শেয়ার বাজার

ই-কমার্সে প্রতারণার আটক টাকা কীভাবে ফেরত, জানতে চান আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

ই-কমার্সে প্রতারণার আটক টাকা কীভাবে ফেরত, জানতে চান আপিল বিভাগ

বার্তাবেলা ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক কোম্পানি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পর প্রতারণার শিকার ও আটকে থাকা টাকা গ্রাহকরা কীভাবে ফেরত পাবেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) ইউনিপে-টু-ইউ সংক্রান্ত এক শুনানিতে মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগ এমন প্রশ্ন তোলেন।

এসময় দুদকের পক্ষে শুনানি করা সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খানের কাছে আদালত জানতে চান, ‘ইউনিপে-টু-ইউ, ইভ্যালি, আলেশা মার্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকরা ফেরত পাবেন কীভাবে? গ্রাহকদের-তো টাকা ফেরত পেতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ২০০৭ সালে গঠিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পালন করেন।

বিখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তার পিতা। তিনি ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।


দীঘলবাক ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

দীঘলবাক ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বিষয়ে মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

নবীগঞ্জ উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও কার্যকর প্রচার-প্রচারণামূলক মাইকিং ও ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৪ নং দিঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের ০৯টি ওয়ার্ডে মাইকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের এবার সমূহ বিষয়ক প্রচার এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। দীঘবাক ইউনিয়নের কামারগাঁ বাজারে প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের  একটি সচেতনতামূলক নাটক প্রদর্শন করা হয়।

নাটকের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের ভূমিকা, কার্যপদ্ধতি এবং সাধারণ জনগণের জন্য এর সুফল অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবধর্মীভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নবীগঞ্জ উপজেলার গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়কারী জনাব রিংকু চক্রবর্তী এবং অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মো: ছালিক মিয়া, 

জনাব ইউসুফ আলী, ইউপি সদস্য ০৭নং ওয়ার্ড, জনাব খালেদ হাসান দুলন, ইউপি সদস্য  ০৬নং ওয়ার্ড এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার জনসাধারণ। নাটক পরিবেশনের পর নাটকের বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। আলোচনা পর্বে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়ানী ও ফৌজদারি অনধিক তিনলক্ষ (৩,০০,০০০/) টাকার বিরোধ, এবং স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়। গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত মামলার ধরন,  আবেদন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উপস্থিত জনগণকে অবহিত করা হয়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রাম পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে জনগণের আগ্রহ ও আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ যত বেশি অবগত হবে, তত বেশি মানুষ সহজ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী হবে।


সিলেটে ‘চাঁদা না পেয়ে’
বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর  ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি দোকানি খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে মব করে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক শিশুর সাথে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ এনে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে কিছু লোক। তবে পুলিশ আপত্তিকর আচরণের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। আর খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের মারধরকারীদের একজন কয়েকদিন আগে তার কাছে টাকা দাবি করেছিল। মারধরকারীরা তার দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার।

এদিকে, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন খগেন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস। পুলিশ ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া মারধরে গুরুতর আহত খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ থেকে কোমল পানীয় কিনতে আসে আট বছর বয়সী এক শিশু। সে সময় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিশুটিকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে পণ্য কিনে শিশুটি চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা ও বোন দোকানে এসে কেন দেরি হয়েছে তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, দোকানদার শিশুটির শরীরে স্পর্শ করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরই সংঘবদ্ধ কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। লাথি-ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে তাকে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার এই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, সন্ধ্যার পর এক শিশু টাইগার (কোমল পানীয়) কিনতে আমার দোকানে আসে। এসময় দোকানে ভিড় থাকায় আমি তাকে সরে যেতে বলি। পরে শিশুটি টাইগার নিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা বোন এসে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন। তখন তাদের আমি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বলি। এরমধ্যেই আচমকা কয়েকজন যুবক এসে আমাকে মারধর শুরু করে।

খগেন্দ্র দাস বলেন, মারধরকারীদের সবাইকে আমি চিনি না। তবে তাদের মধ্যে একজন কয়েকদিন আগে আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। তিনি বলেন, মারধরকারীরা আমার মোবাইল ফোন, শার্ট ও প্যান্টের প্যাকেট এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা ও সিগারেটের কার্টুন নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তর (২৬)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

এদিকে, ব্যবসায়ীর ওপর মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।