শেয়ার বাজার

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ১৫ কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত  ১৫ কর্মকর্তা আইন মন্ত্রণালয়ে

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাষ্ট্রপতির আদেশে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। এই কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে গত ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। মন্ত্রণালয়ে ফেরতের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ সদস্যকে পরবর্তী উপযুক্ত পদে পদায়নের নিমিত্তে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হলো।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। পরে তা গত ২০ এপ্রিল শুনানির জন্য উঠে। তবে ওই দিন তা শুনানি হয়নি। রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

২০ এপ্রিল শিশির মনির আদালত থেকে বের হয়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে তারা দ্রুতই হাইকোর্টের আগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আদালত বলেছেন তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করুক। আর আদালতের প্রত্যাশা সরকার যেন ইন দ্য মিন টাইম তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে সচিবালয়ের যে সেটাপ আছে সে গুলোকে সরিয়ে না ফেলে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।

সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হওয়ার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে। বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ :

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেওয়া হয়। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধনের সময় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সবার কাছে আমার আহ্বান রইল—আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা—এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’


বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় বাধা


দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতারা। সুপ্রিম কোর্টের ৭৮ বছরের ইতিহাসে এই ঘটনাকে নজিরবিহীন ও স্বেচ্ছাচারী ঘটনা বলছেন আইনজীবীরা। নির্বাচনে অংশ নিলেই অনেকেই জিতে যাচ্ছেন, এমনটা দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনে। ফলে মনোনয়নপত্র উত্তোলন থেকে শুরু করে, জমা দান, এবং যাচাই-বাছাইপর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোরপূর্বক বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা গণমাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া প্রত্যেক সদস্যের মৌলিক অধিকার। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনজীবী সমিতির মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

জানা গেছে, দেশের ৮৪টি আইনজীবী সমিতির মধ্যে চলতি বছর ৪১টিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন। তার ৯টিতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে বিজয়ী হয়েছেন। বাকিগুলোতে একাধিক পদে জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে জয় পান আওয়ামীপন্থীরা। এরপর আর আওয়ামীপন্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীদের এই বিপুল বিজয়ে নড়চড়ে বসে বিএনপি ও জামায়াতসমর্থক আইনজীবীরা। এরপর তারা কোথাও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দিচ্ছে না। কখনও মনোনয়নপত্র উত্তোলনে বাধা, জমা দানে বাধা, আবার কোথাও বা যাচাই-বাছাইপর্বে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বারের সভাপতির অনুমতি ছাড়া কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী ১৬ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে তারা আর নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি এবং একটি পদে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার পর অর্থাৎ গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে ২৬টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। ২৩টিতে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি সমিতির সবকটি পদে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। মাদারীপুরসহ পাঁচ জেলায় জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এক বা একাধিক পদে জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে মোট ৩৮টি বারের ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনটির ফল জানা যায়নি।

এখন পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির যে ৪১টি নির্বাচন হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নিতে পেরেছেন মাত্র ১৫টি। তন্মধ্যে তারা ৯টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। এর মধ্যে মাদারীপুরে গত ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামীপন্থীরা। সভাপতি এবং আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জামায়াতপন্থীরা জয়লাভ করেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেটে সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেন। সভাপতিসহ ৭টি পদে জয় পান বিএনপিপন্থীরা। জামায়াতপন্থীরা বিজয়ী হন তিনটিতে। নোয়াখালী জেলা বারে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেছেন। সভাপতিসহ পাঁচটি পদে বিএনপি এবং একটি সদস্য পদে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়লাভ করেন আওয়ামীপন্থীরা। বিএনপিপন্থীরা পেয়েছেন ৫টি পদ। লক্ষ্মীপুরে আওয়ামীপন্থী আটজন আইনজীবী বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করেন। পিরোজপুরে গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে বিজয়ী হয়েছেন তারা। বিএনপিপন্থীরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ছয়টি পদে জয়ী হন।

কক্সবাজারে ১৭টি পদের মধ্যে সাতটিতে আওয়ামীপন্থী বিজয়ী হয়েছেন। চারটিতে বিএনপিপন্থী ও ছয়টি পদে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা বিজয়ী হন। ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচটিতে আওয়ামীপন্থীরা জয় পেয়েছেন। সভাপতিসহ সাতটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি, কুষ্টিয়ায় তিনটি, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও কুমিল্লায় দুটি করে পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেন। সুনামগঞ্জে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী জয় পান।

