শেয়ার বাজার

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে
হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আততায়ীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রমিকনেতা আবুল হোসেন (৩৪)। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আবুল হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরীনগর গ্রামের মৃত আক্রম আলীর ছেলে। তার তিনটি শিশু কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ধোপাগুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার খাগাইল গ্রামের একদল আবুল হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি আইসিইউতে এত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সকালে আবুল হোসেন মারা গেছেন। তার পরিবার মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।


হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জে একদিনে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। জানা যায়- সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুরাবই গ্রামের ইকবাল মিয়ার পুত্র মুরাদ মিয়া (৪০) বুধবার রাত ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল। সকালে গ্রামের একটি বাশ ঝাড়ের নিচে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ উদ্ধার করে।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন- ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ যানা যাবে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।  এদিকে, মাধবপুর উপজেলার নেয়াপাড়ায় সায়হাম কোম্পানির নিকটস্থ একটি কবর স্থানের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি পুরুষ (৫২) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 
 বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার ওসি মাহবুব মোর্শেদ খান জানান- মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ, মৃতুর কারণ নিয়ে চলছে তদন্ত। 


আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৬

আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?

সুনির্মল সেন: রামিসার জন্য আজ আর শোক নয়! রামিসা হত্যার দৃশ্যমান বিচার চাই! কঠিন থেকে কঠিনতর বিচার চাই। আর কতো শিশুর রক্ত ঝরলে এ দেশের টনক নড়বে? রামিসার বয়স কতোই বা ছিলো? এমন একটি বয়স, যখন শিশুর হাতে থাকার কথা বই, খাতা, পেন্সিল আর স্কুলব্যাগ। এমন একটি বয়স,  যখন পৃথিবীকে চেনার কথা মায়ের হাত ধরে, স্কুলের পথে, বন্ধুর হাসিতে, ছোট ছোট স্বপ্নে। অথচ সেই শিশুটিই আজ আমাদের সামনে রেখে গেছে এক ভয়াবহ প্রশ্ন! এই দেশে শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে সংঘটিত শিশু রামিসা হত্যাকান্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে আমাদের প্রশ্ন, এ নির্মম নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের বাবার বুকফাটা আর্তনাদ ও ক্ষোভের যে বিবরণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা কি সমাজের বিবেককে নাড়া দেবে? একটি সাত বছরের শিশুকে যে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে, তা আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দূর্বল দিকটি উন্মোচিত করেছে। 

এই নির্মম হত্যাকান্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশে সামাজিক মূল্যবোধের কতোটা অধঃপতন ঘটেছে। একই সাথে শিশু রামিসার বাবার ক্ষোভ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ। বস্তুত এ দায়মুক্তির সংস্কৃতি নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।

আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা দিনের পর দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পারিবারিক শত্রুতা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ কিংবা তুচ্ছ কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এখন কোমলমতি শিশুদের টার্গেট করা হচ্ছে, যা চরম বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বস্তুত শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এগুলো বহু বছর ধরে চলে আসা নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়িত্বহীনতা এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। মাদকের বিস্তারও এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।

রাজধানী পল্লবীর এ হত্যাকান্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে আমরা কতোটা ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এর কারণ যথাযথভাবে খুঁজে বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে।সাম্প্রতিক রামিসা হত্যাকান্ড সহ ইতোপূর্বের সকল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অপরাধীর দ্রুত সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এ ধরণের অপরাধ রোধে শুধু আইন বা সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য শক্তিশালী সামাজিক আন্দালন গড়ে তোলা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। যে সব কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, সেসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আর কোনো মা -বাবা ও বোনের বুক যেনো এভাবে খালি না হয়, আর কোনো পরিবারকে যেনো এমন নির্মম, নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্র ও সমাজকে। সর্বশেষে বলতে হয়, "আর কতো রামিসা মরলে আমাদের সবার টনক নড়বে?" (লেখক: কবি ও গণমাধ্যমকর্মী)


জৈন্তাপুরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬

জৈন্তাপুরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার

সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আকবর হোসেনকে (৩৬) ধর্মীয় লেবাসধারী হলেও বিকৃত মানসিকতার বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তবে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেননি।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, অভিযুক্তের কথাবার্তা চলাফেরা ও ভাবভঙ্গি দেখে আমরা প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পারি লোকটি ধর্মীয় লেবাসধারী হলেও বিকৃত মানসিকতার। তাকে গ্রেপ্তারের পরও তিনি হাসছিলেন। গ্রেপ্তারের পর আদােতে তোলা হলে আকবর আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়নি। বুধবার কিশোরীর মা বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এর পর পুলিশ আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

ওই কিশোরীর মা জানান, গত ১৮ মে রাতে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে রাতের খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে যান। তখন আকবর হোসেন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি গভীর রাতে বাড়িতে ফিরে তার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর ১৯ মে ভোর আনুমানিক ৪টা সময় মেয়ের চিৎকারে তার ঘুম ভেঙে যায়। তখন সে ভয় পেয়েছে মনে করে তিনি মেয়েকে জড়িয়ে ধরে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়েন।

এরপর সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলে মেয়ে জানায়, ভোরে তার বাবা তাকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ে জানায়, এর আগেও কয়েকবার আমার অনুপস্থিতিতে তার বাবা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। ঘটনাটি জানার পর আমি বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারসহ আত্মীয়-স্বজনদের জানালে তাদের পরামর্শে মামলা করি।

জৈন্তাপুরের ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, বিষয়টি জানার পরই আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসি। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।