আমরা চিঠি দিয়েছি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা সচল করতে বলা হয়েছে। যেখানে নেই, সেখানে কিনতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বরাদ্দ প্রয়োজন হলে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দিতে বাধ্য থাকবে। আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি তারা নেবেন। আমরা যতদূর জানি কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে কেউ গড়িমসি করলে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সংস্কার ও মেরামতের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তারা বরাদ্দ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। বরাদ্দ না পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পয়ঃনিষ্কাশন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা ও প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। শিগগির আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে চিঠি দেবো।’ 


২০২৫ সালের এসএসসি ফেব্রুয়ারিতে, এইচএসসি এপ্রিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ মার্চ, ২০২৪

২০২৫ সালের এসএসসি ফেব্রুয়ারিতে, এইচএসসি এপ্রিলে

২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। একই সঙ্গে আগামী বছর এপ্রিলের শুরুতেই এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আগে আমরা সাধারণত এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে আয়োজন করতাম। আমরা আগের সেই সূচিতে ফিরে যেতে চাই। এসএসসি পরীক্ষা দ্রুত শেষ করতে পারলে এইচএসসি পরীক্ষাও আগের সূচিতে আয়োজন করা যাবে।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিল মাসে আয়োজন করা হতো। করোনার কারণে পাবলিক পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আশা করছি আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি এবং এপ্রিলের শুরুতেই এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন করতে পারবো।

আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে অধ্যাপক তপন কুমার বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিল পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা কঠিন হওয়ায় সংক্ষিপ্ত অর্থাৎ ২০২৩ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।