শেয়ার বাজার

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। শনিবার (২৩ মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষর করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮৭-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে।

নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, সরকার তাঁর ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে এই যাত্রায় সবার দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন নতুন উপাচার্য।

দীর্ঘ শিক্ষকজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরের বছরই ২০০৪ সালে শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে যোগ দেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ পেরিয়ে বর্তমানে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বেও তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়কালে অনুষদের একাডেমিক পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস কর্মসূচির আওতায় শাবিপ্রবিতে 'ফ্যামিলি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ে আন্তর্জাতিক এমবিএ প্রোগ্রাম সফলভাবে পরিচালনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

শিক্ষাজীবন ও মেধার স্বীকৃতি

১৯৭৬ সালে বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার কেয়াড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. খায়রুল ইসলাম। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন প্রতিটি ধাপে। বিবিএ ও এমবিএ উভয় পর্যায়েই অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিশেষ মেধাবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার ও চ্যান্সেলর স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

গবেষণাক্ষেত্রে ড. খায়রুল ইসলামের মূল আগ্রহ টেকসই উন্নয়ন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত নিয়ে। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ২০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন তিনি। একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবেও বক্তব্য রেখেছেন। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং অক্সফোর্ডের সাঈদ বিজনেস স্কুলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।

পেশাজীবী সংগঠনে সম্পৃক্ততা

শিক্ষকতা ও গবেষণার বাইরে পেশাজীবী সংগঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন ড. খায়রুল ইসলাম। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শাবিপ্রবির সাদা দলভিত্তিক শিক্ষক ফোরামের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

হল পরিদর্শন থেকে ডাইনিং টেবিল
শিক্ষার্থীদের পাশে শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের পাশে শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাঠে নামলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। আবাসিক হল পরিদর্শন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে দুপুরের খাবার খাওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রথম কয়েক দিনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপাচার্য। পরিদর্শিত হলগুলো হলো আয়েশা সিদ্দিকা হল, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল, ফাতিমা তুজ জাহরা হল, শাহপরান হল, বিজয় ২৪ হল এবং সৈয়দ মুজতবা আলী হল। পরিদর্শনে শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। হল প্রশাসন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিনয়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। কর্মচারীদের কাজের গতি ও উৎসাহ বাড়াতে 'বেস্ট স্টাফ' পুরস্কার চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান উপাচার্য।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. খায়রুল ইসলাম। তিনি জানান, নির্দিষ্ট 'ভিজিটিং আওয়ার' চালু করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপাচার্যের কাছে সমস্যা জানাতে পারেন। পাশাপাশি যেকোনো সময় আকস্মিকভাবে হলের কক্ষ পরিদর্শনে আসার কথাও জানান তিনি। সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন কক্ষের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন এ সময়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। দৃঢ়কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট থাকবেন ততক্ষণ কোনো বাধা বা প্রতিকূলতার পরোয়া করেন না তিনি।

নিজের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। তবে এই যাত্রায় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চান বলে জানান। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সাবিহা আফরিন, প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইসমত আরা, অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলাম, সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. বেলাল হোসাইন শিকদার এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির।

দুই দিন পর মঙ্গলবার (২৬ মে) আরও এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন উপাচার্য। দুপুরে শাহপরান হলের ডাইনিংয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে খাবার খান এবং তাদের খোঁজখবর নেন তিনি। খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন উপাচার্য। বাবুর্চি ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সমাধানে সময় প্রয়োজন, তবে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। চলমান ছুটির পরপরই প্রতিটি হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসার ঘোষণাও দেন তিনি। উপাচার্যের এই ধারাবাহিক উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রশাসনের এই সরাসরি তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ, পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়া, অধ্যাপক ড. জিএম রবিউল ইসলাম এবং সহকারী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিসবাহ উদ্দি



শিক্ষায় সিলেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

শিক্ষায় সিলেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, এক সময় সিলেট ছিল উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। আসাম প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) ছিলেন সিলেটেরই কৃতি সন্তান। পাক-ভারত উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জন্ম এই অঞ্চলে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে সিলেট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমাদের শিক্ষায় সিলেটের সেই হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দক্ষিণ সুরমার লাউয়াইয়ে নূরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন এবং ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “অতীতে দীর্ঘ সময় সিলেটের একজন ব্যক্তি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বরং গত ১৭ বছরে গণহারে পাসের সংস্কৃতি চালু করে শিক্ষা ব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার।”

নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যয় অবৈতনিক ঘোষণা করে নারীশিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নারীশিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিক এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, নিজেদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব তোমাদের হাতেই। তাই তোমাদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।”

কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মিফতাহুল হোসেন সুইট, সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, লাউয়াই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত আহমদ, গভর্নিং বডির সদস্য রাসেল মাহবুব, ডা. এনামুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল বায়েছ, মো. নুরুল ইসলাম এবং রুমানা সুলতানা।


বরাদ্দ অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে ‘অনীহা’

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

বরাদ্দ অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে ‘অনীহা’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি মাত্র একমাস। এ নির্বাচনে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নিতে বলা হলেও তাতে নড়চড় নেই শিক্ষা প্রশাসনে। বরাদ্দের অনিশ্চয়তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে এক ধরনের ‘অনীহা’ দেখা যাচ্ছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে সরকারি বরাদ্দের কোনো তথ্য তারা এখনো পাননি। বরাদ্দ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার কারণে প্রস্তুতি শুরু করাও সম্ভব হয়নি। ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি শুধু চিঠি ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগ ও খরচে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কিছু কাজ করছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসির চিঠি পেলেও মিলছে না বরাদ্দ