শেরপুর বারে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয়ী হন। বাকি পদে জামায়াতসহ অন্যরা জয়ী হয়েছেন। একইভাবে খুলনায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। ঝালকাঠিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ পদে এবং নড়াইলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিন্থীরা। রাজশাহীতে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থীরা। সহসভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেল থেকে জয়লাভ করেছেন। নওগাঁয় সভাপতিসহ ১২টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। সিরাজগঞ্জে ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেন বিএনপিপন্থীরা। অন্যজন স্বতন্ত্র। ফেনীতে ১৫ পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থীরা। জামায়াতপন্থীরা পেয়েছেন চারটি পদ। একটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া মাগুরা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হয়েছে শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জে। এই সবকটি আইনজীবী সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বিএনপিন্থীরা।

সর্বশেষ গত ২৯-৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন।

১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি ২৪ ঘণ্টার নোটিসে বিশেষ সাধারণ সভা করে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী ৪২ আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৪টি পদে আগামী এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা। মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৯ জন। তবে এবারই প্রথম ভোটারদের সামনে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মতো এখানেও ভোট পড়ার আশঙ্কা তাই থেকেই যাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি পেশাজীবী সংগঠন। এখানে আইনজীবী হিসেবে সবাই নির্বাচন করে থাকেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হলো। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে কলঙ্কজনক, যা আইনজীবীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

তবে তার এই বক্তব্যে একমত নন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি বলেছেন, সারাদেশে সব জেলা বারে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট বারেও একইভাবে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, যে কারণে ওনারা (আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, একই কারণে বারে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট বারে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হোক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে বহু যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার আমলের ধারাবাহিকতায় একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। তবে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনসহ দেশে কোন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হয় না। 


নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

নাশকতার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৩১ জনের কারাদণ্ড

বার্তাবেলা: নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবসহ ৩১ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের পৃথক দুটি আদালত এসব রায় ঘোষণা করেন।

পল্টন থানার মামলায় মাসুদ-মজনুসহ ১০ জনের কারাদণ্ড

১০ বছর আগের পল্টন থানার নাশকতার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুসহ ১০ জনকে দুই বছর ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও মজনু ছাড়াও মামলার সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদল নেতা খন্দকার এনামুল হক এনাম, মো. এরশাদুল, জোনাইদ, আব্দুল কাদের খন্দকার, মো. দুলাল হোসেন, মো. হুমায়ুন কবির রওশন ও মিজানুর রহমান টিপু।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর ৪৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করেন

নীরবসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর তিন বছরের কারাদণ্ড

অপরদিকে ১০ বছর আগে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা নাশকতা ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা সিটির সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারুজ্জামানসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে পৃথক দুই ধারায় তিন বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত।

এ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, লুৎফর রহমান, শাহীন ওরফে গান্ডু শাহীন, তরিকুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আমিনুল ইসলাম জাকির, গোলাম কিবরিয়া শিমুল, বিল্লাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব ও আনোয়ার রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া পলাতক ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাবুল নামে এক ট্যাক্সিচালক ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে মহাখালী থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের ওয়াসা ভবনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তার গাড়ি থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ট্যাক্সিচালক বাবুল তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গুলশান থানার মামলায় বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড

এদিকে পাঁচবছর আগে গুলশান থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছরের সাজা দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় ৬ মাস, ১৪৭ ও ৪২৭ ধারায় দুই বছর করে চার বছরের সাজা দেন বিচারক। সব ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে আসামিদের দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন মো. মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল, মীর মোহাম্মদ স্বপন। তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে অসীম ওরফে অসীম আকরাম ও মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকার গুলশান এলাকায় বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হন। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে পুলিশ। ঘটনার দিন ২৩ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।


সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর, ২০২৪

সাবেক এমপি নিক্সন-মির্জা আজম-ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মির্জা আজম ও মো. আবদুল ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নিক্সন চৌধুরীর স্ত্রী তারিন হোসেন ও ওদুদের স্ত্রী মর্জিনা ওদুদকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এছাড়া পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমডি ইউসুফ আলীসহ চারজন, প্রিমিয়ার প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান মঈন ইকবাল ও পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী ও মির্জা আজমের এবং দুদকের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম সাবেক এমপি ওদুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম ও মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।

নিক্সনের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নিক্সন চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানপূর্বক তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন সপরিবারে গোপনে দেশত্যাগ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা দেশত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গেলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র প্রাপ্তিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এছাড়াও সার্বিক অনুসন্ধানকাজে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

মির্জা আজমের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মির্জা আজমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাবহারপূর্বক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতপূর্বক নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে এরই মধ্যে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মির্জা আজম ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তিনি দেশ থেকে পলায়ন করলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র বিনষ্টসহ অনুসন্ধানকাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মির্জা আজমের বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।

ওদুদের আবেদনে বলা হয়েছে, আব্দুল ওদুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাত করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে অনুসন্ধানকালে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।