শেয়ার বাজার

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামকে ওসমানী বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামকে ওসমানী বিমানবন্দরে সংবর্ধনা


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ায় নবনিযুক্তউপাচার্যকে ওসমানী বিমানবন্দরে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে| এসময় উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ|

শনিবার (২৩ মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়| প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ ¯ক্ষর করেন|

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮৭-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে| যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন| পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে|






নতুন শিক্ষাক্রম; ৬৫ বছরের প্রথা ভেঙে বিভাগহীন নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

নতুন শিক্ষাক্রম; ৬৫ বছরের প্রথা ভেঙে বিভাগহীন নতুন নিয়ম

বার্তাবেলা ডেস্ক: নবম শ্রেণি থেকে বিভাগ বিভাজন চালু হয়েছিল ১৯৫৯ সালে। সে হিসাবে ৬৫ বছর এ নিয়মে চলেছে শিক্ষা পদ্ধতি। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দফায় দফায় শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হলেও এ প্রথা কখনো ভাঙা হয়নি। অবশেষে এলো পরিবর্তন। দীর্ঘ ৬৫ বছর পর চলতি শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সবাই পড়ছে একই বিষয়। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী চালু হয়েছে এ প্রক্রিয়া। যেখানে নেই বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার বিভাজন। সবার বই এক, ক্লাসরুম এক, মূল্যায়ন পদ্ধতিও এক। এ নিয়ে বেজায় খুশি শিক্ষার্থীরা।

তবে বেশিরভাগ অভিভাবক বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তারা বিভাগ বিভাজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একমুখী এ পদ্ধতিকে ভালো বলছেন। এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও প্রায় সব অভিভাবকের প্রশ্ন, নতুন শিক্ষাক্রমে বিভাগ বিভাজন কখন থেকে এবং কীভাবে?

অভিভাবকদের এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কাছেও। এনসিটিবি কর্মকর্তারা বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় বিষয়টির ধারণা থাকলেও তা চূড়ান্ত নয়। চলতি বছর যেহেতু একাদশ-দ্বাদশে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে না, তাই এ নিয়ে তোড়জোড়ও করছেন না তারা। এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও যাচাই প্রক্রিয়ায় ‘ধীরে চলা’র নীতি নিয়েছে এনসিটিবি। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দাঁড় করানো হতে পারে।

''আমি সায়েন্সে (বিজ্ঞান) পড়েছি, ওর বাবাও সায়েন্সের। ছেলেকেও আমরা বিজ্ঞানে পড়াতে চেয়েছিলাম। এখন শুনি সবাই একই বিষয় পড়বে। সেখানে বিজ্ঞানের বিষয়ও কম। আমার ছেলে বেশ মেধাবী, পড়ালেখায়ও মনোযোগী। ওর জন্য বিজ্ঞান বিভাগই উপযুক্ত ছিল। এখন যে ১০টা বই সেটায় বিজ্ঞান বলে কিছু আছে তা তো আমার মনে হয় না।''

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়। চলতি বছর আরও চার শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমে পড়ানো হচ্ছে। সেগুলো হলো- দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম। আগামী বছর অর্থাৎ, ২০২৫ সালে চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যন্ত স্তরে সব শ্রেণিতেই তা চালু হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম।

নবম শ্রেণিতে এ বছর নতুন শিক্ষাক্রম চালু হওয়ায় বিভাগ বিভাজন প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটিই এ বছরে শিক্ষায় বড় পরিবর্তন। নতুন নিয়মে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বিষয় পড়তে হবে। এতদিন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে অভিন্ন বিষয় পড়ে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা নামে আলাদা বিভাগ অর্থাৎ, বাধ্যতামূলক কয়েকটি বিষয়ের পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক বিশেষায়িত কয়েকটি বিষয় পড়তে হতো।

নতুন শিক্ষাক্রমে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। আগে এটি নবম-দশম শ্রেণি মিলিয়ে করা হতো। ২০২৬ সালে নতুন শিক্ষাক্রমে শুধু দশম শ্রেণির বই পড়ে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

বিভাগ বিভাজন কখন, কীভাবে?

