শেয়ার বাজার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার::কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩নং তেলিখাল ইউনিয়নের চাটিবহর গ্রামের মাঝপাড়ায় এঘটনা ঘটে গত (৩১মে) চাটিবহর মাঝপাড়ার মৃত আরাফাত আলীর ছেলে ফজর আলীর পৈত্রিক বসতবাড়ির জায়গায় প্রতিবেশী আসমত আলী ফেরাই (৬০) রুসমত আলী(৫৫) আবদাল হোসেন(৩০)নাজির হোসেন(২৬) আবুল হোসেন(২৮)আকরাম হোসেন(২৫) সর্ব পিতা আসমত আলী ফেরাই গংরা জোরপূর্বক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ করে যাচ্ছেন।

মামলার বাদী ফজর আলী বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশের শরণাপন্ন হন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সুজন কর্মকার পুলিশের এসআই আবুল কালাম সহ পুলিশের একটি ফোর্স পাঠান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও শান্তি ভঙ্গ না করার অনুরোধ করেন। বাদী ফজর আলী অভিযোগ করে বলেন,পুলিশের সামনেই বিল্ডিং নির্মাণকারী আসমত আলী ফেরাইর লোকজন মারামারি সংঘটিত করেন।

এতে নারী শিশু ছাত্র তার ছোট ভাই মজর আলী সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। উল্লেখ যে এর আগে বিগত (২৩-০২-২০২৬-ইং) তারিখে জায়গার মালিক ফজর আলী বাদি হয়ে সিলেটের এ,ডি,এ,ম কোর্টে উপরোল্লিখিত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং১২/২৬। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি শোনে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও নারী,শিশু,বৃদ্ধা, আহত করা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান করছি। মামলার দায়িত্বে থাকা এসআই আবুল কালাম,জানান আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবো যেহেতু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এবিষয় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সুজন কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবে  থানা পুলিশ।

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল কিশোরী নাতনি (১৪)। আর্ত চিৎকারে দাদি গিয়ে দেখেন একদল লোক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা ঠেকাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাদি এলাকাবাসীকে ডাকেন। ‍এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান কিশোরীর দাদি।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি হচ্ছেন দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত নাতনি (১৪) ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করেছে বলে দাবি করলেও শনিবার বিকেল (৫টা) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তার বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এ দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের এক আত্মীয় জানান, গভীর রাতে এমন দুর্বত্তপনায় পুরো এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা হচ্ছিল। আহত কিশোরী তার চোখের সামনে দাদির হত্যাকাণ্ড দেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।  কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা সাজনা বেগম এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখমি অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই কিশোরী ও তার মা।

আহত সাজনা বেগম জানান, রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়েছে। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি মেয়ের মুখ চেপে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির সময় তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং  মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

কিশোরীকে তুলে নেওয়া বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢোকে কিশোরীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে এ ঘটতে পারে। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুুলিশ কিশোরীর দাদি দিলারার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘নিহতের এক সন্তান প্রবাসী। তার সঙ্গে টাকার বিরোধ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এ টুকু জানা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’


জমি ছাড়তে সাদ্দামের হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ সংবাদ সম্মেলনে সমছু উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

জমি ছাড়তে সাদ্দামের হুমকি, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ সংবাদ সম্মেলনে সমছু উদ্দিন

নিজের কেনা জমির দখল ছাড়তে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নগরীর দপ্তরীপাড়া রায়নগর প্রত্যয়-৮১নং বাসার বাসিন্দা মো. সমছু উদ্দিন খাঁন। এমনকি আদালতের নিষেধ অমান্য করে যখন তখন বড় অঘটন ঘটিয়ে তার জমি দখল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।বুধবার (২০ মে) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শাহপরাণ থানার দেবপুর প্রকাশ মুকিরপাড়ার মৃত রূপা মিয়ার ছেলে মঞ্জু মিয়ার কাছ থেকে সাফ কবালা দলিলে সিলেট সদরের দেবপুর মৌজার জে এল নং ৯৬, ১৩৬২ এসএ দাগের ৭৯৫নং খতিয়ানের ০.৭৮ একর ভূমি ক্রয় করেছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাবতীয় খাজনাও প্রদান করছিলেন। তবে ২০১৭ সালে এস.এ রেকর্ডীয় মালিকদের উত্তরাধিকারীরা আপত্তি জানালে সিলেট সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারী বাতিল করার পর আমি তার আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) আদালতে নামজারী মামলা নং- ৪৭/২০১৭ দায়ের করি। পরে ২০২১ সালে এসএ রেকর্ডীয় মালিকদের উত্তরসুরীরা আমমোক্তারনামার মাধ্যমে তাদের স্বত্ত্বত্যাগ করেন এবং এই ভূমি বর্তমানে আমার দখলে রয়েছে। সেখানে ঘর গাছপালা আছে এবং আমার একজন কেয়ারটেকারও বসবাস করছেন।তিনি জানান, তার ক্রয় করা এই ভূমি দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন শাহপরাণ থানার মিরাপাড়ার মৃত ছটু মিয়ার ছেলে রাশেদ আহমদ সাদ্দাম (মোবাইল  নং- ০১৭১১-৪৪০০১৮) ও তার সহযোগী একদল ভূমিখেকো চক্র। সাদ্দাম এই সম্পত্তি তার মৌরসী দাবি করে দখল না ছাড়লে আমাদের জীবন দুর্বিসহ করে তোলার হুমকি দিচ্ছে। তার এমন হুমকিতে আমি অসহায় বোধ করছি। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগের বড় নেতা পরিচয় দিয়ে নানান অপকর্ম করে বেড়াতেন। তবে সরকার বদলের পর এখন তিনি বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা ইত্যাদি পরিচয়ে তার সেই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শাহপরাণ থানাপুলিশের সৌর্স বা পুলিশের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথা প্রচার করে গোটা এলাকার মানুষকে তটস্থ করে রেখেছেন। তিনি ও তার বাহিনীর যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষের জীবন আজ দুর্বিসহ। তিনি ২৩ এপ্রিল পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিলেও শাহপরাণ থানাপুলিশ নির্বিকার। তারা অজ্ঞাত কারণে নিরব। তিনি জানান, ১৮ মে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২্ এর বিচারক এই ভূমির উপর ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। একই সাথে সিলেট সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও শাহপরাণ থানার ওসি ও সার্ভেয়ার, উপজেলা ভূমি অফিস বা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তাকে দখল বিষয়ক স্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শাহপরাণ থানার ওসিকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে কঠোরভাবে স্থিতাবস্থা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিশেষ করে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, শাহপরাণ থানার ওসিসহ সবার কঠোর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।এ ব্যাপারে জানতে রাশেদ আহমদ সাদ্দামের মোবাইলে একাধিকবার কল এবং হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ দিলেও তিনি কোনো জবাব দেন নি।সংবাদ সম্মেলনে সমছু উদ্দিন খাঁনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার নাতি রুহেল আহমদ।


সিলেটে প্রবাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে
খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর মৌজা, জে এল নং-৭০ এর আওতাধীন সরকারি খাস জমির ১৪২ ও ২০০১ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১২ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে ফাঁকা ওয়ালের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক খাস জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। খাদিম এলাকার এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি খাস জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। অথচ প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে। প্রশাসনের নীরবতায় ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহজাহানের ব্যবহৃত বিদেশি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সরকারি খাস জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিলেটজুড়ে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।