কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরব প্রবাসী এক তরুণীকে মারধর, মাথার চুল কেটে অপমান এবং প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে ঘটনার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নির্যাতনের শিকার রোমানা আক্তার (১৮) জানান, কথিত প্রেমিক রুবেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ভুল বোঝাবুঝির জেরে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় রুবেলের সহযোগীরা। অভিযুক্ত রুবেল টুকেরগাঁও পূর্বপাড়ার শাহাব উদ্দিনের ছেলে। খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় রোমানাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী রোমানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে জোর করে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। শরীর ও গলার বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। রুবেলের মা রোকেয়ার নির্দেশে আমার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে ভিডিও কলে রুবেলকে দেখানো হয়। তখন সে হাসছিল।” তিনি আরও জানান, রুবেলের সঙ্গে তার দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল তার কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা, এক ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় রোমানার মা আয়াতুন নেছা বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল, তার বাবা শাহাব উদ্দিন, মা রোকেয়া বেগমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য ও সহযোগী। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুজন কর্মকার বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”