উচ্চমাধ্যমিক তথা একাদশ শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজনের একটি ধারণা নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় রয়েছে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি এখনো দাঁড় করানো যায়নি বলে জানিয়েছেন এনসিটিবি কর্মকর্তারা।

তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা হলো- উচ্চমাধ্যমিকে বিভাগ বিভাজন হবে। এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবার জন্যই বাধ্যতামূলক থাকবে। নির্বাচিত বিষয়গুলো; যেমন- পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি ইত্যাদি থেকে একজন শিক্ষার্থী তার আগ্রহ অনুযায়ী যেকোনো তিনটি বিষয় নির্বাচন করতে পারবে।

বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যের বিভাজন তুলে দেওয়ায় আমাদের শিক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সবাই সব শিখতে গিয়ে দেখা যাবে কেউই কিছুই ঠিকভাবে শিখছে না। আর মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার এ অপূর্ণতার কারণে তারা উচ্চপর্যায়ে আর বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহীই হবে না।

কোনো শিক্ষার্থী চাইলে বিজ্ঞান বিষয়ের পাশাপাশি অন্য বিভাগের বিষয়ও নেওয়ার সুযোগ পাবে। যেমন- একজন শিক্ষার্থী চাইলে পদার্থ, রসায়নের পাশাপাশি অর্থনীতিও নেওয়ার সুযোগ পাবে। একইভাবে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মিশ্র বিষয় নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া নতুন পদ্ধতিতে পেশাগত দক্ষতার জন্য আরেকটি বিষয় ঐচ্ছিকভাবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে।

জানতে চাইলে এনসিটিবির শিক্ষাক্রম ইউনিটের সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে বিভাগ বিভাজনের সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করিনি আমরা। এ বছরের মাঝামাঝি সময়, হয়তো মে-জুনের দিকে এটা চূড়ান্ত করা যেতে পারে। প্রাথমিক কিছু পরিকল্পনা আছে। সেগুলো আলাপ-আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিভাগ বিভাজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের ‘ভালোর দিকটি বিবেচনায় রেখে’ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক এম তারিক আহসান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি (একাদশ শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন) এখনো প্রাথমিক পরিকল্পনার স্তরে রয়েছে। যেভাবে পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে, তাতে সবার জন্যই ভালো হবে।

একাদশ-দ্বাদশে পরীক্ষা যেভাবে

বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে একই নামের দুটি করে বই পড়েন শিক্ষার্থীরা। নাম এক থাকলেও এগুলো দুই পত্রে বিভক্ত। যেমন- একাদশে পড়েন বাংলা প্রথমপত্র। দ্বাদশে বাংলা দ্বিতীয়পত্র। দুই বছর একই বিষয়গুলোর দুই পত্র পড়ে চূড়ান্ত পাবলিক পরীক্ষা অর্থাৎ, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তারা।

নতুন শিক্ষাক্রমে এ প্রক্রিয়াও থাকছে না। নতুন নিয়মে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রত্যেক বর্ষ শেষে বোর্ডের অধীন পরীক্ষা হবে। এরপর দুই পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ, একাদশ-দ্বাদশে বইয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে। তখন বাংলা, ইংরেজি ও সমন্বিত আরেকটি বিষয় সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। বাকি চারটি (তিনটি নৈর্বাচনিক ও একটি ঐচ্ছিক) শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিভাজন বিলুপ্তিতে বিজ্ঞানের পাঠ্য নিয়ে ‘বিতর্ক’

নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন বিলুপ্ত করায় বিজ্ঞান বিষয়ে গুরুত্বও কম দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক অভিভাবক। বিভাজন তুলে দেওয়ায় সন্তানের বিজ্ঞান বিষয় কম পড়া এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র নিয়ে চিন্তিত তারা। এমনকি শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন করে আমরা কয়জন বিজ্ঞানী তৈরি করতে পেরেছি? আমি মনে করি, নতুন এ শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ কোনোভাবেই কমবে না। বরং আগে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে যে স্বল্প ধারণা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান। বিভাগ বিভাজন উঠে যাওয়ায় সে বেশ খুশি বলে জানিয়ে তার মা ইসমত আরা রুবি বলেন, আমি সায়েন্সে (বিজ্ঞান) পড়েছি, ওর বাবাও সায়েন্সের। ছেলেকেও আমরা বিজ্ঞানে পড়াতে চেয়েছিলাম। এখন শুনি সবাই একই বিষয় পড়বে। সেখানে বিজ্ঞানের বিষয়ও কম। আমার ছেলে বেশ মেধাবী, পড়ালেখায়ও মনোযোগী। ওর জন্য বিজ্ঞান বিভাগই উপযুক্ত ছিল। এখন যে ১০টা বই সেটাতে বিজ্ঞান বলে কিছু আছে বলে আমার তো মনে হয় না।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এতদিন নবম-দশমে পৃথকভাবে তুলনামূলক বড় পরিসরে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতের মতো বিষয়গুলো পড়েছে। এসএসসির পর যত ওপরের স্তরে গেছে, বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের হার তত কমেছে। ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার পরিসর সংকুচিত করা হলে পরের স্তরে তা আরও কমবে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ তিন বছরে এসএসসির চেয়ে এইচএসসিতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী অনেক কম। ২০২০ সালে এসএসসিতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিল মোট পরীক্ষার্থীর ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ, ২০২১ সালে ছিল ২৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে এ হার ছিল ৩১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে ২০২০ সালে এইচএসসিতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, ২০২১ সালে ২২ দশমিক ৫০ এবং ২০২২ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্যের বিভাজন তুলে দেওয়ায় আমাদের শিক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সবাই সব শিখতে গিয়ে দেখা যাবে কেউই কিছুই ঠিকভাবে শিখছে না। আর মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার এ অপূর্ণতার কারণে তারা উচ্চপর্যায়ে আর বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহীই হবে না।

