শেয়ার বাজার

সিলেটের জৈন্তাপুরে পুলিশের অভিযানে
৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিনের মালিকানাধীন বাড়ী থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিরার চালান আটক করে। আটককৃত জিরার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬লাখ ৮৭হাজার ৫শত টাকা। এদিকে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে বাড়ীর মালিকসহ চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন হতে চারিকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাকারবারী দলের প্রধান দলনেতাা শাহজানের নেতৃত্বে চোরাচালান পণ্য পচারের জন্য হরিরিপুর এলাকায় বিভিন্ন গোদামে ভারতীয় জিরা মজুদ করে আসছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, নানা সময়ে চোরাকারবারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাচালান পণ্য নিয়ে এসে বিভিন্ন গোডাউনে মজুদ করে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই গোডাউন হতে পণ্য সরিয়ে নেন। চোরাচালান রোধকল্পে পুলিশ অভিন্ন কৌশলে গোদামের সন্ধানে নামে। বেশ কয়েকটি গোদাম ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। গোদাম গুলোতে পণ্য মজুত না থাকায় পুলিশ এসব গোদামগুলোতে নজরধারী বৃদ্ধি করে।


সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

সুনির্মল সেন: সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও গবাদিপশুর ফার্ম গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের আয়া পদে কর্মরত স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে| প্রায় ১৬ বছর যাবত তিনি ক্লিনিকের প্রায় ১৫ শতক জমি দখলে রেখে বসবাস করছেন এবং গত ১১ বছর ধরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান গরুর ফার্ম পরিচালনা করছেন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন তথ্য|

সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়—উক্ত জমিতে বসবাসের জন্য দু’টি বড় ঘর এবং আরও দু’টি ঘর গরুর ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে| এই দুগ্ধ ফার্মে ছোট-বড় মিলে প্রায় ১২টি গরু রয়েছে|  এ সব দুধেল গাভীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা হবে বলে জানা গেছে |

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ ফার্মের কারণে গোবরের দুর্গন্ধে পথচারী, বিশেষ করে স্কুলুকলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে| সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবেদ ও মিজান বলেন, “স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়| এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি|” এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ভূমিতে আয়ার এমন দখলদারিত্ব বহু বছর ধরে সকলের চোখের সামনে হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না| অভিযুক্ত স্বপ্না বেগম দাবি করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট জেলা সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম করেছেন|

তিনি বলেন, “গরু পালন করি নিজের দুধের প্রয়োজনেই; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়|” তবে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, তিনি নিয়মিতই দুধ বিক্রি করেন| এদিকে ক্লিনিকের একজন রোগী জানান, তারা স্বপ্না বেগমের ফার্ম থেকেই দুধ কিনে থাকেন| অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দিন গত নভেম্বরে জানান, “অবৈধভাবে ঘর বা গরুর ফার্ম নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই, খোজঁ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে|” ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ৭/৮ মাসেও তিনি সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভূমিতে অবৈধ ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম তরির ব্যপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি রহস্যজনক কারণে| কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে|

সচেতন মহল বিশেষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কার খুঁটির জুড়ে একজন ক্লিনিকের আায়া স্বপ্না বেগম সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এর ভূমির উপর দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাসস্থান ও দুগ্ধ গাভীর ফার্ম তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা|



সিলেটে এবার দক্ষিণ সুরমায়
শিশু ধর্ষণ, যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

শিশু ধর্ষণ, যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটে শিশু ফা‌হিমা ধর্ষণ ও হত‌্যার ঘটনার রেশ কাটার আগেই আবারও রেল স্টেশন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় রেল পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত যুবককে সকাল ৬টার দিকে কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর রাত ৪টার দিকে রেল স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম লোদন (৩৫)। তিনি রেল স্টেশন এলাকার বসবাস করতেন এবং মাদকসেবী বলে জানায় পুলিশ।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, লোদন প্রায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেল স্টেশনে পড়ে থাকে। মঙ্গলবার (২ জুন) কালকে রাত্রে আনুমানিক তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে সে এই মেয়েটিকে ভুলভাল বুঝিয়ে তার সাথে নিয়ে যায়। এবং প্রথমে মেয়েটিকে নেশাগ্রস্ত করে তারপর ধর্ষণ করে। সে সময় স্থানীয়রা তাকে বাঁধা দিতে চাইলে তার হাতে অস্ত্র থাকায় তারা ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা রেল পুলিশকে খবর দিলে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং লোদনকে আটক করে। পরবর্তীতে রেল পুলিশ দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সকাল ৬টার দিকে থানা পুলিশ কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান দিয়ে লোদনকে গ্রেফতার করে। 

দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান সিলেটভিউকে বলেন, ‘উদ্ধারকৃত ওই ১২ বছরের শিশুটি ভবঘুরে। এবং এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তারা মাদকসেবক। তারা সকলেই রেল স্টেশন এলাকায় রাতযাপন করেন। শিশুর অভিযোগের ভিত্তিতে রেল পুলিশের সহায়তায় আমরা একজনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


গোয়াইনঘাটে
১১ মামলার আসামি ‘ডাকাত কামরুলের আতঙ্কের রাজত্ব!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬

১১ মামলার আসামি ‘ডাকাত কামরুলের আতঙ্কের রাজত্ব!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির দাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সতী গ্রামের বাসিন্দা কামরুল দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কামরুলের বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় ডাকাতির ৬টি, ছিনতাইয়ের ১টি এবং চুরির ৪টি মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি প্রায় দেড় বছর কারাগারে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ফের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই কামরুলের কথিত দাপট আরও বেড়েছে। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, কামরুলের কর্মকাণ্ডে লেঙ্গুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ, বিশেষ করে রাতের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় আরও বড় ধরনের অপরাধের আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে এলাকাবাসী বলছেন, একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তি জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা জরুরি। তারা কামরুলের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামরুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো নতুন মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।