শেয়ার বাজার

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ
ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন একটি হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণী এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গৃহশিক্ষক তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এসময় অপহরণের অভিযোগে গৃহ শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানাধীন চর ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান চালায় র‌্যাব। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে মোগলাবাজার থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত অন্তর খাঁনকে (২৫) নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত অন্তর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার এড়ালিয়া পাড়ার আজাদ খাঁনের ছেলে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে এসব তথ্য জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, অপহৃত স্কুল ছাত্রী মোগলাবাজার থানাধীন একটি হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২১ মে সকালে স্কুলে গিয়ে বাড়িতে ফিরে না আসলে তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোথাও খুঁজে পাননি। পরে মোগলাবাজার থানায় একটি জিডি করেন। পরে স্কুলছাত্রীর পরিবার জানতে পারেন ভিকটিমের গৃহ শিক্ষক অন্তর খাঁন তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে স্থানীয় কলাবাগান বাজার থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটক করে রেখেছে। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।


সিলেটের জৈন্তাপুরে পুলিশের অভিযানে
৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬

৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ৭৫বস্তা ভারতীয় জিরা আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকালে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫নং ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিনের মালিকানাধীন বাড়ী থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিরার চালান আটক করে। আটককৃত জিরার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬লাখ ৮৭হাজার ৫শত টাকা। এদিকে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে বাড়ীর মালিকসহ চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন হতে চারিকাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাকারবারী দলের প্রধান দলনেতাা শাহজানের নেতৃত্বে চোরাচালান পণ্য পচারের জন্য হরিরিপুর এলাকায় বিভিন্ন গোদামে ভারতীয় জিরা মজুদ করে আসছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, নানা সময়ে চোরাকারবারীরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পথ দিয়ে চোরাচালান পণ্য নিয়ে এসে বিভিন্ন গোডাউনে মজুদ করে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই গোডাউন হতে পণ্য সরিয়ে নেন। চোরাচালান রোধকল্পে পুলিশ অভিন্ন কৌশলে গোদামের সন্ধানে নামে। বেশ কয়েকটি গোদাম ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। গোদাম গুলোতে পণ্য মজুত না থাকায় পুলিশ এসব গোদামগুলোতে নজরধারী বৃদ্ধি করে।



আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬

আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

সুনির্মল সেন: রামিসার জন্য আজ আর শোক নয়! রামিসা হত্যার দৃশ্যমান বিচার চাই! কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার চাই। আর কতো শিশুর রক্ত ঝরলে এ দেশের টনক নড়বে? রামিসার বয়স কতোই বা ছিলো? এমন একটি বয়স, যখন শিশুর হাতে থাকার কথা বই, খাতা, পেন্সিল আর স্কুলব্যাগ। এমন একটি বয়স,  যখন পৃথিবীকে চেনার কথা মায়ের হাত ধরে, স্কুলের পথে, বন্ধুর হাসিতে, ছোট ছোট স্বপ্নে। অথচ সেই শিশুটিই আজ আমাদের সামনে রেখে গেছে এক ভয়াবহ প্রশ্ন! এই দেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সংঘটিত শিশু রামিসা হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের প্রশ্ন, এ নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবার বুকফাটা আর্তনাদ ও ক্ষোভের যে বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা কি সমাজের বিবেককে নাড়া দেবে? একটি সাত বছরের শিশুকে যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বল দিকটি উন্মোচিত করেছে। 

এই নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশে সামাজিক মূল্যবোধের কতোটা অধঃপতন ঘটেছে। একই সাথে শিশু রামিসার বাবার ক্ষোভ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। বস্তুত এ দায়মুক্তির সংস্কৃতি নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পারিবারিক শত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এখন কোমলমতি শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা চরম বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এগুলো বহু বছর ধরে চলে আসা নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। মাদকের বিস্তারও এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

রাজধানী পল্লবীর এ হত্যাকান্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আমরা কতোটা ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এর কারণ যথাযথভাবে খুঁজে বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।সাম্প্রতিক রামিসা হত্যাকান্ড সহ ইতোপূর্বের সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীর দ্রুত সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরণের অপরাধ রোধে শুধু আইন বা সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য শক্তিশালী সামাজিক আন্দালন গড়ে তোলা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। যে সব কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, সেসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আর কোনো মা -বাবা ও বোনের বুক যেনো এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারকে যেনো এমন নির্মম, নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে। সর্বশেষে বলতে হয়, "আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?" (লেখক: কবি ও গণমাধ্যমকর্মী)


বিছনাকান্দিতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

বিছনাকান্দিতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম শান্ত চন্দ্র বণিক (২২)। তিনি শাবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শান্ত তার কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে বিছনাকান্দিতে বেড়াতে যান। পরে বিকেলের দিকে তারা জিরো পয়েন্ট এলাকায় পানিতে নামেন। এ সময় হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতের কারণে শান্তসহ কয়েকজন পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজে নামলে শান্তর দুই সহপাঠীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শান্ত নিখোঁজ থাকায় পরে ফায়ার সার্ভিস, টুরিস্ট পুলিশ ও গোয়াইনঘাট থানা-পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর রাতের দিকে উদ্ধারকারী দল তার মরদেহ পানির নিচ থেকে উদ্ধার করে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শান্ত ছিলেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠীদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে বিছনাকান্দিতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামা স্বাভাবিক ঘটনা। এ সময় পর্যটকদের অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।