শেয়ার বাজার

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় স্বজন প্রীতির অভিযোগ
প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত শাল্লায় প্রতিবাদ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত শাল্লায় প্রতিবাদ মিছিল

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ফসলহানির শিকার কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে শাল্লা উপজেলায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তালিকা প্রণয়নে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এনে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুব্রত দাসের নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বাধার মুখে তারা মিছিল নিয়ে হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর ২ নম্বর হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবলু মেম্বারের দিকে। তাদের দাবি, তালিকা প্রস্তুতের সময় যোগ্য কৃষকদের উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল হাই মেম্বারের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু মেম্বার বলেন, “সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, “যদি কোনো প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে কিংবা অযোগ্য কেউ তালিকাভুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এখনও তালিকা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।”

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করা এবং সরকারি সহায়তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু আহত ২

স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা-এ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহসানুল ইসলাম (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত আহসানুল উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আলী রহমানের ছেলে। আহতরা হলেন— একই গ্রামের তাজ ইসলামের ছেলে শিমুল মিয়া (২০) ও আমজাদ হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন। গুরুতর আহত শিমুল মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে দেলোয়ার হোসেন বাদাঘাট বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বাদাঘাট ইউনিয়নের কামড়াবন্দ গ্রামে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামড়াবন্দ গ্রামের সাজু মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে কাজ করার সময় পল্লী বিদ্যুতের মূল লাইনের ওপর একটি রড পড়ে যায়। এতে আহসানুল ইসলাম, শিমুল মিয়া ও দেলোয়ার হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহসানুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। শিমুল মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দেলোয়ার হোসেন বাড়িতে ফিরে যান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “আহসানুল এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে। এত অল্প বয়সে এভাবে তার মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের।” বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট ভিজুয়াল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের পথ সভা ও মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬

সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট ভিজুয়াল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের  পথ সভা ও মানববন্ধন

মাদক,চুরি,ছিনতাই ধর্ষণ ও হত্যাসহ ​সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সচেতন জনগোষ্ঠীর করণীয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়—এই  লক্ষ্য নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সিলেট ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্ধ্যোগে একটি পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  সিলেটের ক্বীনব্রীজের নিচে ঐতিহ্যবাহী আলী আমজাদের ঘড়ি ঘরের সামনে  আয়োজিত পথ সভায় বক্তব্য রাখেন, হাছন রাজা লোক সাহিত্য ও সাংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক অনুরাগী ডাঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী। ক্লাবের সভাপতি কামরুল চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমদ এর পরিচালনায় অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট নাট্য অভিনেতা শাহেদ মোশারফ কটাই মিয়া, হাছন রাজা লোক সাহিত্য ও সাংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সোলেমান হোসেন চুন্নু, সিলেট ভিজুয়্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডস ক্লাবের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক | ফাহিম হোসাইন,অর্থ সম্পাদক জাফর হোসেন রুবেল,দপ্তর সম্পাদক এইচ এম আয়নুল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, পারভেজ আহমদ,প্রচার সম্পাদক মোজাহিদ আহমদ, সহ-প্রচার সম্পাদক ইয়াছিন আহমদ কবির ও কার্যকরি সদস্য  হোসেন আহমেদ নয়ন। 

এছাড়াও কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন , সোহেল আহমেদ খান, কামাল আহমদ দুর্জয়, রুবেল রাজ, নিজাম উদ্দীন কলাপুরি, মোশাররফ হোসেন মৃদুল, মাসুম পারভেজ তারেক, হাফিজ আহমদ, শাহিদ আহমদ, আল-আমিন,  আমিনুল ইসলাম সহ সংগঠনের অন্যান্য সাধারণ সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন জনতা। বক্তারা বলেন, "সিলেটের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং এর সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, আমাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন নাগরিক হিসেবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

এলাকার ঐতিহা ও  গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "আলী আমজাদের ঘড়ি, কীনব্রীজ, চাঁদনী ঘাটের সিঁড়ি, সার্কিট হাউস এবং সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর সারদা হল,কতোয়ালী মডেল থানা—এই সবকিছু মিলিয়েই এই চত্বরটি একটি ঐতিহ্যবাহী চত্বর। সরকার যাতে অচিরেই এই চত্ত্বরকে ঐতিহ্য  চত্ত্বর ঘোষণার মধ্যদিয়ে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে এই দাবি করেন বক্তারা। গত ২২ মে ২০২৬ শুক্রবার দুপুরে এক ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য (২৬) নামের র‍্যাব-৯ এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এই বিষয়টি আইনের আওতায়  সঠিক বিচারিক দাবি সকলের।


পল্লবীতে আট বছরের শিশু
শিশু রামিসা ধর্ষণ–হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬

শিশু রামিসা ধর্ষণ–হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসি

পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন। রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ইচ্ছা করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে শিশু কে হত্যার নির্মমতা, বীভৎসতা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রোববার রায়ের তারিখ ধার্য করেন। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অপেক্ষাকৃত কম শাস্তির আবেদন করেন।

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মামলাটি দায়েরের চার দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত মঙ্গলবার একদিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

গত ২৪ মে বিকেলে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার বেডরুম থেকে আট বছরের ওই শিশুর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন ছিল। একটি রঙের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ মে ভোরে ওই শিশুর বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে আটক সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার দিনই আটক সোহেল রানাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০ মে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের বাসায় বাদীর পরিবার থাকত। সেদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে তাকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

গত ২০ মে সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে কে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি ইয়াবাসেবী। ঘটনার দিন দরজা খুলে সিঁড়িতে কে দেখে নিজের বাসায় ডেকে নেন। পরে জোর করে তাকে টয়লেটে নিয়ে মুখে ওড়না পেঁচিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। লাশ গুম করতে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কাঁধ থেকে হাত কেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় দরজায় কড়া নাড়া হলে তার স্ত্রী তাকে পালাতে সহায়তা করেন। পরে তিনি একটি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে বাসা থেকে পালিয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ মামলা পরিচালনা করেন।