শেয়ার বাজার

আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

সুনির্মল সেন: রামিসার জন্য আজ আর শোক নয়! রামিসা হত্যার দৃশ্যমান বিচার চাই! কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার চাই। আর কতো শিশুর রক্ত ঝরলে এ দেশের টনক নড়বে? রামিসার বয়স কতোই বা ছিলো? এমন একটি বয়স, যখন শিশুর হাতে থাকার কথা বই, খাতা, পেন্সিল আর স্কুলব্যাগ। এমন একটি বয়স,  যখন পৃথিবীকে চেনার কথা মায়ের হাত ধরে, স্কুলের পথে, বন্ধুর হাসিতে, ছোট ছোট স্বপ্নে। অথচ সেই শিশুটিই আজ আমাদের সামনে রেখে গেছে এক ভয়াবহ প্রশ্ন! এই দেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সংঘটিত শিশু রামিসা হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের প্রশ্ন, এ নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবার বুকফাটা আর্তনাদ ও ক্ষোভের যে বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা কি সমাজের বিবেককে নাড়া দেবে? একটি সাত বছরের শিশুকে যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বল দিকটি উন্মোচিত করেছে। 

এই নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশে সামাজিক মূল্যবোধের কতোটা অধঃপতন ঘটেছে। একই সাথে শিশু রামিসার বাবার ক্ষোভ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। বস্তুত এ দায়মুক্তির সংস্কৃতি নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পারিবারিক শত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এখন কোমলমতি শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা চরম বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এগুলো বহু বছর ধরে চলে আসা নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। মাদকের বিস্তারও এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

রাজধানী পল্লবীর এ হত্যাকান্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আমরা কতোটা ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এর কারণ যথাযথভাবে খুঁজে বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।সাম্প্রতিক রামিসা হত্যাকান্ড সহ ইতোপূর্বের সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীর দ্রুত সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরণের অপরাধ রোধে শুধু আইন বা সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য শক্তিশালী সামাজিক আন্দালন গড়ে তোলা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। যে সব কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, সেসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আর কোনো মা -বাবা ও বোনের বুক যেনো এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারকে যেনো এমন নির্মম, নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে। সর্বশেষে বলতে হয়, "আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?" (লেখক: কবি ও গণমাধ্যমকর্মী)

প্রশ্নবিদ্ধ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখা”
“ঘুষ, দালাল ও ঋণ অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

“ঘুষ, দালাল ও ঋণ অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে প্রবাসীদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুব মান্নান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঋণ বিতরণে অনিয়ম, দালালচক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ঋণ সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পছন্দের কিছু ব্যক্তির মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, ঋণ পেতে নির্দিষ্ট কিছু দালালের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষের বিনিময়ে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপক নিয়মিত অফিস সময় পালন করেন না। সরকারি নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও তিনি প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন এবং সময়ের আগেই চলে যান। ফলে সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ধর্মপাশা উপজেলার এক ঋণগ্রহীতার (ফাইল নং-১৩৫৫০৬০০২১৯) ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি ঋণ ফাইল (নং-০১৩৫৫০৬০০০২১৪) নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে ওই ঋণের কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, সরকারের ঘোষিত সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ঋণ পেতে দালাল ও বিভিন্ন মহলের সুপারিশের প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ, এসএমই ঋণ এবং প্রবাসী পুনর্বাসন ঋণ কার্যক্রমও প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এদিকে, বিদেশে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন ঋণ সুবিধা বাস্তবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক সেবাগ্রহীতা।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত তথ্য জানতে ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করলেও তারা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। তাদের মতে, সরকারের ঘোষিত সুবিধা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুব মান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি নিয়মিত অফিস করি এবং ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বিধি-বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।” বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত ঋণ সুবিধা বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদেশে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য ঋণ কার্যক্রমও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।”

তবে সরকারের ঘোষিত সুবিধা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে বৈপরীত্যের অভিযোগ উঠেছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।


পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ
বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ ইমন (৩৮) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল হোসেন তার স্ত্রী পিয়ারা আক্তার খুশীকে (৩৯) প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। খুশী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি মেগারগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খুশীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। ব্যবসার কাজে ইমন প্রায়ই বাইরে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে কনস্টেবল নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইমনের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি তার নজরে এলেও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে খুশী তার সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং তালাকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল নাজমুলের পরামর্শে খুশী তার স্বামীর মালিকানাধীন ৩টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি স্টিলের নৌকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদ হাতিয়ে নেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল নাজমুল খুশীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও বিচার-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বনাথ থানা ও সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে কনস্টেবল নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ইমন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্ত্রী ও আমার কষ্টার্জিত সম্পদ ফিরিয়ে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন বলেন, “ইমনের স্ত্রী কোথায় আছেন তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।



সিলেটে প্রবাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে
খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর মৌজা, জে এল নং-৭০ এর আওতাধীন সরকারি খাস জমির ১৪২ ও ২০০১ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১২ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে ফাঁকা ওয়ালের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক খাস জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। খাদিম এলাকার এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি খাস জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। অথচ প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে। প্রশাসনের নীরবতায় ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহজাহানের ব্যবহৃত বিদেশি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সরকারি খাস জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিলেটজুড়ে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।