শেয়ার বাজার

ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে  সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট মহানগরীতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী কন্যাশিশু মাইমুনা জান্নাত তোহাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে নগরীর জালালাবাদ থানাধীন পুরাতন কালারুকা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তোহা ওই এলাকার আমীর আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে মসজিদে যান শিশুটির বাবা আমীর আলী। যাওয়ার আগে ঘুম থেকে ওঠা শিশুকে দেখে স্ত্রীকে নামাজ পড়ার কথা বলে তিনি বেরিয়ে যান। নামাজ শেষে হঠাৎ ছোট ছেলের কাছ থেকে মেয়ের গলা কেটে হত্যার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন তিনি। এসে দেখেন, ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার আদরের শিশু কন্যা।

ঘটনার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ও শোক নেমে আসে। স্থানীয় লোকজন শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা সুবিনাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সুবিনা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এদিকে শামসুল হাবিব বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে শিশুটির বাবা মসজিদে থাকার সুযোগে মা ধারালো বটি দা দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন।

নিহত শিশুর বাবা আমীর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি নামাজ পড়ে এসে মেয়ের এমন অবস্থা দেখবো কখনো ভাবিনি। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনাকে “অমানবিক ও বিভীষিকাময়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।


নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

নগরীর আম্বরখানা থেকে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্যসহ এক ব্যক্তি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট নগরীর আম্বরখানা দর্শনদেউড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্য (বুঙ্গার মাল) আটক করেছে পুলিশ। এসময় এক ব্যক্তিকে আটকও করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মো. আবদুল আজিজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, কাভার্ড ভ্যানটির ভেতর ৬০ বস্তায় ১৮০০ কেজি জিরা ও ১৫ বস্তায় ৭৫০ কেজি চাপাতা ছিল। জব্দকৃত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় সোয়া ১১ লাখ টাকা। এসময় আবদুস শুকুর (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উপর সামপুর গ্রামের মৃত আইয়ূব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।



হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। জানা যায়- সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই গ্রামের ইকবাল মিয়ার পুত্র মুরাদ মিয়া (৪০) বুধবার রাত ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল। সকালে গ্রামের একটি বাশ ঝাড়ের নিচে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন- ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ যানা যাবে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।  এদিকে, মাধবপুর উপজেলার নেয়াপাড়ায় সায়হাম কোম্পানির নিকটস্থ একটি কবর স্থানের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি পুরুষ (৫২) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 
 বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার ওসি মাহবুব মোর্শেদ খান জানান- মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ, মৃতুর কারণ নিয়ে চলছে তদন্ত। 


সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ মে, ২০২৬

সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে আয়া স্বপ্নার অবৈধ ঘর ও গরুর ফার্ম: প্রশাসন নির্বিকার

সুনির্মল সেন: সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সরকারি ভূমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ ও গবাদিপশুর ফার্ম গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের আয়া পদে কর্মরত স্বপ্না বেগমের বিরুদ্ধে| প্রায় ১৬ বছর যাবত তিনি ক্লিনিকের প্রায় ১৫ শতক জমি দখলে রেখে বসবাস করছেন এবং গত ১১ বছর ধরে সেখানে অস্ট্রেলিয়ান গরুর ফার্ম পরিচালনা করছেন বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন তথ্য|

সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়—উক্ত জমিতে বসবাসের জন্য দু’টি বড় ঘর এবং আরও দু’টি ঘর গরুর ফার্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে| এই দুগ্ধ ফার্মে ছোট-বড় মিলে প্রায় ১২টি গরু রয়েছে|  এ সব দুধেল গাভীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা হবে বলে জানা গেছে |

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ ফার্মের কারণে গোবরের দুর্গন্ধে পথচারী, বিশেষ করে স্কুলুকলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে| সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবেদ ও মিজান বলেন, “স্কুলে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়| এটি পরিবেশের জন্য বড় হুমকি|” এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি ভূমিতে আয়ার এমন দখলদারিত্ব বহু বছর ধরে সকলের চোখের সামনে হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না| অভিযুক্ত স্বপ্না বেগম দাবি করেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও সিলেট জেলা সিভিল সার্জনের মৌখিক অনুমতি নিয়েই তিনি ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম করেছেন|

তিনি বলেন, “গরু পালন করি নিজের দুধের প্রয়োজনেই; ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়|” তবে স্থানীয়দের কয়েকজন জানান, তিনি নিয়মিতই দুধ বিক্রি করেন| এদিকে ক্লিনিকের একজন রোগী জানান, তারা স্বপ্না বেগমের ফার্ম থেকেই দুধ কিনে থাকেন| অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাছির উদ্দিন গত নভেম্বরে জানান, “অবৈধভাবে ঘর বা গরুর ফার্ম নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই, খোজঁ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে|” ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ ৭/৮ মাসেও তিনি সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভূমিতে অবৈধ ঘর নির্মাণ ও গরুর ফার্ম তরির ব্যপারে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি রহস্যজনক কারণে| কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে|

সচেতন মহল বিশেষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কার খুঁটির জুড়ে একজন ক্লিনিকের আায়া স্বপ্না বেগম সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সিলেট বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এর ভূমির উপর দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বাসস্থান ও দুগ্ধ গাভীর ফার্ম তৈরি করে ব্যবসা করে আসছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা|