শেয়ার বাজার

হবিগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

হবিগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

 নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের সময় নৌকা থেকে নদীতে পরে যাওয়া সাদেক আহমেদ পায়েল (৩০) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সুতাং নদীর অদূরে হাওরে স্থানীয় জেলেদের জালে পায়েলের মরদেহ আটকা পড়ে। পরে তারা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাখাই থানার (ওসি) মোঃ শরীফ আহমেদ। সাদেক আহমেদ পায়েল উপজেলার বামৈ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মোজাম্মেল মিয়ার পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সাদেক আহমেদ পায়েল ও তার ভাই ফরাশ মিয়া হাওরে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে যায়। ধান কেটে ফেরার পথে সুতাং নদীর কাছাকাছি এলাকায় পৌছলে হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়। হঠাৎ বজ্রপাতের বিকট শব্দে সাদেক আহমেদ পায়েল নৌকা থেকে হাওরের পানিতে পরে তলিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসি ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘন্টার পর ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালালেও তার খোঁজ মিলেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলেদের জালে মরদেহ আটকা পড়ে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে শেষ বারের মতো দেখতে বাড়িতে ভীড় জমায় সহপাঠি ও আত্মীয় স্বজনরা।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি স্থানীয়দের
কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে অবৈধ বালু বাণিজ্যে তছনছ বরমছড়া নদী

স্টাফ রিপোর্টার:: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বরমছড়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুদের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার গাছঘর, ধুপড়ীরপাড়, বতুমারা ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে বরমছড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন গাছঘর গ্রামের ইউপি সদস্য আবুল বাশার, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, মাসুক মিয়া, আব্দুল মুতলিব, জামিল মিয়া, ইউসুফ আলী, জুয়েল মিয়া, আনসার আলী, ইসমাইল আলী, দুলাল মিয়া, সাহেল মিয়া, আব্দুল হান্নান, শহীদ মিয়া, নুরুল আমিন মেম্বার, আজাদ মিয়া, জালাল মিয়া ও তৈয়্যব মিয়াসহ আরও অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নদীতীরবর্তী এলাকায় বিশাল আকারে মজুদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বতুমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এবং ধুপড়ীরপাড় বাজারসংলগ্ন এলাকায় বড় বড় বালুর স্তূপ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণ ও বসতভিটার উন্নয়নের কথা বললেও অধিকাংশ বালু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, বরমছড়া নদী একটি ছোট নদী হওয়ায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মসজিদ, বাজার ও সড়ক অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

নদীপাড়ের কয়েকজন কৃষক জানান, নদীর দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ও বোরো ধানের আবাদ হয়। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে ভারসাম্য নষ্ট হলে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, “দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসন চাইলে সহজেই বিষয়টি দেখতে পারে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং নদী রক্ষায় নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বরমছড়া নদী ও এর আশপাশের জনপদ বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে।



সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে
হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

হামলায় আহত শ্রমিকনেতা আবুল হোসেনের মৃত্যু

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আততায়ীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রমিকনেতা আবুল হোসেন (৩৪)। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। আবুল হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরীনগর গ্রামের মৃত আক্রম আলীর ছেলে। তার তিনটি শিশু কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েল ও কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ধোপাগুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার খাগাইল গ্রামের একদল আবুল হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তিনি আইসিইউতে এত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন, সকালে আবুল হোসেন মারা গেছেন। তার পরিবার মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।



পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ
বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬

বিশ্বনাথে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও মালামাল নিয়ে উধাও পুলিশের কনস্টেবল

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী আব্দুল ওয়াদুদ ইমন (৩৮) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলডোবা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলার সুরমা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, বিশ্বনাথ থানায় কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল হোসেন তার স্ত্রী পিয়ারা আক্তার খুশীকে (৩৯) প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছেন। খুশী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি মেগারগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খুশীর সঙ্গে ইমনের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকে তারা একসঙ্গে সংসার করে আসছিলেন। ব্যবসার কাজে ইমন প্রায়ই বাইরে অবস্থান করতেন। এই সুযোগে কনস্টেবল নাজমুল হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইমনের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি তার নজরে এলেও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে খুশী তার সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং তালাকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কনস্টেবল নাজমুলের পরামর্শে খুশী তার স্বামীর মালিকানাধীন ৩টি সিএনজি অটোরিকশা, একটি স্টিলের নৌকা, ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন সম্পদ হাতিয়ে নেন। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৭ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কনস্টেবল নাজমুল খুশীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক ও বিচার-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্বনাথ থানা ও সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে কনস্টেবল নাজমুল তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে আব্দুল ওয়াদুদ ইমন বলেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার স্ত্রী ও আমার কষ্টার্জিত সম্পদ ফিরিয়ে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল নাজমুল হোসেন বলেন, “ইমনের স্ত্রী কোথায় আছেন তা আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।” এ ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ সুপারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা নির্ধারণ করা হবে।