শেয়ার বাজার

শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ
শনিবারও বন্ধ থাকবে স্কুল, সাপ্তাহিক ছুটি ২দিনই বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪

শনিবারও বন্ধ থাকবে স্কুল, সাপ্তাহিক ছুটি ২দিনই বহাল

আগামী বছর থেকে শনিবারও স্কুল খোলা থাকবে’-এমন একটি তথ্য ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানাতে থাকেন শিক্ষকরা। সেসময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ তথ্যটি ভুয়া বলে জানালেও শিক্ষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাটেনি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ২০২৫ সালের শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকা দেখলে সেই উদ্বেগ কেটে যাবে। প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকায় শুক্র ও শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি বহাল রাখা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকা প্রকাশের পর জানতে চাইলে রহিমা আক্তার বার্তাবেলা'কে বলেন, ‌‘শনিবার স্কুল খোলা রাখা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কিছুদিন আগে যে তথ্য ছড়িয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভুয়া। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। এ ছুটির বাইরে ৭৬ দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি থাকবে। শিক্ষাপঞ্জির এ তথ্যই সঠিক।’

প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকার নিচের অংশে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সপ্তাহে দুদিন ছুটি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার। এ ছুটি ব্যতীত ২০২৫ সালে মোট ছুটি থাকবে ৭৬ দিন।


রোজায় ২৮ দিন, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ১৫ দিন

এদিকে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী দীর্ঘ ছুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে পবিত্র রমজানের ছুটি। এ ছুটি শুরু হবে আগামী ২ মার্চ থেকে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে সেসময় টানা ২৮ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ ছুটির পর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে।

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৫ দিন সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ১ জুন, চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৮ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে।

অন্যদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান যখন প্রয়োজনে এ ছুটিগুলো দিতে পারবেন। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে।

অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা জুনে, বার্ষিক নভেম্বরে

শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী-আগামী বছর (২০২৫) ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুন, যা চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। একই সময়ে দশম শ্রেণিতে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে।

দশম শ্রেণিতে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে ১৬ অক্টোবর। এ পরীক্ষা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। একই সঙ্গে শিক্ষাপঞ্জিতে নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ২০ নভেম্বর, যা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। প্রত্যেকটি পরীক্ষা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে।

শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী- ২০২৫ সালের শিক্ষাবর্ষ হবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর। সরকারঘোষিত নির্দেশনার আলোকে পাঠ্যবই বিতরণ করতে হবে।

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। শনিবার (২৩ মে) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষর করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮৭-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসরগ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করা তাঁর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে।

নিয়োগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, সরকার তাঁর ওপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও বৃহত্তর স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে এই যাত্রায় সবার দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন নতুন উপাচার্য।

দীর্ঘ শিক্ষকজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা

অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরের বছরই ২০০৪ সালে শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে যোগ দেন। সেখান থেকে ধাপে ধাপে সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের পদ পেরিয়ে বর্তমানে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রশাসনিক দায়িত্বেও তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়কালে অনুষদের একাডেমিক পরিকল্পনা, মান নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস কর্মসূচির আওতায় শাবিপ্রবিতে 'ফ্যামিলি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট' বিষয়ে আন্তর্জাতিক এমবিএ প্রোগ্রাম সফলভাবে পরিচালনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

শিক্ষাজীবন ও মেধার স্বীকৃতি

১৯৭৬ সালে বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার কেয়াড়ী পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. খায়রুল ইসলাম। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মার্কেটিং বিভাগ থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্বের ছাপ রেখেছেন প্রতিটি ধাপে। বিবিএ ও এমবিএ উভয় পর্যায়েই অনুষদে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিশেষ মেধাবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার ও চ্যান্সেলর স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন এই শিক্ষাবিদ।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা

গবেষণাক্ষেত্রে ড. খায়রুল ইসলামের মূল আগ্রহ টেকসই উন্নয়ন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত নিয়ে। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ২০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সাইপ্রাস, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন তিনি। একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবেও বক্তব্য রেখেছেন। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং অক্সফোর্ডের সাঈদ বিজনেস স্কুলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল।

পেশাজীবী সংগঠনে সম্পৃক্ততা

শিক্ষকতা ও গবেষণার বাইরে পেশাজীবী সংগঠনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন ড. খায়রুল ইসলাম। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শাবিপ্রবির সাদা দলভিত্তিক শিক্ষক ফোরামের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।


সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য চান না প্রধানমন্ত্রী: নওফেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য চান না প্রধানমন্ত্রী: নওফেল

বার্তাবেলা ডেস্ক: দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো ধরনের বৈষম্য চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—বিশ্ববিদালয়গুলোর মধ্যে কোনো রকমের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সেটা হোক প্রাইভেট কিংবা পাবলিক।’

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এখন আন্তর্জাতিক চাকরির ক্ষেত্রে ভালো জায়গায় যেতে পারছেন। সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগও সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ফ্যাকাল্টিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তন করার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী করা এবং পেনশন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া সমন্বয়ের বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রি বলতে আমরা বুঝি ফিজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, মানে কলকারখানা। আমি বলছি— ভোকেশনের কথা। ভোকেশনের সঙ্গে একাডেমিয়ার লিংক বড় বিষয়।


শাবিপ্রবির আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬

শাবিপ্রবির আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার আলোচিত ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রকাশিত আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আবাসিক হলগুলোতে ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণ, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ খতিয়ে দেখতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশও প্রদান করবে কমিটি। তদন্ত শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরীকে। এছাড়া সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শাহপরান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ এবং ফাতিমা-তুজ-জাহরা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইসমত আরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। গত ৭ মে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতারা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বানও জানানো হয়। স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন, আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আহমদ কবির চৌধুরী বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং আনুষ্ঠানিক চিঠিও হাতে পেয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর কমিটির কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সময় আবাসিক হলগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় বিভিন্ন অভিযোগ ও চাপের মুখে অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় আসন বরাদ্দের কার্যক্রম চালু করা হয়।
ঘটনার দীর্ঘ সময় পর তদন্ত কমিটি গঠন করায় বিষয়টি আবারও ক্যাম্পাসে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে ওই সময়ের পরিস্থিতি ও দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।