বিষয়টি মানতে নারাজ নতুন শিক্ষাক্রম প্রণেতাদের অন্যতম, এনসিটিবি সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান। তিনি দাবি করেন, নতুন শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণির সব শিক্ষার্থী বিজ্ঞানের বিষয়গুলো পড়ার সুযোগ পাবে। এর অর্থ হলো, শতভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যেই বিজ্ঞানের প্রসারতা বাড়বে।

অধ্যাপক মশিউজ্জামান আরও বলেন, নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন করে আমরা কয়জন বিজ্ঞানী তৈরি করতে পেরেছি? আমি মনে করি, নতুন এ শিক্ষাক্রমে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ কোনোভাবেই কমবে না। বরং আগে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান নিয়ে যে স্বল্প ধারণা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠা যাবে।


শিক্ষায় সিলেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

শিক্ষায় সিলেটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, এক সময় সিলেট ছিল উচ্চশিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। আসাম প্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ (কাপ্তান মিয়া) ছিলেন সিলেটেরই কৃতি সন্তান। পাক-ভারত উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের জন্ম এই অঞ্চলে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে সিলেট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। আমাদের শিক্ষায় সিলেটের সেই হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) দক্ষিণ সুরমার লাউয়াইয়ে নূরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজে চারতলা ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন এবং ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “অতীতে দীর্ঘ সময় সিলেটের একজন ব্যক্তি দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বরং গত ১৭ বছরে গণহারে পাসের সংস্কৃতি চালু করে শিক্ষা ব্যবস্থার মান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার।”

নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যয় অবৈতনিক ঘোষণা করে নারীশিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নারীশিক্ষার উন্নয়নে আন্তরিক এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, নিজেদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব তোমাদের হাতেই। তাই তোমাদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।”

কলেজের অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক প্রফেসর ড. দিদার চৌধুরী, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মিফতাহুল হোসেন সুইট, সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, লাউয়াই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত আহমদ, গভর্নিং বডির সদস্য রাসেল মাহবুব, ডা. এনামুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক আবুল বায়েছ, মো. নুরুল ইসলাম এবং রুমানা সুলতানা।


শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। শনিবার (২৩ মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষর করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮৭-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে।

নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, সরকার তাঁর ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে এই যাত্রায় সবার দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন নতুন উপাচার্য।

দীর্ঘ শিক্ষকজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরের বছরই ২০০৪ সালে শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে যোগ দেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ পেরিয়ে বর্তমানে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বেও তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়কালে অনুষদের একাডেমিক পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস কর্মসূচির আওতায় শাবিপ্রবিতে 'ফ্যামিলি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ে আন্তর্জাতিক এমবিএ প্রোগ্রাম সফলভাবে পরিচালনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

শিক্ষাজীবন ও মেধার স্বীকৃতি

১৯৭৬ সালে বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার কেয়াড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. খায়রুল ইসলাম। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন প্রতিটি ধাপে। বিবিএ ও এমবিএ উভয় পর্যায়েই অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিশেষ মেধাবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার ও চ্যান্সেলর স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

গবেষণাক্ষেত্রে ড. খায়রুল ইসলামের মূল আগ্রহ টেকসই উন্নয়ন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত নিয়ে। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ২০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন তিনি। একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবেও বক্তব্য রেখেছেন। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং অক্সফোর্ডের সাঈদ বিজনেস স্কুলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।

পেশাজীবী সংগঠনে সম্পৃক্ততা

শিক্ষকতা ও গবেষণার বাইরে পেশাজীবী সংগঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন ড. খায়রুল ইসলাম। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শাবিপ্রবির সাদা দলভিত্তিক শিক্ষক ফোরামের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।