শেয়ার বাজার

সিলেটে ‘চাঁদা না পেয়ে’
বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মব করে মারধর  ১৩ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় মুদি দোকানি খগেন্দ্র চন্দ্র দাসকে মব করে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এক শিশুর সাথে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ এনে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে কিছু লোক। তবে পুলিশ আপত্তিকর আচরণের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি। আর খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের মারধরকারীদের একজন কয়েকদিন আগে তার কাছে টাকা দাবি করেছিল। মারধরকারীরা তার দোকানের মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার।

এদিকে, এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন খগেন্দ্র দাসের ছেলে রুবেল দাস। পুলিশ ইতোমধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া মারধরে গুরুতর আহত খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার মুদি দোকান ‘রাণী স্টোর’ থেকে কোমল পানীয় কিনতে আসে আট বছর বয়সী এক শিশু। সে সময় দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকায় শিশুটিকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পরে পণ্য কিনে শিশুটি চলে যায়।

কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা ও বোন দোকানে এসে কেন দেরি হয়েছে তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, দোকানদার শিশুটির শরীরে স্পর্শ করেছেন। এর কিছুক্ষণ পরই সংঘবদ্ধ কয়েকজন লোক দোকানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা দোকান মালিক খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। লাথি-ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে তাকে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শনিবার এই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, সন্ধ্যার পর এক শিশু টাইগার (কোমল পানীয়) কিনতে আমার দোকানে আসে। এসময় দোকানে ভিড় থাকায় আমি তাকে সরে যেতে বলি। পরে শিশুটি টাইগার নিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা বোন এসে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকেন। তখন তাদের আমি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বলি। এরমধ্যেই আচমকা কয়েকজন যুবক এসে আমাকে মারধর শুরু করে।

খগেন্দ্র দাস বলেন, মারধরকারীদের সবাইকে আমি চিনি না। তবে তাদের মধ্যে একজন কয়েকদিন আগে আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। তিনি বলেন, মারধরকারীরা আমার মোবাইল ফোন, শার্ট ও প্যান্টের প্যাকেট এবং ক্যাশবাক্স থেকে টাকা ও সিগারেটের কার্টুন নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, অভিযোগে উল্লিখিত শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। যাচাই-বাছাই ছাড়াই গুজব ও সন্দেহের ভিত্তিতে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে। এটি মব জাস্টিসের একটি স্পষ্ট ঘটনা। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিরা হলেন সেনপাড়ার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী মোছাম্মৎ শিল্পী বেগম (৪২), ওহিদুল আলমের ছেলে আহম্মদ হোসেন আরিফ (২৪), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ছেলে আকাশ আহমেদ (২০), মেয়ে মোছাম্মৎ রোজী আক্তার (২০), মেয়ে রোকেয়া আক্তার (২২), মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু (৫০), বিল্লাল মিয়ার ছেলে শোয়েব (৩০), শিবগঞ্জ খড়াদিপাড়ার মখর মোল্লা লাক্কুর ছেলে নাদিম আহমদ (২৭), ইমন (২৬), সেনপাড়ার কামাল (২৬), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দ আবু বক্কর (২৭), দেলোয়ার (৩৫), অন্তর (২৬)সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন।

এদিকে, ব্যবসায়ীর ওপর মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ আহত ব্যবসায়ীর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩

বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি কিশোর-কিশোরী ক্লাব সচল করার সুপারিশ

জাতীয় এবং জেলা পর্যায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটি এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবকে সচল করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনের কার্যক্রম ও তথ্যসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী এবং একক ডেটাবেইজ তৈরি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম ও ব্লাস্ট যৌথভাবে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সেখানে এসব সুপারিশ করেন বক্তারা।

সভায় ‘নারী-নির্যাতন রোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন বলেন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধের ১৬ দিনব্যাপী পক্ষে আমরা আছি। এসময় এ বিষয়ে কথা বলা খুবই সময়পোযোগী। প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া ১০টি প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। ২০৩০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের সবখানে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা। সেই লক্ষ্যে আমাদের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা এবং আত্মরক্ষামূলক দক্ষতা শেখানো হচ্ছে যা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ১০৯-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সব জেলায় সেবাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জাকিয়া আফরোজ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন অধিশাখা) এবং প্রকল্প পরিচালক ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব এসপিএস স্পেশালিস্ট, (এটুআই) খন্দকার মনোয়ার মোরশেদ।

সভাপতির বক্তব্যে ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম বলেন, সরকারকে তার কাজে সহায়তা করার জন্য এবং দেশের সব পর্যায়ে সরকারের এ কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্লাস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করে আসছে।

ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম অফিসার রাইসুল ইসলাম এবং সভার উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ব্লাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার।


বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড গুলশান থানার মামলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩

বিএনপির ১১ জনের কারাদণ্ড গুলশান থানার মামলায়

বার্তাবেলা: পাঁচ বছর আগে গুলশান থানায় করা নাশকতার মামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মীকে পৃথক তিন ধারায় সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারায় ৬ মাস, ১৪৭ ও ৪২৭ ধারায় দুই বছর করে চার বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। সকল ধারার সাজা একইসাথে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে আসামিদের দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. মামুন চৌধুরী, বিল্লাল হোসেন, অসীম ওরফে অসীম আকরাম, নুরুল ওরফে নূর হোসেন, মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন, আমিনুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম শাহীন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রান্ত, জয়নাল, মীর মোহাম্মদ স্বপন। তারা সবাই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে অসীম ওরফে অসীম আকরাম ও মো. শরীফ উদ্দিন ওরফে মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর অবরোধের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকার গুলশান এলাকায় বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হন। তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্য ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে মামলায় অভিযোগ করে পুলিশ। এ ঘটনার দিন ২৩ অক্টোবর পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ।



বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন: স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় বাধা


দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে এবার আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনেও অংশ নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী নেতারা। সুপ্রিম কোর্টের ৭৮ বছরের ইতিহাসে এই ঘটনাকে নজিরবিহীন ও স্বেচ্ছাচারী ঘটনা বলছেন আইনজীবীরা। নির্বাচনে অংশ নিলেই অনেকেই জিতে যাচ্ছেন, এমনটা দেখা গেছে দেশের বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনে। ফলে মনোনয়নপত্র উত্তোলন থেকে শুরু করে, জমা দান, এবং যাচাই-বাছাইপর্বে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোরপূর্বক বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা গণমাধ্যমে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া প্রত্যেক সদস্যের মৌলিক অধিকার। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনজীবী সমিতির মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

জানা গেছে, দেশের ৮৪টি আইনজীবী সমিতির মধ্যে চলতি বছর ৪১টিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন। তার ৯টিতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে বিজয়ী হয়েছেন। বাকিগুলোতে একাধিক পদে জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে জয় পান আওয়ামীপন্থীরা। এরপর আর আওয়ামীপন্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীদের এই বিপুল বিজয়ে নড়চড়ে বসে বিএনপি ও জামায়াতসমর্থক আইনজীবীরা। এরপর তারা কোথাও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দিচ্ছে না। কখনও মনোনয়নপত্র উত্তোলনে বাধা, জমা দানে বাধা, আবার কোথাও বা যাচাই-বাছাইপর্বে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বারের সভাপতির অনুমতি ছাড়া কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী ১৬ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে তারা আর নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি এবং একটি পদে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার পর অর্থাৎ গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে ২৬টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। ২৩টিতে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি সমিতির সবকটি পদে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। মাদারীপুরসহ পাঁচ জেলায় জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এক বা একাধিক পদে জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে মোট ৩৮টি বারের ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনটির ফল জানা যায়নি।

এখন পর্যন্ত আইনজীবী সমিতির যে ৪১টি নির্বাচন হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নিতে পেরেছেন মাত্র ১৫টি। তন্মধ্যে তারা ৯টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। এর মধ্যে মাদারীপুরে গত ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামীপন্থীরা। সভাপতি এবং আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জামায়াতপন্থীরা জয়লাভ করেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেটে সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেন। সভাপতিসহ ৭টি পদে জয় পান বিএনপিপন্থীরা। জামায়াতপন্থীরা বিজয়ী হন তিনটিতে। নোয়াখালী জেলা বারে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেছেন। সভাপতিসহ পাঁচটি পদে বিএনপি এবং একটি সদস্য পদে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়লাভ করেন আওয়ামীপন্থীরা। বিএনপিপন্থীরা পেয়েছেন ৫টি পদ। লক্ষ্মীপুরে আওয়ামীপন্থী আটজন আইনজীবী বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদে বিএনপিপন্থীরা জয়লাভ করেন। পিরোজপুরে গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে বিজয়ী হয়েছেন তারা। বিএনপিপন্থীরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ছয়টি পদে জয়ী হন।

কক্সবাজারে ১৭টি পদের মধ্যে সাতটিতে আওয়ামীপন্থী বিজয়ী হয়েছেন। চারটিতে বিএনপিপন্থী ও ছয়টি পদে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা বিজয়ী হন। ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচটিতে আওয়ামীপন্থীরা জয় পেয়েছেন। সভাপতিসহ সাতটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি, কুষ্টিয়ায় তিনটি, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও কুমিল্লায় দুটি করে পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়লাভ করেন। সুনামগঞ্জে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী জয় পান।

শেরপুর বারে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১টিতে বিএনপিপন্থীরা বিজয়ী হন। বাকি পদে জামায়াতসহ অন্যরা জয়ী হয়েছেন। একইভাবে খুলনায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। ঝালকাঠিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ পদে এবং নড়াইলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিন্থীরা। রাজশাহীতে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থীরা। সহসভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেল থেকে জয়লাভ করেছেন। নওগাঁয় সভাপতিসহ ১২টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। সিরাজগঞ্জে ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেন বিএনপিপন্থীরা। অন্যজন স্বতন্ত্র। ফেনীতে ১৫ পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থীরা। জামায়াতপন্থীরা পেয়েছেন চারটি পদ। একটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া মাগুরা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হয়েছে শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জে। এই সবকটি আইনজীবী সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বিএনপিন্থীরা।

সর্বশেষ গত ২৯-৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন।

১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি ২৪ ঘণ্টার নোটিসে বিশেষ সাধারণ সভা করে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী ৪২ আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৪টি পদে আগামী এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা। মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৯ জন। তবে এবারই প্রথম ভোটারদের সামনে বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মতো এখানেও ভোট পড়ার আশঙ্কা তাই থেকেই যাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি পেশাজীবী সংগঠন। এখানে আইনজীবী হিসেবে সবাই নির্বাচন করে থাকেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হলো। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে কলঙ্কজনক, যা আইনজীবীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

তবে তার এই বক্তব্যে একমত নন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি বলেছেন, সারাদেশে সব জেলা বারে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট বারেও একইভাবে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, যে কারণে ওনারা (আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, একই কারণে বারে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট বারে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হোক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে বহু যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার আমলের ধারাবাহিকতায় একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। তবে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনসহ দেশে কোন আইনজীবী সমিতির নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হয় না।