শেয়ার বাজার

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের
কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বরমছড়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার গাছঘর, ধুপড়ীরপাড়, বতুমারা ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বরমছড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন গাছঘর গ্রামের ইউপি সদস্য আবুল বাশার, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, মাসুক মিয়া, আব্দুল মুতলিব, জামিল মিয়া, ইউসুফ আলী, জুয়েল মিয়া, আনসার আলী, ইসমাইল আলী, দুলাল মিয়া, সাহেল মিয়া, আব্দুল হান্নান, শহীদ মিয়া, নুরুল আমিন মেম্বার, আজাদ মিয়া, জালাল মিয়া ও তৈয়্যব মিয়াসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নদীতীরবর্তী এলাকায় বিশাল আকারে মজুদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বতুমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এবং ধুপড়ীরপাড় বাজারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় বালুর স্তূপ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণ ও বসতভিটার উন্নয়নের কথা বললেও অধিকাংশ বালু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, বরমছড়া নদী একটি ছোট নদী হওয়ায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মসজিদ, বাজার ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

নদীপাড়ের কয়েকজন কৃষক জানান, নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ও বোরো ধানের আবাদ হয়। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে ভারসাম্য নষ্ট হলে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসন চাইলে সহজেই বিষয়টি দেখতে পারে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বরমছড়া নদী ও এর আশপাশের জনপদ বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।


সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে
যাত্রীবাহী বাস খাদে নারী ও শিশুসহ নিহত -৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬

যাত্রীবাহী বাস খাদে নারী ও শিশুসহ নিহত -৪

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হবিগঞ্জের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বৈশ্বামোড়া এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার আরস আলী মুন্সি (৭০) এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মৌসুমি দাস (৩০)। সরাইলের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, হবিগঞ্জের মাধবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মেড্ডা বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথিমধ্যে সরাইল উপজেলার বৈশ্বামোড়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের চাপে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চার যাত্রীর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 



আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য, শিক্ষক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন আদায়, নারী শিক্ষকদের যৌন হয়রানি এবং সাংবাদিক ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে। জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ২৫ দফা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ গোয়াইনঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে তদন্ত পরিচালনা করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল আলম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও নানা কৌশলে তিনি একই উপজেলায় বহাল থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষক বদলি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অবৈধ সংযুক্তি, পদোন্নতি, এসিআর, প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্কুল পরিদর্শন—সবকিছুকেই ঘুষ আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন করে আলোচনায় এসেছে পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত ওয়াস ব্লক প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ কাজ নিম্নমানের করা হয়। অথচ প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হতো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রকল্প থেকেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। শুধু ওয়াস ব্লক নয়, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ থেকেও বড় অঙ্কের কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তঃউপজেলা ও অন্তঃউপজেলা বদলিকে তিনি ঘুষ আদায়ের অন্যতম বড় খাতে পরিণত করেন। বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক নারী শিক্ষিকার বদলির বিনিময়ে গরু ও মালয়েশিয়া ভ্রমণের রিটার্ন টিকিট দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। দাবি পূরণ না করায় তাকে বদলি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি স্কুল পরিদর্শনের পর প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলের তেলের খরচের কথা বলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের নামেও ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও চাকরির নিরাপত্তার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এতে রাজি না হলে মানসিক নির্যাতন ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।এমনকি যৌন হয়রানির কারণে এক নারী শিক্ষক চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করে লাইভ প্রচার, অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হতো। ফলে দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষক আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

২৫ টি লিখিত অভিযোগের  বিষয়ে জানতে বর্তমানে ওসমানী নগরে কর্মরত  শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বেনামে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে আমাকে হয়রানি করতে। অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি কৌশলে নীরবতা পালন করেন।  নীরবতা অভিযোগের সত্যতায় সম্মতির লক্ষণ।

অন্যদিকে অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা  শিক্ষা অফিসার (সাধারণ শাখা) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ  এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন  করবে।”

অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক( তদন্ত  ও শৃঙ্খলা শাখা)  মো: আব্দুস সালাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি অফিসের বাহিরে অভিযোগ দেখে বিস্তারিত বলতে হবে।


১৯ মে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মে, ২০২৬

১৯ মে থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দয়েরের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগে অনির্দিষ্টকালের সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে। ১৮ মে’র মধ্যে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না হলে ১৯ মে থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরী সভায় এই কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়।

এরআগে গত ২৭ এপ্রিল দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকায় দফায় দফায় শ্রমিকদের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত দুই শ্রমিক পরে মারা যান। মারা যাওয়া শ্রমিক ছাবলু মিয়ার বাবা গত ৫ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, সাবেক কোষাধ্যক্ষ সামছুল হক মানিক ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মিয়াসহ ২৯ নামের উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ৬০ জনকে। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা।

বৃহস্পতিবারের সভায় ফেডারেশনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৯ মে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের জন্য সর্বস্তরের পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা। সভায় ফেডারেশনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্বশীল সড়ক পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর পরিচালনা অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, সুনামগঞ্জ জেলা ট্রাক পিকাপ কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজুর নুর, সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কালা মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা ট্রাক পিকাপ কার্ভাড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি অদুদ আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক পিকাপ কার্ভড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি কাওসার আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বাদল আহমদ, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আজাদ মিয়া, সিলেট জেলা ইমা লেগুনা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইনসান আলী, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত আবুল, প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী প্রমূখ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৭ এপ্রিল সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনালে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ নিরপরাধ শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করার ঘটনায় সর্বস্তরের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ। আমরা উক্ত ঘটনা ও অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকদের ঐক্য বিনষ্টের কোন ষড়যন্ত্র শ্রমিক সমাজ মেনে নিবে না। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি সেদিন ঘটনার সময় ফেডারেশনের বিভাগীয় সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ নাজিরবাজারে শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা ঘটনা শুনে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন। সেই ঘটনায় নিরীহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে আসামি করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আগামী ১৯ মে ভোর ৬টা থেকে সিলেট বিভাগে সর্বাত্মক সড়ক পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি সফলের জন্য শ্রমিক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।