শেয়ার বাজার

সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট ভিজুয়াল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের পথ সভা ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট ভিজুয়াল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের  পথ সভা ও মানববন্ধন

মাদক,চুরি,ছিনতাই ধর্ষণ ও হত্যাসহ ​সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সচেতন জনগোষ্ঠীর করণীয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়—এই  লক্ষ্য নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সিলেট ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্ধ্যোগে একটি পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  সিলেটের ক্বীনব্রীজের নিচে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি ঘরের সামনে  আয়োজিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, হাছন রাজা লোক সাহিত্য ও সাংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক অনুরাগী ডাঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী। ক্লাবের সভাপতি কামরুল চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমদ এর পরিচালনায় অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা শাহেদ মোশারফ কটাই মিয়া, হাছন রাজা লোক সাহিত্য ও সাংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু, সিলেট ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক | ফাহিম হোসাইন,অর্থ সম্পাদক জাফর হোসেন রুবেল,দপ্তর সম্পাদক এইচ এম আয়নুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, পারভেজ আহমদ,প্রচার সম্পাদক মোজাহিদ আহমদ, সহ-প্রচার সম্পাদক ইয়াছিন আহমদ কবির ও কার্যকরি সদস্য  হোসেন আহমেদ নয়ন। 

এছাড়াও কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন , সোহেল আহমেদ খান, কামাল আহমদ দুর্জয়, রুবেল রাজ, নিজাম উদ্দীন কলাপুরি, মোশাররফ হোসেন মৃদুল, মাসুম পারভেজ তারেক, হাফিজ আহমদ, শাহিদ আহমদ, আল-আমিন,  আমিনুল ইসলাম সহ সংগঠনের অন্যান্য সাধারণ সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন জনতা। বক্তারা বলেন, "সিলেটের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং এর সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এলাকার ঐতিহা ও  গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "আলী আমজাদের ঘড়ি, কীনব্রীজ, চাঁদনী ঘাটের সিঁড়ি, সার্কিট হাউস এবং সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর সারদা হল,কতোয়ালী মডেল থানা—এই সবকিছু মিলিয়েই এই চত্বরটি একটি ঐতিহ্যবাহী চত্বর। সরকার যাতে অচিরেই এই চত্ত্বরকে ঐতিহ্য  চত্ত্বর ঘোষণার মধ্যদিয়ে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এই দাবি করেন বক্তারা। গত ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার দুপুরে এক ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য (২৬) নামের র‍্যাব-৯ এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এই বিষয়টি আইনের আওতায়  সঠিক বিচারিক দাবি সকলের।

আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

আশরাফুলের ঘুষের সাম্রাজ্য :কোটি টাকা বাণিজ্যে -বদলি -হয়রানি-ওয়াস ব্লকসহ ২৫ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য, শিক্ষক হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম। তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন আদায়, নারী শিক্ষকদের যৌন হয়রানি এবং সাংবাদিক ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছে। জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ২৫ দফা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে অধিদপ্তরের শিক্ষা অফিসার (সাধারণ প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ গোয়াইনঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে তদন্ত পরিচালনা করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুল আলম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও নানা কৌশলে তিনি একই উপজেলায় বহাল থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষক বদলি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অবৈধ সংযুক্তি, পদোন্নতি, এসিআর, প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প ও স্কুল পরিদর্শন—সবকিছুকেই ঘুষ আদায়ের হাতিয়ারে পরিণত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন করে আলোচনায় এসেছে পিডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত ওয়াস ব্লক প্রকল্প। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অধিকাংশ কাজ নিম্নমানের করা হয়। অথচ প্রধান শিক্ষকদের বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হতো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রকল্প থেকেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। শুধু ওয়াস ব্লক নয়, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ থেকেও বড় অঙ্কের কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তঃউপজেলা ও অন্তঃউপজেলা বদলিকে তিনি ঘুষ আদায়ের অন্যতম বড় খাতে পরিণত করেন। বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক নারী শিক্ষিকার বদলির বিনিময়ে গরু ও মালয়েশিয়া ভ্রমণের রিটার্ন টিকিট দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। দাবি পূরণ না করায় তাকে বদলি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিটি স্কুল পরিদর্শনের পর প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলের তেলের খরচের কথা বলে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনের নামেও ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও চাকরির নিরাপত্তার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। এতে রাজি না হলে মানসিক নির্যাতন ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।এমনকি যৌন হয়রানির কারণে এক নারী শিক্ষক চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কিছু সাংবাদিককে ব্যবহার করে লাইভ প্রচার, অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হতো। ফলে দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষক আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

২৫ টি লিখিত অভিযোগের  বিষয়ে জানতে বর্তমানে ওসমানী নগরে কর্মরত  শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বেনামে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে আমাকে হয়রানি করতে। অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি কৌশলে নীরবতা পালন করেন।  নীরবতা অভিযোগের সত্যতায় সম্মতির লক্ষণ।

অন্যদিকে অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা  শিক্ষা অফিসার (সাধারণ শাখা) জিয়া উদ্দিন আহম্মদ  এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন  করবে।”

অভিযোগের  বিষয়ে জানতে  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক( তদন্ত  ও শৃঙ্খলা শাখা)  মো: আব্দুস সালাম এর  ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে  তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি অফিসের বাহিরে অভিযোগ দেখে বিস্তারিত বলতে হবে।


পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ
বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ ইমন (৩৮) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল হোসেন তার স্ত্রী পিয়ারা আক্তার খুশীকে (৩৯) প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। খুশী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি মেগারগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খুশীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। ব্যবসার কাজে ইমন প্রায়ই বাইরে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে কনস্টেবল নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইমনের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি তার নজরে এলেও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে খুশী তার সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং তালাকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল নাজমুলের পরামর্শে খুশী তার স্বামীর মালিকানাধীন ৩টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি স্টিলের নৌকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদ হাতিয়ে নেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল নাজমুল খুশীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও বিচার-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বনাথ থানা ও সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে কনস্টেবল নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ইমন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্ত্রী ও আমার কষ্টার্জিত সম্পদ ফিরিয়ে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন বলেন, “ইমনের স্ত্রী কোথায় আছেন তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।



‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬

‘রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি’

সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।

- চারবছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সর্কে চাচা। সোমবার রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।

জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল, মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।’

জাকির আরও বলেন, ‘পরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দুদিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।’

এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা ণিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।

তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি )মুজাহিদুল ইসলাম।

আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হতা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।

গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো।

সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।