শেয়ার বাজার

আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য, শিক্ষক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন আদায়, নারী শিক্ষকদের যৌন হয়রানি এবং সাংবাদিক ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে। জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ২৫ দফা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ গোয়াইনঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে তদন্ত পরিচালনা করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল আলম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও নানা কৌশলে তিনি একই উপজেলায় বহাল থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষক বদলি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অবৈধ সংযুক্তি, পদোন্নতি, এসিআর, প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্কুল পরিদর্শন—সবকিছুকেই ঘুষ আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন করে আলোচনায় এসেছে পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত ওয়াস ব্লক প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ কাজ নিম্নমানের করা হয়। অথচ প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হতো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রকল্প থেকেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। শুধু ওয়াস ব্লক নয়, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ থেকেও বড় অঙ্কের কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তঃউপজেলা ও অন্তঃউপজেলা বদলিকে তিনি ঘুষ আদায়ের অন্যতম বড় খাতে পরিণত করেন। বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক নারী শিক্ষিকার বদলির বিনিময়ে গরু ও মালয়েশিয়া ভ্রমণের রিটার্ন টিকিট দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। দাবি পূরণ না করায় তাকে বদলি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি স্কুল পরিদর্শনের পর প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলের তেলের খরচের কথা বলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের নামেও ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও চাকরির নিরাপত্তার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এতে রাজি না হলে মানসিক নির্যাতন ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।এমনকি যৌন হয়রানির কারণে এক নারী শিক্ষক চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করে লাইভ প্রচার, অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হতো। ফলে দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষক আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

২৫ টি লিখিত অভিযোগের  বিষয়ে জানতে বর্তমানে ওসমানী নগরে কর্মরত  শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বেনামে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে আমাকে হয়রানি করতে। অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি কৌশলে নীরবতা পালন করেন।  নীরবতা অভিযোগের সত্যতায় সম্মতির লক্ষণ।

অন্যদিকে অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা  শিক্ষা অফিসার (সাধারণ শাখা) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ  এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন  করবে।”

অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক( তদন্ত  ও শৃঙ্খলা শাখা)  মো: আব্দুস সালাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি অফিসের বাহিরে অভিযোগ দেখে বিস্তারিত বলতে হবে।

ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬

ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে  সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট মহানগরীতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী কন্যাশিশু মাইমুনা জান্নাত তোহাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে নগরীর জালালাবাদ থানাধীন পুরাতন কালারুকা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তোহা ওই এলাকার আমীর আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে মসজিদে যান শিশুটির বাবা আমীর আলী। যাওয়ার আগে ঘুম থেকে ওঠা শিশুকে দেখে স্ত্রীকে নামাজ পড়ার কথা বলে তিনি বেরিয়ে যান। নামাজ শেষে হঠাৎ ছোট ছেলের কাছ থেকে মেয়ের গলা কেটে হত্যার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন তিনি। এসে দেখেন, ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার আদরের শিশু কন্যা।

ঘটনার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ও শোক নেমে আসে। স্থানীয় লোকজন শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা সুবিনাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সুবিনা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এদিকে শামসুল হাবিব বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে শিশুটির বাবা মসজিদে থাকার সুযোগে মা ধারালো বটি দা দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন।

নিহত শিশুর বাবা আমীর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি নামাজ পড়ে এসে মেয়ের এমন অবস্থা দেখবো কখনো ভাবিনি। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনাকে “অমানবিক ও বিভীষিকাময়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।



সিলেটের
মহাজনপট্টি থেকে আটক বিসু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬

মহাজনপট্টি থেকে আটক বিসু

সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী থানার মহাজনপট্টি থেকে বিসু বাঁশফোড় নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি একজন মাদক ব্যবসায়ী। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল। তারা জানায়, শনিবার (৬ জুন) রাত ১১টার দিকে বন্দরবাজার ফাঁড়ির একদল পুলিশ সদস্য তাকে আটক করে। বিসু বাঁশফোড় কোতোয়ালী থানার কাষ্টঘর সুইপার কলোনির ফকির চাঁন ও রেনু মালার ছেলে। আটকের সময় তার হেফাজত থেকে ১৫৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

 তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (নং ৬/৭/৬/২৬) দায়ের করে বিসু বাঁশফোড়কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো.  মনজুরুল আলম।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন

 



নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর আম্বরখানা দর্শনদেউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্য (বুঙ্গার মাল) আটক করেছে পুলিশ। এসময় এক ব্যক্তিকে আটকও করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর ৬০ বস্তায় ১৮০০ কেজি জিরা ও ১৫ বস্তায় ৭৫০ কেজি চাপাতা ছিল। জব্দকৃত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় সোয়া ১১ লাখ টাকা। এসময় আবদুস শুকুর (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উপর সামপুর গ্রামের মৃত আইয়ূব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।