জানা যায়, গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমরা তথ্য পাইনি। কীভাবে ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামত বা সংস্কার করা হবে, তা আমি বলতে পারছি না।- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন সূচি ঘোষণা করেছে। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়—এমন প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনাগুলো সংস্কার, মেরামত, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, রাস্তা সংস্কার বা মেরামতের প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সম্মতির প্রয়োজন হবে না বলে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদরাসাগুলো মূলত ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নিজস্ব প্রকৌশল বিভাগ না থাকায় এ দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল তারা। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায় ও কলেজ এবং মাদরাসা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী  বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দের বিষয়ে আমরা তথ্য পাইনি। কীভাবে ভোটকেন্দ্রগুলো মেরামত বা সংস্কার করা হবে, তা আমি বলতে পারছি না।’

কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানেও নিয়মের মারপ্যাঁচ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির দিকে নজর না দিলে ভোটের দিন লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি হতে পারে।- ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চিঠির পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করা হয়। তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলেছেন—ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে কোনো বরাদ্দ নেই। এ কারণে কোনো অর্থও দেওয়া সম্ভব নয়। এখন এ সংস্কার ও প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরাদ্দের এমন অনিশ্চয়তায় মূলত সবাই চুপ। কারও কোনো নড়চড় নেই।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল (এলজিইডি) অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তারা গণমাধ্যমে কথা বলতে চান না বলে জানান।

ভোটকেন্দ্রে কোন ধরনের সংস্কার-প্রস্তুতি প্রয়োজন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য এক লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং নারীদের জন্য এক লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট কক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি।

বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। বরাদ্দ না পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পয়ঃনিষ্কাশন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা ও প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। শিগগির আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে চিঠি দেবো।- ইসি সচিব আখতার আহমেদ

এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রবেশ করা ভোটাদের ভোট গ্রহণে যত সময় লাগবে, তা নেওয়া হবে। ফলে ভোটগ্রহণ শেষ হতেই প্রায় ৫টা বাজবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর ভোট গণনা শুরু হবে। সেটি করতেও অনেক সময় লাগবে। রাতেও কাজ চলবে।

পাশাপাশি ভোটগ্রহণের আগের দিন রাতে কেন্দ্রে সরঞ্জাম পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। ফলে দুই রাতের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি থাকতে হবে। এছাড়া দিনের বেলায়ও ভোটকেন্দ্রের কক্ষ ও বুথগুলোতে বৈদ্যুতিক বাতির প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক বাতি, গোসলখানা, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা বা ফ্যান থাকলেও বাতির ব্যবস্থা নেই। কারণ স্কুলগুলোতে দিনের বেলা ক্লাস হয়। আবার পর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধাও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে নেই। এসব বিষয়ে প্রস্তুতি ও সংস্কার করতে টাকা প্রযোজন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক-অধ্যক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তারা বেকায়দায় পড়েছেন।

নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা কর্মকর্তারা

ভোটকেন্দ্র হতে পারে বা সক্ষমতা আছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা জমা দিয়েছেন সব জেলার শিক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু সংস্কারের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি তারা। কীভাবে, কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়েও কোনো ধারণা নেই তাদের। প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরাও বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে।

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান সরকার বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র হতে পারে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমরা তালিকা করে জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনো বরাদ্দ বা সংস্কারের নির্দেশনা পাইনি। ফলে কোনো কেন্দ্র প্রস্তুতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা আমি জানি না। জেলা প্রশাসন হয়তো এটা জানাতে পারবেন।’

রাজবাড়ীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করে বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘কেন্দ্রের তালিকায় আমাদের কলেজের নাম আছে। তবে আমরা কোনো প্রস্তুতি শুরু করতে পারিনি। আমাদের তহবিলে সংস্কারের জন্য তেমন টাকা নেই। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু করতে হলে গভর্নিং বডির অনুমোদন লাগবে। এখন কলেজে গভর্নিং বডিও নেই। সেজন্য আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’

ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চিঠি, নিজস্ব তহবিল থেকে খরচের নির্দেশ

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ৬ জানুয়ারি সব শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্বাচনকালীন কার্যক্রমের জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে বরাদ্দের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটগ্রহণ করা হবে, সেখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সংস্কার বা মেরামত, বুথ ও আঙিনায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা এবং টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সিসি ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে বিধি মোতাবেক খরচ করা যেতে পারে।

ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছি ঠিক, তবে যেসব কাজ করতে বলা হয়েছে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্বাহ করা সম্ভব নয়। কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো পারবে, কিন্তু সেখানেও নিয়মের মারপ্যাঁচ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির দিকে নজর না দিলে ভোটের দিন লেজেগোবরে অবস্থার তৈরি হতে পারে।

ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে গড়িমসির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে আমরা চিঠি দিয়েছি। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা সচল করতে বলা হয়েছে। যেখানে নেই, সেখানে কিনতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো বরাদ্দ প্রয়োজন হলে তা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দিতে বাধ্য থাকবে। আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি তারা নেবেন। আমরা যতদূর জানি কাজ এগিয়ে চলেছে। তবে কেউ গড়িমসি করলে ইসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

সংস্কার ও মেরামতের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তারা বরাদ্দ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। বরাদ্দ না পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। পয়ঃনিষ্কাশন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিসহ আনুষঙ্গিক কেনাকাটা ও প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। শিগগির আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে চিঠি দেবো।’