শেয়ার বাজার

সিলেট
কিশোরীকে ধর্ষণ গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

কিশোরীকে ধর্ষণ গ্রেপ্তার ২

সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানাধীন জালালাবাদ ইউনিয়নের ১৫ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় থানা পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব । তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ’


হবিগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬

হবিগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

 নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের লাখাইয়ে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের সময় নৌকা থেকে নদীতে পরে যাওয়া সাদেক আহমেদ পায়েল (৩০) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সুতাং নদীর অদূরে হাওরে স্থানীয় জেলেদের জালে পায়েলের মরদেহ আটকা পড়ে। পরে তারা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাখাই থানার (ওসি) মোঃ শরীফ আহমেদ। সাদেক আহমেদ পায়েল উপজেলার বামৈ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মোজাম্মেল মিয়ার পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে সাদেক আহমেদ পায়েল ও তার ভাই ফরাশ মিয়া হাওরে নৌকা নিয়ে ধান কাটতে যায়। ধান কেটে ফেরার পথে সুতাং নদীর কাছাকাছি এলাকায় পৌছলে হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়। হঠাৎ বজ্রপাতের বিকট শব্দে সাদেক আহমেদ পায়েল নৌকা থেকে হাওরের পানিতে পরে তলিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসি ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘন্টার পর ঘন্টা উদ্ধার অভিযান চালালেও তার খোঁজ মিলেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলেদের জালে মরদেহ আটকা পড়ে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে শেষ বারের মতো দেখতে বাড়িতে ভীড় জমায় সহপাঠি ও আত্মীয় স্বজনরা।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ১০.৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ১০.৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে ১০ দশমিক ৫ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানায়, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ গ্রেফতারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সহিংসতা প্রতিরোধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

র‌্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল গত ২১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সবুজ রঙের সিএনজিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নবীনগরের দিকে যাওয়া হচ্ছে। পরে র‌্যাবের দলটি সদর থানার সাদিকপুর ইউনিয়নের চিলোকুট এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে।

দুপুর ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন সিএনজিটিকে থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি তার কাছে গাঁজা থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেখানো মতে সিএনজির সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার থেকে নীল পলিথিন ও খাকি স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ১০.৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন- মোঃ সোহেল (৪০), পিতা মৃত আব্দুল মান্নান, গ্রামের বাড়ি রামধননগর, থানা আখাউড়া, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে তা বহন করছিলেন। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি শেষে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও জব্দকৃত আলামত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।



আবারও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬

আবারও  ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

মৌলভীবাজারে আবারও হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপ ও জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় কয়েকটি বাস আড়াআড়িভাবে রেখে মহাসড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন পরিবহন শ্রমিকরা। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে নারী, শিশু, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের আশ্বাসে দুপুর ২টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা।

হবিগঞ্জ জেলা মটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুহেল চৌধুরী জানান, গত ১৪ মে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার হয়ে সিলেট রুটে পুনরায় বিরতিহীন বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতি’-র লোকজন হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস সার্ভিসের কয়েকটি বাস আটকে চালক ও স্টাফদের মারধর করে। তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছি। প্রশাসন যদি কার্যকর সমাধান দিতে পারে তাহলে গাড়ি চলবে, অন্যথায় আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে পেশিশক্তির মাধ্যমে বারবার হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে মৌলভীবাজারে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে বাস আটকানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি প্রশাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞার শামিল।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে বিরতিহীন বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ বিরতিহীন পরিবহন ও মৌলভীবাজার এসএমএস বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েকদিন আগেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জের বাস আটক ও চালকদের মারধরের ঘটনায় টানা দুই দিন হবিগঞ্জ থেকে সিলেটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। জরুরি চিকিৎসা, চাকরি, পরীক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি কেউ বিবেচনায় নিচ্ছে না। ভুক্তভোগী যাত্রীরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দুই জেলার বাস মালিক সমিতির বিরোধের দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে? ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য গাড়ি আটক করে বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো দাবি আদায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করবে। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘বর্তমানে মহাসড়কে কোনো অবরোধ নেই। স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অবরোধ এখন আর নেই। হবিগঞ্জের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকে বসেছি। সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে।’