সুনির্মল সেন: সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও গবাদিপশুর ফার্ম গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের আয়া পদে কর্মরত স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে| প্রায় ১৬ বছর যাবত তিনি ক্লিনিকের প্রায় ১৫ শতক জমি দখলে রেখে বসবাস করছেন এবং গত ১১ বছর ধরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান গরুর ফার্ম পরিচালনা করছেন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন তথ্য|
সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়—উক্ত জমিতে বসবাসের জন্য দু’টি বড় ঘর এবং আরও দু’টি ঘর গরুর ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে| এই দুগ্ধ ফার্মে ছোট-বড় মিলে প্রায় ১২টি গরু রয়েছে| এ সব দুধেল গাভীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা হবে বলে জানা গেছে |
স্থানীয়রা জানান, অবৈধ ফার্মের কারণে গোবরের দুর্গন্ধে পথচারী, বিশেষ করে স্কুলুকলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে| সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবেদ ও মিজান বলেন, “স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়| এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি|” এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ভূমিতে আয়ার এমন দখলদারিত্ব বহু বছর ধরে সকলের চোখের সামনে হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না| অভিযুক্ত স্বপ্না বেগম দাবি করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট জেলা সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম করেছেন|
তিনি বলেন, “গরু পালন করি নিজের দুধের প্রয়োজনেই; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়|” তবে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, তিনি নিয়মিতই দুধ বিক্রি করেন| এদিকে ক্লিনিকের একজন রোগী জানান, তারা স্বপ্না বেগমের ফার্ম থেকেই দুধ কিনে থাকেন| অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দিন গত নভেম্বরে জানান, “অবৈধভাবে ঘর বা গরুর ফার্ম নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই, খোজঁ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে|” ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ৭/৮ মাসেও তিনি সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভূমিতে অবৈধ ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম তরির ব্যপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি রহস্যজনক কারণে| কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে|
সচেতন মহল বিশেষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কার খুঁটির জুড়ে একজন ক্লিনিকের আায়া স্বপ্না বেগম সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এর ভূমির উপর দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাসস্থান ও দুগ্ধ গাভীর ফার্ম তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা|