শেয়ার বাজার

শাল্লায় গরু
জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের মনুয়া গ্রামে তিনটি গরু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামের মুশাহিদ মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাছম আলী বাদী হয়ে শাল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে মনুয়া গ্রামের পশ্চিম পাশের দেওয়ালের কান্দা এলাকায় চরে থাকা তিনটি গরু নৌকাযোগে তুলে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। এ সময় তাদের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে বলা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনুয়া গ্রামের মো. শামছু মিয়া, আব্দুল করিম, মো. রাশেল মিয়া, মো. বিলশ মিয়া ও মো. মোহন মিয়া জানান, তাদের সামনেই ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি মাঠ থেকে গরুগুলো তুলে নৌকায় নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্তরা হুমকি দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তারা আর কোনো বাধা দেননি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুশাহিদ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ভাই মুজাহিদ মিয়া ফোন রিসিভ করেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তাদের গ্রামে সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের গরু তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা ছিল। সে কারণেই তারা গরুগুলো নিয়ে এসেছেন।

শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই শওকত আলী ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ মে, ২০২৬

ফজরের নামাজে বাবা রক্তাক্ত লাশ ঘরে  সিলেটে দেড় বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা, মা আটক

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট মহানগরীতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনায় মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী কন্যাশিশু মাইমুনা জান্নাত তোহাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে নগরীর জালালাবাদ থানাধীন পুরাতন কালারুকা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত তোহা ওই এলাকার আমীর আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে মসজিদে যান শিশুটির বাবা আমীর আলী। যাওয়ার আগে ঘুম থেকে ওঠা শিশুকে দেখে স্ত্রীকে নামাজ পড়ার কথা বলে তিনি বেরিয়ে যান। নামাজ শেষে হঠাৎ ছোট ছেলের কাছ থেকে মেয়ের গলা কেটে হত্যার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন তিনি। এসে দেখেন, ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার আদরের শিশু কন্যা।

ঘটনার খবর মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ও শোক নেমে আসে। স্থানীয় লোকজন শিশুটির মা সুবিনা বেগমকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা সুবিনাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সুবিনা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি স্বাভাবিক হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তা হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এদিকে শামসুল হাবিব বলেন, স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে শিশুটির বাবা মসজিদে থাকার সুযোগে মা ধারালো বটি দা দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন।

নিহত শিশুর বাবা আমীর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি নামাজ পড়ে এসে মেয়ের এমন অবস্থা দেখবো কখনো ভাবিনি। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এ ঘটনাকে “অমানবিক ও বিভীষিকাময়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।



সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুন, ২০২৬

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার::কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩নং তেলিখাল ইউনিয়নের চাটিবহর গ্রামের মাঝপাড়ায় এঘটনা ঘটে গত (৩১মে) চাটিবহর মাঝপাড়ার মৃত আরাফাত আলীর ছেলে ফজর আলীর পৈত্রিক বসতবাড়ির জায়গায় প্রতিবেশী আসমত আলী ফেরাই (৬০) রুসমত আলী(৫৫) আবদাল হোসেন(৩০)নাজির হোসেন(২৬) আবুল হোসেন(২৮)আকরাম হোসেন(২৫) সর্ব পিতা আসমত আলী ফেরাই গংরা জোরপূর্বক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তিনতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ করে যাচ্ছেন।

মামলার বাদী ফজর আলী বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশের শরণাপন্ন হন। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সুজন কর্মকার পুলিশের এসআই আবুল কালাম সহ পুলিশের একটি ফোর্স পাঠান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও শান্তি ভঙ্গ না করার অনুরোধ করেন। বাদী ফজর আলী অভিযোগ করে বলেন,পুলিশের সামনেই বিল্ডিং নির্মাণকারী আসমত আলী ফেরাইর লোকজন মারামারি সংঘটিত করেন।

এতে নারী শিশু ছাত্র তার ছোট ভাই মজর আলী সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। উল্লেখ যে এর আগে বিগত (২৩-০২-২০২৬-ইং) তারিখে জায়গার মালিক ফজর আলী বাদি হয়ে সিলেটের এ,ডি,এ,ম কোর্টে উপরোল্লিখিত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং১২/২৬। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি শোনে তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও নারী,শিশু,বৃদ্ধা, আহত করা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান করছি। মামলার দায়িত্বে থাকা এসআই আবুল কালাম,জানান আমরা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবো যেহেতু আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

এবিষয় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত সুজন কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করবে  থানা পুলিশ।


সিলেটে প্রবাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে
খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর মৌজা, জে এল নং-৭০ এর আওতাধীন সরকারি খাস জমির ১৪২ ও ২০০১ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১২ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে ফাঁকা ওয়ালের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক খাস জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। খাদিম এলাকার এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি খাস জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। অথচ প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে। প্রশাসনের নীরবতায় ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহজাহানের ব্যবহৃত বিদেশি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সরকারি খাস জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিলেটজুড়ে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।