শেয়ার বাজার

আদালতে
স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে উঠে এলো রামিসা হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

স্বজন-প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে উঠে এলো রামিসা হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ১৯ মের সেই বিভীষিকা-ময় ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা ও বড় বোনসহ একে স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দেন। আদালতে সাক্ষীরা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা, রক্তাক্ত ঘরের দৃশ্য এবং অভিযুক্ত সোহেল রানার পালিয়ে যাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন।
 
রামিসার চাচি আদালতে বলেন, ‘আমার স্বামী ফোন দিয়ে বলেন, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে গিয়ে দেখি বাসায় ভিড় ও কান্নাকাটি চলছে। ঘরে গিয়ে খাটের নিচে এক পাশে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। তখন পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছিল।’ জেরায় তিনি বলেন, ‘আমি গলাকাটা মরদেহ দেখেছি, ধর্ষণের দৃশ্য দেখিনি।’

রামিসার চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, ‘আমি মেট্রোরেলে থাকাকালে স্ত্রী ফোন করে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাসায় এসে দেখি রক্ত পড়ে আছে। একটি বড় বালতির মধ্যে রামিসার মাথা ছিল। তার গলা ও হাত কাটা ছিল।’ তিনি আদালতে উপস্থিত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে শনাক্ত করেন।

একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন রামিসার মা সোহেল রানার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্ত দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ভেতরের আরেকটি গেট তালাবদ্ধ ছিল। সেটি খুলে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই।’
 
প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজন আদালতে বলেন, ‘রামিসার মা ডাকাডাকি করলে ফিরে আসি। দরজা না খোলায় পরে ভেতরে ঢুকে প্রথমে বাথরুমে কাপড় পড়ে থাকতে দেখি। এরপর রক্ত দেখতে পাই। স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করলে সে কিছু জানে না বলে। পরে খাট উঁচু করে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। একটি বালতির মধ্যে মাথা ছিল।’

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন আবু সামা নামের এক প্রতিবেশী। তিনি আদালতে বলেন, ‘সকাল প্রায় ১০টার দিকে নাস্তা করছিলাম। তখন দেখি পাশের বাসার জানালা বেয়ে এক ব্যক্তি খালি গায়ে নিচে নামছে। আমি তাকে চোর মনে করে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার করি। পরে পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখি।’ জেরায় তিনি বলেন, ‘পরে মিডিয়ায় ছবি দেখে নিশ্চিত হই, জানালা দিয়ে নামা ব্যক্তিই আসামি সোহেল রানা।’

আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি একটি পাতলা ছুরি এবং বালতির মধ্যে রামিসার মাথা দেখতে পান। পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বিস্তারিত অংশ দুপুরে বিরতির পর আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।
 
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসে। এছাড়া আসামি সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার পর গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সাক্ষ্যে তথ্য এসেছে। মামলার ১০ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ দুপুরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

আজমিরীগঞ্জে
গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ জুন, ২০২৬

গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রেজাউল করিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি), আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি ড. জি. এম. সরফরাজ গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত একটি কার্যকর ও সহজলভ্য ব্যবস্থা। এ ধরনের বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সমাধানের জন্য তিনি জনগণকে গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন।

এ সময় তিনি গ্রাম আদালতের সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং উপস্থিত সকলকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গ্রাম আদালত সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও উপকারভোগীরা অংশ নেন।



ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বার্তাবেলা: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হায়দারের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় তাদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়। এদিন আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ মার্চ মামলার বাদী তানভীর হোসেন বিজ্ঞাপন দেখে একটি মোটরসাইকেল কেনা বাবদ দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। তবে নির্দিষ্ট ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও আসামিরা তা সরবরাহ কর‍তে ব্যর্থ হন।

এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ইভ্যালি পণ্যের সমমূল্যের একটা চেক প্রদান করেন। এরপর চেকটি নগদায়নের জন্য একাধিক ব্যাংকে জমা দিলে তা ডিজঅনার হয়। এ বিষয়ে সবশেষ গত বছরের ২২ অক্টোবর তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শামীমা নাসরিন ও মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বাদী মামলা করেন।


থামছে না করিমের দৌরাত্ম্য টাকা না দেওয়ায় ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

থামছে না করিমের দৌরাত্ম্য  টাকা না দেওয়ায় ‘আসামি ধরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আব্দুল করিমকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের মধ্যেই এবার নতুন করে এক ব্যক্তিকে টাকা না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভয় দেখিয়ে গত প্রায় দুই বছর ধরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করত করিম সিন্ডিকেট। প্রতি মাসে আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হতো ওই ব্যক্তিকে। সম্প্রতি তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

অভিযোগ রয়েছে, করিম কোনো স্বীকৃত বা পেশাদার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও নিজেকে কখনো ফটো সাংবাদিক, কখনো পুলিশের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যাতায়াত ও আপ্যায়নের চিত্র পাওয়া যাবে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর করিম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম মামলায় জড়িয়ে মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা—জুয়া, মাদক ও তেলচুরি সিন্ডিকেটসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা থেকে করিম নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক বখরা আদায় করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এসব উৎস থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এতসব অভিযোগের পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রশ্ন, “পুলিশ কি করিমের বখরার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে?”

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে “সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় করিমের দালালির দৌরাত্ম্য: মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা” শিরোনামে বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে করিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, কামালবাজার এলাকায় মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে করিম ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও স্থানীয় জনতা তাকে আটকে দেয়। পরে তিনি নিজেকে প্রয়াত সালিশ ব্যক্তিত্ব চৈল মিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচিত দাবি করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।