শেয়ার বাজার

আজমিরীগঞ্জে
গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ড. জি. এম. সরফরাজ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত একটি কার্যকর ও সহজলভ্য ব্যবস্থা। এ ধরনের বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সমাধানের জন্য তিনি জনগণকে গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

এ সময় তিনি গ্রাম আদালতের সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উপস্থিত সকলকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গ্রাম আদালত সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও উপকারভোগীরা অংশ নেন।


হাইকোর্টে ৫২ বেঞ্চ গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

হাইকোর্টে ৫২ বেঞ্চ গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি

আগামী রোববার (২৯ অক্টোবর) থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য ৫২টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা দেওয়ার নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আমি এতদ্বারা নির্দেশ করিতেছি যে, আগামী ২৯ অক্টোবর রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিম্নে উল্লেখিত বেঞ্চগুলো গঠন করা হলো। ’

নোটিশে ৫২ একক ও দ্বৈত বেঞ্চের নাম বিচারিক এখতিয়ারসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ১৯টি একক বেঞ্চ রয়েছে।


সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ২০০৭ সালে গঠিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পালন করেন।

বিখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তার পিতা। তিনি ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।


সিলেটে ‘চাঁদা না পেয়ে’
বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর  ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি দোকানি খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে মব করে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক শিশুর সাথে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ এনে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে কিছু লোক। তবে পুলিশ আপত্তিকর আচরণের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। আর খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের মারধরকারীদের একজন কয়েকদিন আগে তার কাছে টাকা দাবি করেছিল। মারধরকারীরা তার দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার।

এদিকে, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন খগেন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস। পুলিশ ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া মারধরে গুরুতর আহত খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ থেকে কোমল পানীয় কিনতে আসে আট বছর বয়সী এক শিশু। সে সময় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিশুটিকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে পণ্য কিনে শিশুটি চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা ও বোন দোকানে এসে কেন দেরি হয়েছে তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, দোকানদার শিশুটির শরীরে স্পর্শ করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরই সংঘবদ্ধ কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। লাথি-ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে তাকে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার এই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, সন্ধ্যার পর এক শিশু টাইগার (কোমল পানীয়) কিনতে আমার দোকানে আসে। এসময় দোকানে ভিড় থাকায় আমি তাকে সরে যেতে বলি। পরে শিশুটি টাইগার নিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা বোন এসে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন। তখন তাদের আমি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বলি। এরমধ্যেই আচমকা কয়েকজন যুবক এসে আমাকে মারধর শুরু করে।

খগেন্দ্র দাস বলেন, মারধরকারীদের সবাইকে আমি চিনি না। তবে তাদের মধ্যে একজন কয়েকদিন আগে আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। তিনি বলেন, মারধরকারীরা আমার মোবাইল ফোন, শার্ট ও প্যান্টের প্যাকেট এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা ও সিগারেটের কার্টুন নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তর (২৬)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

এদিকে, ব্যবসায়ীর ওপর মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।