শেয়ার বাজার

সিলেটে প্রবাসী শাহজাহানের বিরুদ্ধে
খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানাধীন খাদিম এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শাহজাহান নামে ওই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ভূমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর মৌজা, জে এল নং-৭০ এর আওতাধীন সরকারি খাস জমির ১৪২ ও ২০০১ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ১২ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে সেখানে ফাঁকা ওয়ালের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা অনুমোদন ছাড়াই এই নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে একের পর এক খাস জমি দখলের ঘটনা ঘটছে। খাদিম এলাকার এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “সরকারি খাস জমি সাধারণ মানুষের সম্পদ। অথচ প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে। প্রশাসনের নীরবতায় ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনটি ঘিরে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহজাহানের ব্যবহৃত বিদেশি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সরকারি খাস জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সিলেটজুড়ে সরকারি খাস জমি দখলের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান ও নিয়মিত নজরদারি না থাকলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বাধা দেওয়ায় দাদি খুন

সিলেটের গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ১৪ বছর বয়সী নাতনিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার সময় বাঁধা দেওয়ায় দাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মা-মেয়েসহ আরও ২জন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বীরমঙ্গল হাওর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে গোয়াইনঘাট থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

জানা যায়, রাতে ঘরের একটি কক্ষে মায়ের সঙ্গে ঘুমিয়েছিল কিশোরী নাতনি (১৪)। আর্ত চিৎকারে দাদি গিয়ে দেখেন একদল লোক কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। তা ঠেকাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে দাদি এলাকাবাসীকে ডাকেন। ‍এসময় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে মারা যান কিশোরীর দাদি।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত দাদি হচ্ছেন দিলারা বেগম (৫৪)। তিনি মৃত মাহমুদ হোসেনের স্ত্রী। দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত নাতনি (১৪) ও তার মা আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করেছে বলে দাবি করলেও শনিবার বিকেল (৫টা) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরী চিৎকার করতে থাকলে তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখাতে গিয়ে হাতে জখম করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। দুর্বৃত্তরা তার বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাৎক্ষণিক এ দৃশ্য দেখে দুর্বৃত্তরা কিশোরীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের এক আত্মীয় জানান, গভীর রাতে এমন দুর্বত্তপনায় পুরো এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা হচ্ছিল। আহত কিশোরী তার চোখের সামনে দাদির হত্যাকাণ্ড দেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।  কিশোরীর চিৎকার শুনে তার মা সাজনা বেগম এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তার হাতে কামড় দেয়। একপর্যায়ে কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের রুম থেকে তার দাদি দিলারা বেগম বের হয়ে আসেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানান, একটি টিনের ঘরে দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি এবং ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের দুই ছেলে কয়েক মাস আগে ঋণ করে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দিলারা বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। অন্য আরেকটি স্থানে জখমি অবস্থায় পড়ে ছিলেন ওই কিশোরী ও তার মা।

আহত সাজনা বেগম জানান, রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় দেখতে পান, এক ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চড়াও হয়েছে। বাধা দিলে ওই ব্যক্তি মেয়ের মুখ চেপে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির সময় তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং  মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।

কিশোরীকে তুলে নেওয়া বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো ঘটনা নয় বলে দাবি করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢোকে কিশোরীকে অপহরণের উদ্দেশ্যে এ ঘটতে পারে। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুুলিশ কিশোরীর দাদি দিলারার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘নিহতের এক সন্তান প্রবাসী। তার সঙ্গে টাকার বিরোধ নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে এ টুকু জানা গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’


প্রশ্নবিদ্ধ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখা”
“ঘুষ, দালাল ও ঋণ অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬

“ঘুষ, দালাল ও ঋণ অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা সুনামগঞ্জে প্রবাসীদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুব মান্নান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঋণ বিতরণে অনিয়ম, দালালচক্রের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন, অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ঋণ সংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থাপক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পছন্দের কিছু ব্যক্তির মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, ঋণ পেতে নির্দিষ্ট কিছু দালালের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষের বিনিময়ে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শাখা ব্যবস্থাপক নিয়মিত অফিস সময় পালন করেন না। সরকারি নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলেও তিনি প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন এবং সময়ের আগেই চলে যান। ফলে সেবাগ্রহীতাদের নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ধর্মপাশা উপজেলার এক ঋণগ্রহীতার (ফাইল নং-১৩৫৫০৬০০২১৯) ঋণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি ঋণ ফাইল (নং-০১৩৫৫০৬০০০২১৪) নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে ওই ঋণের কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, সরকারের ঘোষিত সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, ঋণ পেতে দালাল ও বিভিন্ন মহলের সুপারিশের প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি ঋণ, এসএমই ঋণ এবং প্রবাসী পুনর্বাসন ঋণ কার্যক্রমও প্রত্যাশিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এদিকে, বিদেশে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন ঋণ সুবিধা বাস্তবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক সেবাগ্রহীতা।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা বা ব্যাংক গ্যারান্টি সংক্রান্ত তথ্য জানতে ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করলেও তারা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। তাদের মতে, সরকারের ঘোষিত সুবিধা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুব মান্নান চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমি নিয়মিত অফিস করি এবং ব্যাংকের সকল কার্যক্রম বিধি-বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।” বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত ঋণ সুবিধা বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিদেশে ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্য ঋণ কার্যক্রমও ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়।”

তবে সরকারের ঘোষিত সুবিধা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে বৈপরীত্যের অভিযোগ উঠেছে, তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।


র‌্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জে
৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬

৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক :সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ বোতল বিদেশি মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৯। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বেড়েরগাঁও এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই র‌্যাব মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩ সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও এলাকার একটি বসতবাড়িতে বিদেশি মদ মজুদ করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে র‌্যাবের দলটি ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ঘরের খাটিয়ার নিচে রাখা দুটি কালো পলিথিন ব্যাগ তল্লাশি করে ৪৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বেড়েরগাঁও গ্রামের মো. এরশাদ আলী (৪২)। তিনি জালাল উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলী র‌্যাবকে জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত আলামতসহ তাকে বিশ্বম্ভরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র‌্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।