শেয়ার বাজার

আবারও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

আবারও  ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

মৌলভীবাজারে আবারও হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপ ও জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি বাস আড়াআড়িভাবে রেখে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে নারী, শিশু, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের আশ্বাসে দুপুর ২টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।

হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুহেল চৌধুরী জানান, গত ১৪ মে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট রুটে পুনরায় বিরতিহীন বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতি’-র লোকজন হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিসের কয়েকটি বাস আটকে চালক ও স্টাফদের মারধর করে। তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। প্রশাসন যদি কার্যকর সমাধান দিতে পারে তাহলে গাড়ি চলবে, অন্যথায় আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে পেশিশক্তির মাধ্যমে বারবার হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে মৌলভীবাজারে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে বাস আটকানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে বিরতিহীন বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহন ও মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েকদিন আগেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের বাস আটক ও চালকদের মারধরের ঘটনায় টানা দুই দিন হবিগঞ্জ থেকে সিলেটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জরুরি চিকিৎসা, চাকরি, পরীক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি কেউ বিবেচনায় নিচ্ছে না। ভুক্তভোগী যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দুই জেলার বাস মালিক সমিতির বিরোধের দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য গাড়ি আটক করে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করবে। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘বর্তমানে মহাসড়কে কোনো অবরোধ নেই। স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অবরোধ এখন আর নেই। হবিগঞ্জের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসেছি। সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে।’

নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর আম্বরখানা দর্শনদেউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্য (বুঙ্গার মাল) আটক করেছে পুলিশ। এসময় এক ব্যক্তিকে আটকও করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর ৬০ বস্তায় ১৮০০ কেজি জিরা ও ১৫ বস্তায় ৭৫০ কেজি চাপাতা ছিল। জব্দকৃত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় সোয়া ১১ লাখ টাকা। এসময় আবদুস শুকুর (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উপর সামপুর গ্রামের মৃত আইয়ূব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।



হবিগঞ্জে
এসিডে গৃহবধূর মুখ ঝলসেদিল স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬

এসিডে গৃহবধূর মুখ ঝলসেদিল স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জে একটি কোম্পানীর শ্রমিক রুবিনা আক্তার (২৫) মুখ মন্ডল এসিডে ঝলসে দিয়েছে সাবেক স্বামী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল হক মুনশী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। উজ্জলকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের উজ্জল মিয়ার (২৮) সঙ্গে গত দুই বছর আগে বিয়ে হয় রুবিনার। এক পর্যায়ে তাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হলে ৬ মাস আগে উজ্জলকে তালাক দেন রুবিনা। তাদের দুই সন্তান বর্তমানে উজ্জল মিয়ার কাছে রয়েছে। এরপরও উজ্জল তার পিছু ছাড়েনি। বিভিন্ন সময়ে রাস্তাঘাটে আসা যাওয়ার পথে এবং তার কর্মস্থলে গিয়েও রুবিনাকে উত্যক্ত করতো উজ্জল।

আরও জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে রুবিনা কোম্পানি থেকে কাজ শেষে বাড়ি আসার পথে বহুলায় বাড়ির পাশে পৌছলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা উজ্জল তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করেন। তখন রুবিনা চিৎকার শুরু করলে লোকজন এগিয়ে এলে উজ্জল পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা বার্ণ ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়।



‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

- চারবছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সর্কে চাচা। সোমবার রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা ণিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।

সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।