শেয়ার বাজার

কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসী নারীকে নির্যাতন, মাথার চুল কর্তন ৫ ঘণ্টা আটকের পর পুলিশের উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে প্রবাসী নারীকে নির্যাতন, মাথার চুল কর্তন ৫ ঘণ্টা আটকের পর পুলিশের উদ্ধার

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরব প্রবাসী এক তরুণীকে মারধর, মাথার চুল কেটে অপমান এবং প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নির্যাতনের শিকার রোমানা আক্তার (১৮) জানান, কথিত প্রেমিক রুবেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ভুল বোঝাবুঝির জেরে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় রুবেলের সহযোগীরা। অভিযুক্ত রুবেল টুকেরগাঁও পূর্বপাড়ার শাহাব উদ্দিনের ছেলে। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় রোমানাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী রোমানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে জোর করে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। শরীর ও গলার বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। রুবেলের মা রোকেয়ার নির্দেশে আমার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে ভিডিও কলে রুবেলকে দেখানো হয়। তখন সে হাসছিল।” তিনি আরও জানান, রুবেলের সঙ্গে তার দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল তার কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা, এক ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় রোমানার মা আয়াতুন নেছা বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল, তার বাবা শাহাব উদ্দিন, মা রোকেয়া বেগমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ও সহযোগী। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন কর্মকার বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জে
৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক :সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বেড়েরগাঁও এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই র‌্যাব মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও এলাকার একটি বসতবাড়িতে বিদেশি মদ মজুদ করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে র‌্যাবের দলটি ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ঘরের খাটিয়ার নিচে রাখা দুটি কালো পলিথিন ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও গ্রামের মো. এরশাদ আলী (৪২)। তিনি জালাল উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলী র‌্যাবকে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাকে বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



জাল নোটের জালিয়াত চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬

জাল নোটের জালিয়াত চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব

সিলেটে জাল নোটের জালিয়াত চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াত চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে জাল নোট দিয়ে প্রতারণার অভিনব কৌশলও জানতে পেরেছে র‌্যাব।  বুধবার র‌্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  আটককৃতরা হলো- গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানার পীরেরবাড়ির মৃত ঠাকুর চাঁদ বালার ছেলে গুরুচাঁদ বালা (৩৮), শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি লগারপাড়া গ্রামের মো. হাবুল মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৫), একই উপজেলার নগরপাড়া গ্রামের মো. কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. রাশেদ মিয়া (৩০) ও বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার হাদি বাঁশকাঠি গ্রামের আবদুল বারেক সরদারের ছেলে মো. সোহাগ সরদার (৩৩)। 

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার গেইট এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।  জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানায়, সে জাল নোটের কারবারি। সে এবং তার তিন সহযোগী বিগত কয়েকদিন থেকে সিলেট শহরে অবস্থান করে জাল নোট দিয়ে প্রতারণা করে আসছে।  তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ লালবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়। জালিয়াত চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লাখ ২ হাজার ৭০০ টাকার জাল নোট। 

জিজ্ঞাসাবাদে ওই চক্রের সদস্যরা জানায়, তারা সাধারণত জনবহুল বাজার এবং ছোট ছোট দোকানকে টার্গেট করে কম মূল্যের কোন পণ্য ক্রয় করে বড় অংকের জাল নোট প্রদান করে। এরপর দোকানদারের কাছ থেকে তারা ফেরত হিসেবে অবশিষ্ট টাকার আসল নোট গ্রহণ করে।  এভাবেই তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। বিশেষ করে উৎসবের সময় বা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা এই জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দিত। 


সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

সুনির্মল সেন: সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও গবাদিপশুর ফার্ম গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের আয়া পদে কর্মরত স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে| প্রায় ১৬ বছর যাবত তিনি ক্লিনিকের প্রায় ১৫ শতক জমি দখলে রেখে বসবাস করছেন এবং গত ১১ বছর ধরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান গরুর ফার্ম পরিচালনা করছেন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন তথ্য|

সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়—উক্ত জমিতে বসবাসের জন্য দু’টি বড় ঘর এবং আরও দু’টি ঘর গরুর ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে| এই দুগ্ধ ফার্মে ছোট-বড় মিলে প্রায় ১২টি গরু রয়েছে|  এ সব দুধেল গাভীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা হবে বলে জানা গেছে |

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ ফার্মের কারণে গোবরের দুর্গন্ধে পথচারী, বিশেষ করে স্কুলুকলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে| সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবেদ ও মিজান বলেন, “স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়| এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি|” এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ভূমিতে আয়ার এমন দখলদারিত্ব বহু বছর ধরে সকলের চোখের সামনে হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না| অভিযুক্ত স্বপ্না বেগম দাবি করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট জেলা সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম করেছেন|

তিনি বলেন, “গরু পালন করি নিজের দুধের প্রয়োজনেই; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়|” তবে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, তিনি নিয়মিতই দুধ বিক্রি করেন| এদিকে ক্লিনিকের একজন রোগী জানান, তারা স্বপ্না বেগমের ফার্ম থেকেই দুধ কিনে থাকেন| অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দিন গত নভেম্বরে জানান, “অবৈধভাবে ঘর বা গরুর ফার্ম নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই, খোজঁ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে|” ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ৭/৮ মাসেও তিনি সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভূমিতে অবৈধ ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম তরির ব্যপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি রহস্যজনক কারণে| কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে|

সচেতন মহল বিশেষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কার খুঁটির জুড়ে একজন ক্লিনিকের আায়া স্বপ্না বেগম সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এর ভূমির উপর দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাসস্থান ও দুগ্ধ গাভীর ফার্ম তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা|