শেয়ার বাজার

রিমান্ড শেষে কারাগারে জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

রিমান্ড শেষে কারাগারে জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় রিমান্ড শেষে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালতের বিচারক মো. আবু বকর সিদ্দিক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত সোমবার জবির শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানের দুইদিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

এর আগে ১৭ মার্চ বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে তাদেরকে গ্রহণ করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। গত ১৫ মার্চ রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সহকারী প্রক্টর ও আম্মান সিদ্দিকী নামের সহপাঠীকে দায়ী করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে জবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অবন্তিকা। নিহত অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম বাদী হয়ে থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বার্তাবেলা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হায়দারের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় তাদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। এদিন আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ মার্চ মামলার বাদী তানভীর হোসেন বিজ্ঞাপন দেখে একটি মোটরসাইকেল কেনা বাবদ দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। তবে নির্দিষ্ট ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও আসামিরা তা সরবরাহ কর‍তে ব্যর্থ হন।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ইভ্যালি পণ্যের সমমূল্যের একটা চেক প্রদান করেন। এরপর চেকটি নগদায়নের জন্য একাধিক ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এ বিষয়ে সবশেষ গত বছরের ২২ অক্টোবর তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শামীমা নাসরিন ও মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বাদী মামলা করেন।


বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

জাতীয় এবং জেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবকে সচল করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনের কার্যক্রম ও তথ্যসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী এবং একক ডেটাবেইজ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও ব্লাস্ট যৌথভাবে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে এসব সুপারিশ করেন বক্তারা।

সভায় ‘নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ১৬ দিনব্যাপী পক্ষে আমরা আছি। এসময় এ বিষয়ে কথা বলা খুবই সময়পোযোগী। প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। ২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের সবখানে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। সেই লক্ষ্যে আমাদের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা এবং আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা শেখানো হচ্ছে যা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ১০৯-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সব জেলায় সেবাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাকিয়া আফরোজ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) এবং প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব এসপিএস স্পেশালিস্ট, (এটুআই) খন্দকার মনোয়ার মোরশেদ।

সভাপতির বক্তব্যে ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম বলেন, সরকারকে তার কাজে সহায়তা করার জন্য এবং দেশের সব পর্যায়ে সরকারের এ কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্লাস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম অফিসার রাইসুল ইসলাম এবং সভার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার।


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ১৫ কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত  ১৫ কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে গত ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। মন্ত্রণালয়ে ফেরতের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ সদস্যকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। পরে তা গত ২০ এপ্রিল শুনানির জন্য উঠে। তবে ওই দিন তা শুনানি হয়নি। রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

২০ এপ্রিল শিশির মনির আদালত থেকে বের হয়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে তারা দ্রুতই হাইকোর্টের আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত বলেছেন তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করুক। আর আদালতের প্রত্যাশা সরকার যেন ইন দ্য মিন টাইম তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে সচিবালয়ের যে সেটাপ আছে সে গুলোকে সরিয়ে না ফেলে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।

সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হওয়ার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে। বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ :

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেওয়া হয়। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধনের সময় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সবার কাছে আমার আহ্বান রইল—আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা—এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’